রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য আবাসিক হল রয়েছে ১৭টি। এর মধ্যে ১১টি ছাত্র হল অন্যদিকে ছাত্রী হল রয়েছে ৬টি। এসব হলে প্রায় ১০ হাজার আবাসিক শিক্ষার্থী বাস করেন। তবে অগ্নিকাণ্ডের মত দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে হলগুলোতে কোনো ধরনের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নেই। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছে শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলগুলোতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী অবস্থান করে। ফলে তাদের অসাবধানতাবশত যেকোনো মুহূর্তে আগুন লেগে যেতে পারে। কিন্তু সেই আগুন নেভানোর জন্য হলগুলোতে কোনো অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নেই। প্রতিটি হলে অন্তত ৫টি করে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে পুরো ক্যাম্পাসে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র স্থাপনের জন্য ৮০০টি যন্ত্র কেনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতাল-উল-ইসলাম। সে যন্ত্রগুলোর মধ্যে প্রতিটি হলে কমপক্ষে ৩ থেকে ৫টি স্থাপন করার কথা। তবে হলগুলোতে কেন এখনো যন্ত্র লাগানো হয়নি সেটি প্রাধ্যক্ষ পরিষদ জানেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক বলছেন, ‘অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের জন্য প্রশাসনের কাছে গেলে বিষয়টি সময়সাপেক্ষ হবে। তাই হল ফান্ড থেকেই তারা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ক্রয় করবেন।’
আবাসিক হল সূত্রে জানা যায়, ১৭টি আবাসিক হলের অধিকাংশ কক্ষেই শিক্ষার্থীরা খাবার রান্নার জন্য বৈদ্যুতিক হিটার ব্যবহার করে থাকেন। যা অনেকটা অনিরাপদ। এতে শর্টসার্কিটের মাধ্যমে কিংবা অসাবধানতায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আবাসিক হলের ক্যান্টিন ও ডায়নিংয়ের রান্নাঘর থেকেও যে কোনো সময় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। এমনকি মশার কয়েল কিংবা সিগারেটের ছাই থেকেও আগুন ছড়াতে পারে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ আমীর আলী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী দিলবর হোসেন বলেন, এত বড় একটি আবাসিক হলে কোনো অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নেই এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। যেকোনো সময় হলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে যেতে পারে। প্রতিটি আবাসিক হলে অনেক শিক্ষার্থী থাকে। অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র না থাকায় সবার মধ্যেই এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করে। জরুরি মুহূর্তে ফায়ার সার্ভিসকে ডাকা হলেও তারা তুলনামূলক দেরিতে আসে। শিক্ষার্থীদের অসুবিধার কথা চিন্তা করে প্রতিটি হলে অন্তুত ৫টি করে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র স্থাপনের দাবি জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি শাকিল হোসেন বলেন, কিছুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখশ হলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেখানে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থাকলে আগুন যথাসময়ে নেভানো যেত। অনেক শিক্ষার্থী বৈদ্যুতিক হিটারে রান্না করে খাবার খায়। এতে যেকোনো মুহূর্তে অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। যতদ্রুত সম্ভব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিৎ আবাসিক হলগুলোতে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের ব্যবস্থা করা।
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক খোন্দকার শাহরিয়ার রহমান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রগুলো কেনা হয়েছে। যন্ত্রগুলোর তালিকা করা হচ্ছে, কোথায় কতটা যন্ত্র বসানো হবে। আশা করা যায়, তালিকা সম্পন্ন হলে আগামী সপ্তাহ থেকে যন্ত্রগুলো লাগানো হবে।
প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক একরামুল ইসলাম চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, এবিষয়ে আমরা ইতোমধ্যেই আলোচনা করেছি। সামনের মিটিংয়ে আমরা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের বিষয়টি এজেন্ডাভুক্ত করবো। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে অনেক শিক্ষার্থী থাকে। এ ব্যপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে গেলে বিষয়টি অনেক সময়সাপেক্ষ হবে। তাই শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে প্রাধাক্ষ্য পরিষদের পক্ষ থেকে হলের নিজস্ব ফান্ড থেকে আমরা হলগুলোতে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দেয়ার ব্যবস্থা করবো।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, এবছর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে ৮০০টি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র কেনা হয়েছে। প্রত্যেকটি হলে ২টা কিংবা ৫টা করে সিলিন্ডার পাওয়ার কথা। এবিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ পরিষদ বিস্তারিত জেনে থাকবেন। আমি যতটুকু জানি আবাসিক হলগুলোতে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র লাগানো শুরু হয়েছে। তারপরেও আমি খোঁজ নেব প্রত্যেকটি হলে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র লাগানো হয়েছে কিনা।








