এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
সুইডেনে বৈধভাবে থাকার অনুমতি হারানো বা বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত পাওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে নতুন একটি বিতর্কিত আইন কার্যকর হয়েছে। নতুন এই আইনের আওতায় নির্দিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো তাদের দায়িত্ব পালনের সময় কোনো ব্যক্তির দেশে বৈধভাবে বসবাসের অধিকার নেই বলে সন্দেহ করলে সেই তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে বাধ্য থাকবে।
সোমবার (১৩ জুলাই) থেকে আইনটি কার্যকর হয়েছে।
সুইডিশ সরকারের ভাষায়, ‘ইনফরমেশন্সপ্লিক্ট’বা ‘তথ্য প্রদানের বাধ্যবাধকতা’ নামে পরিচিত এই ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো অবৈধভাবে বসবাসকারীদের শনাক্ত করা এবং অভিবাসন আইন বাস্তবায়নকে আরও কার্যকর করা। তবে সমালোচকরা এটিকে ‘অ্যাঙ্গিভারিলাগেন’ বা ‘তথ্যদাতা আইন’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন।
নতুন আইনের আওতায় থাকা ছয়টি সরকারি সংস্থা হলো সুইডিশ পাবলিক এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিস, সোশ্যাল ইন্স্যুরেন্স এজেন্সি, কারা ও প্রবেশন সার্ভিস, এনফোর্সমেন্ট অথরিটি, পেনশন এজেন্সি এবং সুইডিশ ট্যাক্স এজেন্সি। এসব সংস্থা কোনো ব্যক্তির অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান নিয়ে সন্দেহের তথ্য পুলিশ, সুইডিশ সিকিউরিটি সার্ভিস অথবা সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সিকে জানাবে।

সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তথাকথিত ‘শ্যাডো সোসাইটি’ বা রাষ্ট্রীয় নজরদারির বাইরে বসবাসকারী অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করা সহজ হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে। তবে আইনটি ঘিরে শুরু থেকেই বিতর্ক রয়েছে। প্রথমে আরও বেশি সরকারি সংস্থাকে এই বাধ্যবাধকতার আওতায় আনার পরিকল্পনা ছিল সরকারের। কিন্তু চিকিৎসক, শিক্ষক, সমাজকর্মী, মানবাধিকার সংগঠন এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে কর্তৃপক্ষ।
সমালোচকদের মতে, এ ধরনের আইন অভিবাসীদের মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি অনাস্থা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা বা অন্যান্য জরুরি সরকারি সেবা নিতে অনেকেই ভয় পেতে পারেন, যা জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে সরকার বলছে, আইনটি কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে নয়। বরং যারা বৈধভাবে সুইডেনে থাকার অধিকার হারিয়েছেন বা অবৈধভাবে অবস্থান করছেন, তাদের শনাক্ত করে বিদ্যমান অভিবাসন আইন বাস্তবায়ন করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই আইন সুইডেনের অভিবাসন নীতিতে ক্রমবর্ধমান কঠোর অবস্থানের আরেকটি উদাহরণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কঠোর করতে দেশটির সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।







