মাইন বিস্ফোরণের দায় অস্বীকার, একই দিনে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ নর্থ কোরিয়ার

ছবি: সংগৃহীত
সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্ষমা চাওয়ার জন্য সাউথ কোরিয়ার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে নর্থ কোরিয়া। একই দিনে পূর্ব উপকূল থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে পিয়ংইয়ং।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সাউথ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, নর্থ কোরিয়ার পূর্ব উপকূলীয় ওনসান এলাকা থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি ৭০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে পূর্ব সাগরের দিকে যায়। এই জলভাগটি জাপান সাগর নামেও পরিচিত।
সাউথ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটির সুনির্দিষ্ট ধরন ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। উৎক্ষেপণ নিয়ে সাউথ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান ঘনিষ্ঠভাবে তথ্য বিনিময় করছে এবং প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার রেখেছে।
এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর দুই কোরিয়ার সীমান্তবর্তী অসামরিকীকৃত অঞ্চল (ডিএমজেড) এলাকায় টহলের একটি পথ পরিষ্কারের সময় মাইন বিস্ফোরণে সাউথ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হন। তাঁদের মধ্যে দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
সাউথ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ কমান্ডের যৌথ তদন্তে বলা হয়েছে, নর্থ কোরিয়ার পুঁতে রাখা মাইনের কারণেই বিস্ফোরণটি ঘটেছে। সিউলের দাবি, সীমান্তের দক্ষিণ পাশে নর্থ কোরিয়ার সেনাদের পুঁতে রাখা মাইন থেকেই বিস্ফোরণ হয়েছে।
তবে পিয়ংইয়ং এ ঘটনায় নিজেদের দায় অস্বীকার করেছে। শুক্রবার নর্থ কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জংও বিস্ফোরণের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।
সাউথ কোরিয়া ঘটনাটিকে ১৯৫৩ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে নর্থ কোরিয়াকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় মাইন পোঁতা ও প্রতিরক্ষা অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধেরও আহ্বান জানায় সিউল।
১৯৫৩ সালের যুদ্ধবিরতির পর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার প্রশস্ত ডিএমজেড দুই কোরিয়াকে আলাদা করে রেখেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় বিপুলসংখ্যক স্থলমাইন পুঁতে রাখা হয়েছে।
২০২৪ সালে কিম জং উন সাউথ কোরিয়াকে নর্থ কোরিয়ার ‘প্রধান শত্রু’ হিসেবে ঘোষণা করার পর সীমান্ত বিচ্ছিন্ন করার কার্যক্রম জোরদার করে পিয়ংইয়ং। এর অংশ হিসেবে সীমান্ত এলাকায় মাইন পোঁতার পাশাপাশি ট্যাংক চলাচল ঠেকাতে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধক নির্মাণ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাউথ কোরিয়ার উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগের জবাবে শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে নর্থ কোরিয়া। সাবেক ইউনিভার্সিটি অব নর্থ কোরিয়ান স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট ইয়াং মু-জিনের ভাষ্য, সিউল উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানালেও পিয়ংইয়ংয়ের জবাব পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করেছে।





