চনমনে মেজাজেই সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন কেন উইলিয়ামসন। কিউই অধিনায়ক সেমিফাইনালের আগে বেশ প্রাণচঞ্চল ও হাস্যোজ্জ্বল ছিলেন। ভারতের বিপক্ষে ফাইনালের টিকিট কাটার লড়াইটা কঠিন হবে জেনেও বেশ আশাবাদী থাকলেন অভিজ্ঞ তারকা।
ম্যাচের আগেরদিন মঙ্গলবার শেষ চারের লড়াই নিয়ে উইলিয়ামসন বললেন, ‘আমরা জানি, এটা আসলেই কঠিন চ্যালেঞ্জ। এবার ফাইনালের পালা। একটা দিনে ভালো খেলার ব্যাপার। নিজেদের খেলার দিকেই আবারও মনোযোগ রাখছি। চ্যালেঞ্জের জন্য আমি রোমাঞ্চিত।’
মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে বুধবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে প্রথম সেমিফাইনাল। ভেন্যুটি সবসময় ব্যাটিং সহায়ক। কিছুটা পেস ও বাউন্স থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক জানালেন, পিচ দেখে একাদশ সাজানো হবে। স্কোয়াডে থাকা ১৫ জনের সবাই ফিট আছেন।
২০০০ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতকে হারিয়ে প্রথমবার আইসিসির বৈশ্বিক কোনো আসরের শিরোপা জিতেছিল নিউজিল্যান্ড। চার বছর আগে ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে টিম ইন্ডিয়াকে হারানোর সুখস্মৃতিও আছে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম আসরে ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল কেন উইলিয়ামসনের দল।
বড় আসরে ভারতের জন্য সবসময়ই নিউজিল্যান্ড ম্যাচ কঠিন হয়ে ওঠে। ব্ল্যাক ক্যাপস অধিনায়কের ভাষ্য, ‘টুর্নামেন্টের সব ম্যাচই কঠিন। দুই দলেরই গুণগত মান আছে। আমাদের স্বচ্ছ ও পরিষ্কার পরিকল্পনা থাকবে।’
ব্যাট হাতে চলতি বিশ্বকাপে রাতারাতি নায়ক হয়ে উঠেছেন রাচীন রবীন্দ্র। কিউই তারকা ৭০.৬৩ স্ট্রাইকরেটে ৯ ম্যাচে ৫৬৫ রান করেছেন। লিগপর্বে পেয়েছেন ৩ সেঞ্চুরি ও দুই হাফ-সেঞ্চুরি। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন সর্বোচ্চ ১২৩ রানের অপরাজিত ইনিংস। বল হাতেও ছিলেন কার্যকরী। ৫.৬৮ ইকোনমি রেটে তুলেছেন ৫ উইকেট। রাচীনকে নিয়ে আনন্দিত উইলিয়ামসন বললেন, ‘আসলেই দুর্দান্ত। চমৎকার অবদান রেখেছে।’
প্রতিপক্ষ দলের সূর্যকুমার যাদবের প্রশংসা করেছেন কিউই অধিনায়ক। বলেছেন, ‘ব্যতিক্রমী একজন খেলোয়াড়। দারুণ আক্রমণাত্মক। মাঝের ওভারগুলোতে মারতে পারে। তবে আমরা নিজেদের ক্রিকেটেই মনোযোগ রাখছি।’
এবছর আইপিএলে লিগামেন্টের চোটের কারণে লম্বা সময়ের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে গিয়েছিলেন উইলিয়ামসন। বিশ্বকাপে না খেলার সম্ভাবনা ছিল বেশি। পরে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ডাক পেলেও প্রথমদিকে খেলতে পারেননি। বাংলাদেশের বিপক্ষে ফিরে ফিফটি পেলেও আঙুলের চোটে আবারও কয়েক ম্যাচ বাইরে থাকতে হয়।
চোটপ্রবণ সময়টাকে আকর্ষণীয় যাত্রা উল্লেখ করে ৩৩ বর্ষী কেন বললেন, ‘বিশ্বকাপে খেলার তেমন সুযোগ ছিল না। বাস্তবতা কঠিন ছিল। এখানে বুড়ো আঙুল ভেঙে গেল। হতাশ হয়েছিলাম। এখন অবশ্য সবকিছু বেশ ভালোই আছে। এ কারণে এখানে বসে আছি। টুর্নামেন্টের অংশ হতে পেরে ভালো লাগছে।’
হাই-স্কোরিং ভেন্যুতে ভারতের বোলিং আক্রমণের দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন শুনে কৌশলী হন উইলিয়ামসন। বলেন, ‘প্রতিটি দলের আলাদা আলাদা ভারসাম্যের জায়গা আছে। হার্দিক পান্ডিয়ার ইনজুরি তাদের ভারসাম্যে পরিবর্তন এনেছে। কালকের ম্যাচের দিকে আমরা তাকিয়ে আছি।’
টি-টুয়েন্টির জোয়ারে ওয়ানডে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন বড় হচ্ছে। ফরম্যাটটির অস্তিত্ব নিয়ে শঙ্কা অমূলকও নয়। বিশ্বকাপে একদিনের ক্রিকেট নিয়ে কতটা সাড়া দেখলেন উইলিয়ামসন? বললেন, ‘এখানে ভালো সাড়া পেয়েছি। খেলাধুলায় ফরম্যাটটা গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে ওয়ানডে বাঁচানোটা কঠিন। ক্যালেন্ডারে টি-টুয়েন্টির সূচি বাড়ছে। ভাবতে হবে মানুষ কী দেখতে চায়। ভারসাম্য করতে পারলে ভালো হবে।’








