এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
ভারতের মধ্যপ্রদেশের বৃহত্তম সরকারি হাসপাতাল ব্যবস্থার মধ্যে ঘটেছে হৃদয়বিদারক এক ঘটনা। তীব্র রোদের মধ্যে ১২ বছর বয়সি এক শিশুকে স্ট্রেচারে করে প্রায় এক কিলোমিটার পথ ঠেলে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে নিতে বাধ্য হয়েছেন তার বাবা-মা। ঘটনাটি রাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ইন্দোরের মহারাজা যশবন্তরাও (এমওয়াই) হাসপাতাল ও সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের মধ্যবর্তী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মেরুদণ্ডজনিত সমস্যায় আক্রান্ত ১২ বছর বয়সী আদর্শকে এমওয়াই হাসপাতাল থেকে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে রেফার করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, হাসপাতালে কোনো ওয়ার্ডবয়, সহকারী কর্মী কিংবা রোগী পরিবহনের ব্যবস্থা না থাকায় শিশুটির বাবা-মাকেই স্ট্রেচার ঠেলে নিয়ে যেতে হয়। প্রচণ্ড গরমে শিশুটির মা বারবার নিজের ওড়না পানিতে ভিজিয়ে ছেলের শরীরের ওপর রাখছিলেন, যাতে রোদ থেকে কিছুটা সুরক্ষা পাওয়া যায়। অন্যদিকে বাবা স্ট্রেচার টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন।
পরিবারটির দাবি, গত প্রায় ১৫ দিন ধরে আদর্শের চিকিৎসা চলছিল এবং তিনি আগে এমওয়াই হাসপাতালের নিউ চেস্ট ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন। পরে মেরুদণ্ডের সমস্যার কারণে তাকে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা জানান, শিশুটিকে ভর্তি করার প্রয়োজন নেই, শুধু তার চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিপত্র পরীক্ষা করা হবে। এরপর পরিবারটিকে আবার নিজ উদ্যোগে স্ট্রেচারে করে আদর্শকে এমওয়াই হাসপাতালে ফিরিয়ে আনতে হয়।
ঘটনার বিষয়ে এমওয়াই হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডা. অশোক যাদব বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। ভিডিওটি চাচা নেহরু শিশু হাসপাতালের আশপাশের এলাকা বলে মনে হচ্ছে। তাই শিশুটিকে এমওয়াই হাসপাতাল নাকি চাচা নেহরু হাসপাতাল থেকে রেফার করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ডা. পীযূষ পাঞ্চারিয়া জানান, তিনি অস্ত্রোপচারে ব্যস্ত ছিলেন। শিশুটি সেখানে ভর্তি হয়েছিল কি না এবং তার শারীরিক অবস্থা কী ছিল, তা জানতে তদন্ত চলছে।
এটি এমওয়াই হাসপাতালকে ঘিরে প্রথম বিতর্ক নয়। চলতি বছরের মার্চে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, রোগীদের স্বজনরাই হাসপাতালের ভেতরে স্ট্রেচার ও হুইলচেয়ারে করে রোগী পরিবহন করছেন। এর আগে ফেব্রুয়ারিতেও একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে হাসপাতালের প্রধান ফটক বন্ধ থাকায় কয়েকজন নারীকে রাস্তার ওপর দিয়ে স্ট্রেচারে রোগী ঠেলে নিতে দেখা যায়।
শিশুদের চিকিৎসা নিয়েও সম্প্রতি একাধিক বিতর্কের মুখে পড়ে হাসপাতালটি। জানুয়ারিতে এক নার্সের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, আইভি ক্যানুলা অপসারণের সময় দেড় মাস বয়সী এক শিশুর বৃদ্ধাঙ্গুল কেটে ফেলেন তিনি। পরে শিশুটির আঙুল পুনঃসংযোজনের জন্য জরুরি অস্ত্রোপচার করতে হয় এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এর কয়েক মাস আগে হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ)-এ দুটি নবজাতক ইঁদুরের কামড়ে আহত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেখানে ইঁদুরের উপদ্রব থাকার বিষয়টি স্বীকার করে এবং পরে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়। এছাড়া নবজাতকদের মৃত্যুর ঘটনায়ও ইঁদুরের কামড়কে দায়ী করে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ তুললেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অন্যান্য চিকিৎসাজনিত জটিলতাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তা অস্বীকার করে।







