হরমুজ প্রণালী ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা চরমে পৌঁছানোর মধ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরান যদি আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রি করতে না পারে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোনো দেশকেও তেল রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
গতকাল বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, বর্তমান সংঘাত এখন ‘সব অথবা কিছুই না’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, আমরা যদি তেল বিক্রি করতে না পারি, তাহলে এই অঞ্চলে অন্য কেউও তেল বিক্রি করতে পারবে না। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনো অবকাঠামোও নিরাপদ থাকবে না। হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অনুপস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। গালিবাফ আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি আর যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে না।
ইরানের এই হুঁশিয়ারি আসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন সতর্কবার্তার পর। ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালীতে ইরান যদি কোনো জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট বা ড্রোন হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র জবাবে ইরানের একটি করে সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালাবে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ইরানের প্রতিটি হামলার জবাবে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানা হবে।
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্য নিয়ে টানা দ্বাদশ দিনের মতো ইরানে বিমান হামলা চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে ইরান ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতি অনুসরণ করবে এবং কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, পশ্চিমাঞ্চলের আহওয়াজ, রামশির ও আন্দিমেস্ক এলাকায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। অন্যদিকে কুয়েতের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে আসা বলে দাবি করা ড্রোন প্রতিহত করছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন হামলার জবাবে ইরান প্রতিবেশী কয়েকটি উপসাগরীয় দেশের জ্বালানি অবকাঠামো ও পানি শোধনাগারকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা শুরু করেছে।







