অবিশ্বাস্য, অভাবনীয়, অতুলনীয়- এমন সব বিশেষণ ব্যবহারও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাওয়া জয়কে গৌরবান্বিত করার জন্য যথেষ্ট নয়। নেপিয়ারের বাইশ গজে নতুন বলে শরিফুল ইসলাম ও তানজিম হাসান সাকিব ও সৌম্য সরকার রীতিমতো ঝলসে উঠেছিলেন। স্বাগতিকদের নাস্তানাবুদ করে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে জিতেছে টিম টাইগার্স। তবুও এমন প্রাপ্তির মাঝেও আনন্দের লাগাম টানতে চান নাজমুল হোসেন শান্ত।
বিস্ময় উপহার দিয়ে সকাল সকালই ম্যাচ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। হোয়াইটওয়াশ এড়িয়েছে লাল-সবুজের দল। ২-১ এ শেষ করেছে সিরিজ। দলের সব খেলোয়াড় তো বটেই, অধিনায়ক হিসেবে শান্ত নিজেও গর্বিত। তবে আরও বড় লক্ষ্য নিয়েই সবাই সফরে এসেছিল বলে সাফ জানালেন।
‘যদি ইতিহাস চিন্তা করেন, অবশ্যই গর্ব অনুভব হওয়ার মতো ফল আমরা করেছি। একটা ম্যাচ জিততে পেরেছি। কিন্তু আমাকে যদি ব্যক্তিগতভাবে জিজ্ঞাসা করেন, তাহলে বলবো আমি সিরিজ জিততে এসেছিলাম। এটা আমি সত্যিকার অর্থেই বলেছিলাম। আমার মনে হয় প্রথম ম্যাচটায় বৃষ্টির কারণে একটু দুর্ভাগা ছিলাম। আমাদের বোলিং অপশনগুলো শেষ হয়ে গিয়েছিল। হ্যাঁ , অবশ্যই জিততে পেরেছি বলে আমি খুশি হয়েছি। তবে যদি সিরিজ জিততে পারতাম, আরও ভালো লাগতো।’
সিরিজের দুই ম্যাচে ব্যাট হাতে মোটেও সুবিধা করতে পারেননি শান্ত। প্রথম ম্যাচে ১৫ রানের বেশি করতে পারেননি। দ্বিতীয় ম্যাচে তার উইলো থেকে আসে মাত্র ৬ রান। শেষ খেলায় টাইগার অধিনায়কের ব্যাট হেসেছে, ৪২ বলে ৮ চারে ৫১ রানে তিনি অপরাজিত থাকেন। ধারাবাহিকভাবে রান পাওয়ার আক্ষেপটা তার কণ্ঠে ঝরেছে।
‘ক্রিকেট ম্যাচে পুষিয়ে দেয়া বলে কিছু নেই। আমার আগের দুই ম্যাচে রান করা উচিৎ ছিল। আমি যদি রান করতে পারতাম, তাহলে সিরিজটায় হয়তো ভিন্ন কিছু হতে পারতো। আমি যে জিনিসটা সবসময় অনুসরণ করি, আমার প্রক্রিয়া ও পরিকল্পনা। সেগুলা কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি আজকে এবং পুরোপুরি আমি এ ব্যাপারে নিজের কাছে পরিষ্কার ছিলাম। আমার প্রস্তুতি খুব ভালো ছিল। ওইটাই বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছি।’
‘ভালো লাগছে জিততে পেরেছি। তবে যে জিনিসটা ভালো লাগছে যে আমার যে পরিকল্পনা ছিল ওইটা আজকে পুরোপুরিভাবে প্রয়োগ করতে পেরেছি। আমি খুবই স্বচ্ছ মানসিকতায় ছিলাম। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার দল জিতেছে।’
নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং স্কোর দেখলে অবিশ্বাসের ঘোর লেগে থাকা স্বাভাবিক। সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলা দল নিজেদের মাটিতে মাত্র ৯৮ রানে অলআউট। সুখ স্বপ্নেও এমনটা দেখার কথা হয়তো কল্পনাই করা যায় না। বাস্তবে ভাবাটা আরও সুদূর পরাহত বিষয়। এমন আশা বাংলাদেশ দল স্বভাবতই না করলেও নিজেদের প্রক্রিয়া অনুসরণেই এমনটা ঘটেছে বলে জানালেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
‘এরকম চিন্তা কখনোই করিনি। আমরা পুরো সিরিজে আমাদের প্রক্রিয়াটা ঠিক রাখার চেষ্টা করেছি। যখন লম্বা সময় ধরে আমরা ভালো বোলিং করেছি, উইকেট অটোমেটিক পড়ছিল। হ্যাঁ ৯৮ রানে অলআউট করেছি এরকম আশা নিয়ে কখনোই আসিনি। পরিকল্পনা ছিল, কতক্ষণ লম্বা সময় ধরে ভালো জায়গায় বল করতে পারি। বোলাররা ওইটাই করেছে এবং খুবই গর্ব অনুভব করছি যে যেভাবে ওরা আগের দুই ম্যাচ হেরে আজকে দারুণভাবে প্রত্যাবর্তন করেছে।’
বিসিবি অনেকদিন ধরেই অধিনায়ক হিসেবে শান্তকে তৈরির কাজটা করে আসছে। সাকিব আল হাসানের পর তার কাঁধেই আসতে পারে নেতৃত্বের পূর্ণ দায়িত্ব। যদিও এখনই অধিনায়কত্ব নিয়ে তিনি মূল্যায়নে একেবারেই নারাজ।
‘এখন মূল্যায়নটা করতে পারবো না। অধিনায়কত্বটা আমি শিখছি। আজকে ম্যাচ জিততে পেরে ভালো লাগছে। এখানে আমি আলাদা কেউ না। দল হিসেবে আমরা ভালো খেলছি। দলের সব খেলোয়াড়রাই জিততে চায়। তাদের ওয়ার্ক এথিক খুবই ভালো। এই জিনিসটা যতো লম্বা সময় ধরে চালাব, ততো দল হিসেবে আমরা ভালো ফল করবো।’








