মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর কুয়েত ও বাহরাইনে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য হামলা মোকাবেলায় উভয় দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে কুয়েতের সেনাবাহিনীর বরাতে জানানো হয়, ইরানের হামলার জবাব দিতে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জনগণকে শান্ত থাকার পাশাপাশি নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এর আগে, ইরানের কিশ ও কেশম দ্বীপে নতুন করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। গত তিন দিনে দ্বীপ দুটিতে একাধিকবার হামলা হয়েছে। সর্বশেষ হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করেনি তেহরান।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত কেশম দ্বীপ ইরানের জন্য অত্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি ওই অঞ্চলে ইরানের সবচেয়ে বড় দ্বীপ এবং সেখানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র বারবার এই এলাকায় হামলা চালাচ্ছে।
এদিকে ইরানের সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে এক সম্মেলনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, ইরান হামলা চালালে অতীতের যেকোনো সংঘাতের তুলনায় আরও শক্তিশালী ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। সেই সময় শেষ হয়ে গেছে, যখন কেউ আমাদের আঘাত করত আর আমরা তার দ্বিগুণ শক্তিতে পাল্টা আঘাত হানতাম না।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে ইরানকে কেন্দ্র করে নতুন সংঘাত শুরু হয়। গত সপ্তাহ থেকে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যদিও এবার এখন পর্যন্ত ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।






