বিশ্ববিখ্যাত সুইস খাদ্যপণ্য প্রতিষ্ঠান নেসলের ইউরোপে বিক্রি হওয়া শিশুখাদ্য থেকে চিনি কমালেও আফ্রিকা, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার বাজারে বিক্রি হওয়া পণ্যে বাড়তি চিনি যোগ করছে বলে একটি এনজিওর প্রতিবেদনে এমন অভিযোগ ওঠেছে।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সুইসভিত্তিক বৈশ্বিক ন্যায়সংগঠন পাবলিক আই প্রকাশিত “হাউ নেসলে গেটস চিলড্রেন হুকড অন সুগার ইন লোয়ার-ইনকাম কান্ট্রিজ” শিরোনামের প্রতিবেদনে বলেছে, লাভের জন্য নেসলে শিশুদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
পাবলিক আই এবং ইন্টারন্যাশনাল বেবি ফুড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (আইবিএফএএন) যৌথ অনুসন্ধানের ফল তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, আফ্রিকা, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার বাজারে নেসলের ৯৩ শতাংশ শিশুখাদ্যে বাড়তি চিনি পাওয়া গেছে। বিভিন্ন দেশে চিনি মেশানোর পরিমাণও ভিন্ন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, থাইল্যান্ডে নেসলে সিরিয়াল ব্র্যান্ড ‘সেরিল্যাক’-এ প্রতি সার্ভিংয়ে ছয় গ্রাম চিনি অর্থাৎ দেড়টি চিনি-ঘনক পাওয়া গেছে। ইথিওপিয়ায় ৫ দশমিক ২ গ্রাম এবং পাকিস্তানে ২ দশমিক ৭ গ্রাম চিনি যুক্ত সেরিল্যাক শিশুরা খেয়ে থাকে।
কিন্তু সুইজারল্যান্ড, জার্মানি বা যুক্তরাজ্যের মতো প্রধান ইউরোপীয় বাজারে সেরিল্যাক বিক্রি হয় কোনো বাড়তি চিনি ছাড়াই।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডবিউএইচও) শিশুদের (৩ বছরের কম বয়সী) খাদ্যে কোনো ধরনের চিনি বা মিষ্টি উপাদান না রাখার পরামর্শ দেয়। সংস্থার সতর্কতা শিশুকালে চিনির সংস্পর্শ ভবিষ্যতে মিষ্টির প্রতি আসক্তি তৈরি করতে পারে, বাড়ায় স্থূলতা ও বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নেসলে বিশ্বের শিশুখাদ্য বাজারের ২০ শতাংশের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে, যার বার্ষিক বিক্রি প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার। আফ্রিকা, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকায় প্রতিষ্ঠানটি আগ্রাসীভাবে প্রচার করে যে তাদের পণ্য শিশুদের সুস্থ বিকাশের জন্য অপরিহার্য।
কিন্তু পাবলিক আইয়ের মতে, অনুসন্ধানের বাস্তবতা অন্য চিত্র দেখায়।
পাবলিক আই ও আইবিএফএএন দাবি করেছে, নেসলেকে অবশ্যই এই অযৌক্তিক ও ক্ষতিকর দ্বৈত মানদণ্ড বন্ধ করতে হবে, যা নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে স্থূলতার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে এবং শিশুদের আজীবন মিষ্টিজাত পণ্যের প্রতি আকর্ষণ তৈরি করছে।
তবে নেসলে আগের মতো এবারও এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, নেসলের একজন মুখপাত্র অনুসন্ধানটিকে ভ্রান্তিপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি আরও বলেন, শিশুদের জন্য খাবারের স্বাদ উপযোগী করতে কিছুটা মিষ্টতা রাখা প্রয়োজন, যা অপুষ্টির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট দেশের নিয়মকানুনের মধ্যে থেকেই এসব পণ্যের রেসিপি প্রস্তুত করা হয়।








