১৮ কোটি মানুষের দেশের প্রায় ১ কোটি প্রবাসীদের বসবাস শুধুই মধ্যপ্রাচ্যে। যা সংখ্যার হিসাবে দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় সাড়ে ৫.৫%, প্রবাসীদের পরিবারসহ হিসেব করলে প্রায় ২৫ পার্সেন্ট ভোটার রয়েছে। ৩০০ আসনের পার্লামেন্টে আনুপাতিক হারে প্রায় ২০টি আসনের জনসংখ্যার সমতুল্য।
দুঃখজনক হলেও সত্য, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীদের দেশে অর্থনীতিতে অসামান্য অবদান বিবেচনায় সকলের প্রত্যাশা ছিলো অন্তত। এক দুইজন এই অঞ্চল থেকে দলীয় মনোনয়োন পেয়ে সংসদে কথা বলার সুযোগ পাবে বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি থেকে, বিশেষ করে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, মধ্যপ্রাচ্য বিএনপির সাংগঠনিক সমন্বয়ক ও সৌদিআরব বিএনপির আহবায়ক জনাব আহমেদ আলী মুকিব।এবং সৌদি আরব বিএনপি’র যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল মান্নান। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে অবহেলিত মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসীদের পক্ষ থেকে এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন সৌদি আরব পশ্চিমাঞ্চল বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদস্য সচিব নির্বাচন পরিচালনা কমিটি সৌদি আরবের প্রকৌশলী নুরুল আমিন।
তিনি বলেন প্রথম বারের মতো প্রবাসীদের পোস্টাল ভোট প্রদানের ক্ষেত্রেও মধ্যপ্রাচ্য থেকেই সর্বাধিক ভোট প্রদান করা হয় যাহা ছিলো খুবই কস্টসাধ্য, ঝুকিপূর্ণ সাথে নানাবিধ প্রশাসনিক জটিলতা। তিনি আরো বলেন যতটুকু জানা গেসে প্রবাসী পোস্টাল ভোট সংখ্যায় কম হলেও সাংসদ নির্বাচনে উল্লখ্যোগ্য ভূমিকা রেখেছে।
আল্লাহর অশেষ রহমতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।প্রচলিত নিয়মে অতিদ্রুততম সময়ে মন্ত্রী পরিষদও গঠিত হবে।
প্রবাসীদের দেশ প্রেম, দেশের প্রতি অবদান,দলের প্রতি আনুগত্য ,বৈরী পরিবেশে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া, দলের সকল আন্দোলন সংগ্রামে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ অংশ গ্রহন সহ খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষগুলোর আবেগ অনুভুতি বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে অন্তত ১জন মন্ত্রী সভার বিশেষ কোটায় অন্তর্ভূক্ত করা হউক যারা পুরো মধ্যপ্রচ্যের শ্রমিক/ শ্রমজীবী মানুষদের জীবন প্রবাহ ,সুখ-দুঃখ, চাওয়া-পাওয়া সম্পর্কে সম্যক ধারনা আছে এবং সেটা হতে পারেন দীর্ঘদিনের সৌদি প্রবাসী এবং সৌদিআরব বিএনপির আহবায়ক হবিগঞ্জের সন্তান আহমেদ আলী মুকিব বলে তিনি মনে করেন।
দেশ থেকে অর্থ নিয়ে বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন ইউরোপ আমেরিকার প্রবাসীরা এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী আয়ের শতভাগ দেশের উন্নয়ন সহযোগী হলেও জাতীয় রাজনীতি ও সরকার গঠনে তাদের ভূমিকা খুবই নগণ্য,
রাষ্ট্রের যখন অর্থের সংকট হয় তখন পাশে দাঁড়ায় ৫০ ডিগ্রি রোদে খেটে খাওয়া মধ্যপ্রাচ্য এসব প্রবাসীরা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো যখন ক্ষমতাসীনদের দ্বারা অত্যাচারিত নিপীড়িত হয়ে যখন বিপদে পড়েন তখন মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীর আশ্রয় দিয়ে থাকেন। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ খরচ করেন দেশ থেকে পালিয়ে আসা এসব নেতা কর্মীদের পেছনে। সুসময়ে খেটে খাওয়া দিনমজুর মধ্যপ্রাচ্যের এসব প্রবাসীদের খবর না রাখে রাষ্ট্র, না রাখে রাজনৈতিক দলগুলো। অথচ এই প্রবাসীরাই নিজের পরিবার পরিজন ছেড়ে বিদেশে এসে দেশ মাতৃকার জন্য যৌবনের মূল্যবান সময়টিকে উৎসর্গ করেন।








