ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যায়লয়ে তড়িৎ প্রকৌশল বিষয়ে শিক্ষার্থী নিশাত মুন্না (২০)। ২০২২ সালের শুরুর দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি গ্রুপের বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন দেখে অনলাইন জুয়ার প্রতি আসক্ত হন তিনি।
এছাড়াও অনলাইনে বেটিং সাইটের প্রসারের জন্য ভিডিও বানাতে নিশাতকে দেশের বাইরের বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার প্লাটফর্ম থেকে প্রস্তাব দেয়া হয়। এরজন্য ভিডিও প্রতি তাকে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেওয়া হয়। এরপরই নিশাত অধিক অর্থ লাভের আশায় বিভিন্ন বেটিং সাইটের প্রচার ও অন্যান্য কার্যক্রমের সাথে জড়িত হয়।
এতে করে সে নিজেও অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম শুরু করে। গত দেড় বছর ধরে বাংলাদেশ এজেন্ট হিসেবে অনলাইনে বিভিন্ন সাইটে জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল নিশাত মুন্না।
যুবকদের অনলাইন জুয়া অর্থ আয়ের লোভ দেখিয়ে বিভিন্ন একাউন্ট তৈরি করের জন্যও একটি চক্র গড়ে তুলে নিশাত। তার চক্রের ৮ সদস্যদের মধ্যে চক্রের মুলহোতা নিশাত মুন্না ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গতকাল সোমবার (২৩ অক্টোবর) রাতে গাজীপুরের শ্রীপুর ও রাজধানীর মালিবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দেশের বাহির থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার সাইটের কার্যক্রম দেশে পরিচালনার মাধ্যমে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া একটি চক্রের মুলহোতাসহ চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র্যাব সদর দপ্তর গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-১ এবং র্যাব-১১ এর যৌথ টিম।
চক্রের গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন- মূলহোতা মো. নিশাত মুন্না (২০), মো. কামরুল ইসলাম শুভ (২৭), মো. সুমন (৩৫), মো. নাজমুল হোসেন বাবু (৩১)। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ১৬টি মোবাইল ফোন, ১৮টি সিম কার্ড, ১টি সিপিইউ, ১টি মনিটর উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, বিগত দেড় বছর ধরে চক্রটি বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার সাইটের বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনার সাথে জড়িত। দেশের বাহির থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার সাইটের দেশীয় কার্যক্রম পরিচালনার অন্যতম মূলহোতা নিশাত মুন্না। তার নেতৃত্বে চক্রের ৭-৮ জন সদস্য বাংলাদেশে বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার সাইটের প্রচার, একাউন্ট খোলা, মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে অর্থ লেনদেন হুন্ডির মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী দেশে অর্থ পাঠানোর সাথে জড়িত ছিল।
তিনি বলেন, মূলত ফুটবল বিশ্বকাপ, ক্রিকেট বিশ্বকাপ, আইপিএল, বিপিএল, বিভিন্ন ফুটবল লীগ, টুর্নামেন্ট ও অন্যান্য খেলাকে কেন্দ্র করে দেশেরে উঠতি বয়সের তরুণদেরকে টার্গেট করে এই অনলাইন জুয়ার প্রচার করতো চক্রটি। এ চক্রের কেউ বিভিন্ন বিদেশী বেটিং সাইটের বাংলাদেশের প্রচারের কাজ করে আগ্রহী ব্যক্তিদের বিভিন্ন সাইটের একাউন্ট খুলে দিত। আবার কেউ একাউন্ট করা ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তা হুন্ডির মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার প্লাটফর্ম পরিচালনাকারীর কাছে পাঠাতো।
র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, তারা বিভিন্ন ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করে কন্টেন্টের সাথে জুয়ার সাইটের বিজ্ঞাপন, সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে বেটিং সাইটের বিজ্ঞাপন, সরাসরি মানুষের কাছে বলার মাধ্যমে এই জুয়ার সাইটের প্রচারের কার্যক্রম পরিচালনা করত। পরে বিজ্ঞাপন দেখে আগ্রহী ব্যক্তিরা তাদের সাথে যোগাযোগ করে একাউন্ট খুলত তাদের পাঠানো লিংকের মাধ্যমে একাউন্ট খুলত। কোন নতুন গ্রাহক তাদের মাধমে বেটিং সাইটে একাউন্ট খুললে তারা কমিশন পেত। তারা বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার সাইটের কার্যক্রম দেশে পরিচালনার সাথে জড়িত ছিল। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বা বিটিআরসি কর্তৃক অনলাইন জুয়া বা বাজি সংক্রান্ত বিভিন্ন অ্যাপস এবং ওয়েবসাইট ইতোপূর্বে বন্ধ করা হলে তারা ডোমেইন পরিবর্তন করে পুনরায় অনলাইন প্লাটফর্মগুলোতে জুয়া চালু করে।
র্যাব বলছে, চক্রটি নামে বেনামে একাধিক সিম সংগ্রহ করে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে গ্রাহকদের নিকট হতে অনলাইন জুয়ার অর্থ সংগ্রহ করতো এবং প্রাপ্ত অর্থ থেকে নিজেদের লভ্যাংশ রেখে অবশিষ্ট টাকা তারা হুন্ডির মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী দেশে অনলাইন জুয়ার প্লাটফর্ম পরিচালনাকারীর নিকট পাঠাতো বলে জানায়। তারা নিজেদের প্রাপ্ত লভ্যাংশের টাকা দিয়ে অনলাইনে জুয়া খেলতো এবং লভ্যাংশের টাকা জুয়া খেলে নষ্ট করতো বলে জানায়। তারা অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট থেকে অদ্যাবধি অর্ধ কোটি টাকার অধিক অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানা যায়।








