২০২৫ সালে অভিবাসী হতে গিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮ হাজার মানুষ মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। এর মধ্যে প্রতি ১০ জনের মধ্যে চারজনেরও বেশি প্রাণহানি বা নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে ইউরোপমুখী সমুদ্রপথে।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের অনেকেই কথিত “অদৃশ্য জাহাজডুবি”র শিকার—যেখানে নৌযানসহ যাত্রীরা সম্পূর্ণভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়।
সংস্থাটির মানবিক সহায়তা ও প্রতিক্রিয়া বিভাগের পরিচালক মারিয়া মোইতা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই পরিসংখ্যান বৈশ্বিকভাবে এমন মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিরোধে সম্মিলিত ব্যর্থতার প্রতিফলন।
আইওএম জানায়, ২০২৫ সালে মৃত বা নিখোঁজ হিসেবে ৭ হাজার ৯০৪ জনকে নথিভুক্ত করা হয়েছে। তবে সহায়তা কমে যাওয়ায় প্রায় ১,৫০০টি সন্দেহজনক ঘটনা যাচাই করা সম্ভব হয়নি, ফলে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা ৮২ হাজার ছাড়িয়েছে, যার ফলে প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইউরোপে অভিবাসীদের আগমন সামগ্রিকভাবে কমলেও যাত্রাপথ ও প্রবণতায় পরিবর্তন এসেছে। রাজনৈতিক ও নীতিগত পরিবর্তনের কারণে সিরীয়দের সংখ্যা কমে গিয়ে বাংলাদেশিরা এখন আগতদের মধ্যে বড় সংখ্যায় পরিণত হয়েছেন।
এছাড়া পশ্চিম আফ্রিকার উত্তরমুখী রুটে প্রায় ১,২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে এশিয়াতেও রেকর্ডসংখ্যক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যেখানে মিয়ানমারের সহিংসতা ও বাংলাদেশের শরণার্থী শিবির থেকে পালিয়ে আসা বহু রোহিঙ্গাও রয়েছেন।
সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, অভিবাসনের পথ সহজ হচ্ছে না, বরং পরিবর্তিত হয়ে আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।
আইওএম-এর মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তনের চাপ এবং নীতিগত পরিবর্তনের কারণে অভিবাসনের পথ বদলাচ্ছে, তবে ঝুঁকি কমছে না।
তিনি আরও বলেন, এসব সংখ্যার পেছনে রয়েছে অসংখ্য মানুষের জীবন এবং এমন পরিবার, যারা প্রিয়জনের কোনো খোঁজের অপেক্ষায় থাকে—যে খবর অনেক সময় আর কখনোই আসে না। নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে সঠিক তথ্য ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও জোর দেন তিনি।








