শেষ বলের নাটকীয়তায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের শেষটিতে ১ রানে হেরে গেলেও দর্শকদের হৃদয় ঠিকই জয় করে নিয়েছে আয়ারল্যান্ড। কিউইদের করা ৬ উইকেটে ৩৬০ রানের বিশাল স্কোর তাড়া করতে নেমে আইরিশরা ৯ উইকেটে ৩৫৯ রানে থামে।
সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হলেও প্রতিটি ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে রীতিমতো কাঁপিয়ে দিয়েছে স্বাগতিকরা। প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ছুঁড়ে দিয়েছিল ৩০১ রানের লক্ষ্য। শেষ ওভারে জয়ের জন্য দরকার ছিল ২০ রান।
সেঞ্চুরি হাঁকানো মাইকেল ব্রেসওয়েল মারমুখী ব্যাটিংয়ে ম্যাচ বের করেন। ক্রেইগ ইয়াংয়ের প্রথম দুই বলে চারের পর তৃতীয় বলে মারেন ছক্কা। চতুর্থ বলে মারেন আবার চার। পঞ্চম বলে ছক্কা মেরে আয়ারল্যান্ডের কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে নেন ব্রেসওয়েল, খেলেন ৮২ বলে ১২৭ রানের অপরাজিত ইনিংস।
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আইরিশদের ২১৬ রানে অলআউট করলেও স্বস্তিতে থাকতে পারেনি ব্ল্যাক ক্যাপস। জয় পাওয়ার আগে তাদের ৭ উইকেট হারাতে হয়। ৪২ রানে অপরাজিত থেকে ব্রেসওয়েল দেন ফিনিশিং।
শুক্রবার ডাবলিনে হওয়া ম্যাচ দেখল ৭১৯ রানের থ্রিলার। হাই স্কোরিং খেলায় পল স্টার্লিংয়ের ১২০ ও হ্যারি টেক্টরের ১০৮ রানের ইনিংসে ভর করে আয়ারল্যান্ড জয়ের দুয়ারেই চলে গিয়েছিল। শেষ ওভারে দরকার ছিল ১০ রান। শেষ বলে ৩ রান নিলেই মিলতো জয়। ব্লেয়ার টিকনারের বলে ব্যাট চালালেও তাতে লাগাতে পারেননি গ্রাহাম হিউম। উইকেটরক্ষকের গ্লাভসে বল যাওয়ার পর দুই ব্যাটার দৌড়ে এক রানের বেশি নিতে না পারায় আইরিশদের তীরে এসে তরী ডোবে।
খেলা শেষে আইরিশ অধিনায়ক অ্যান্ডি বালবির্নির কণ্ঠে হতাশা ঝরে পড়াটা খুবই স্বাভাবিক ছিল। কারণ প্রতিটি ম্যাচে তার দল দুর্দান্ত লড়াই করেও জিততে পারেনি। তবে বালবির্নি হারের চেয়েও তার দলের নিয়মিত ওয়ানডে ম্যাচ খেলার সুযোগ না পাওয়ায় বড় হতাশা প্রকাশ করেছেন।
‘ভারতের বিপক্ষে দুইটি (টি-টুয়েন্টি) এবং তিনটি (নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে) খেলেছি। আমরা বড় দলগুলোর বিপক্ষে নিয়মিত খেলতে চাই। এটা দুঃখের বিষয় যে, আমরা বছরের বাকি সময় কোনো আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচ খেলি না।’
টেস্ট স্ট্যাটাস থাকা একটি দলের অধিনায়ক যখন ওয়ানডে নিয়মিত খেলতে না পারার আক্ষেপ করেন, তখন আইসিসির ক্রিকেট বিশ্বায়ন নিয়ে পরিকল্পনা প্রশ্নবিদ্ধই হয়। অথচ নিয়মিত খেলতে পারলে তাদেরও যে বড় দল হয়ে ওঠার সামর্থ্য রয়েছে, তা মাঠের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়েই প্রমাণিত হয়েছে।
হাই স্কোরিং তৃতীয় ওয়ানডেকে বিস্ময়কর ম্যাচ অভিহিত করে বালবির্নি বলেন, আমরা তাদের সঙ্গে ভালো খেলেছি। সেয়ানে সেয়ানে টক্কর দিয়েছি। হারের তিক্ততা হজম করতে হলেও দারুণ খেলা ছিল। (স্টার্লিং ও টেক্টরের) দুই সেঞ্চুরি আমার দেখা সেরাদের অন্যতম ছিল।
সিরিজে দুই সেঞ্চুরি পাওয়া টেক্টরকে নিয়ে আলাদাভাবেই প্রশংসা করেছেন বালবির্নি। ‘টেক্টর বাকিদের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে। সপ্তাহে দুই সেঞ্চুরি পাওয়া বিশেষ কিছু। আশা করি সে আরও পাবে।’










