প্রত্যাবাসন নিয়ে সমালোচনার মাঝেই মালয়েশিয়ায় মিয়ানমারের সামরিক সরকার প্রধান

মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন মিয়ানমারের সামরিক সরকার প্রধান মিন অং হ্লাইং। বুধবার (৭ অক্টোবর) কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মিন অং হ্লাইংকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার কর্মকর্তারা।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
দেশ দুটির মধ্যে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি মালয়েশিয়া থেকে হাজারো মিয়ানমারের নাগরিককে প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মধ্যেই এ সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার মিন অং হ্লাইং দুই দেশের বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে আয়োজিত একটি বেসরকারি ব্যবসায়ী সমাবেশে অংশ নেন।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এমআরটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, সেখানে তিনি মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, মিয়ানমার গণতন্ত্রের পথে এগোচ্ছে এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে তার সরকার কাজ করছে।
খাদ্য, কৃষি, পশুপালন, নির্মাণ, ব্যাংকিং, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে মিয়ানমারে আস্থার সঙ্গে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি।
মালয়েশিয়া জানিয়েছে, দেশটিতে থাকা প্রায় ৫ হাজার মিয়ানমারের নাগরিক ধাপে ধাপে দেশে ফিরে যেতে সম্মত হয়েছেন। এর মধ্যে গত রোববার প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
তবে এই প্রত্যাবাসন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।
তাদের আশঙ্কা, মিয়ানমারের কিছু এলাকায় নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল। ফলে ফিরে যাওয়া ব্যক্তিরা নিপীড়ন কিংবা চলমান সংঘাতের মধ্যে জোরপূর্বক সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের শেষ নাগাদ দেশটির বিভিন্ন অভিবাসন আটককেন্দ্রে ১১ হাজার ৮০৪ জন মিয়ানমারের নাগরিক ছিলেন। প্রত্যাবাসিত ব্যক্তিদের মধ্যে নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গারা ছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।
মালয়েশিয়ায় ইউএনএইচসিআরের নিবন্ধিত প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার ৬০০ শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার রোহিঙ্গা। মালয়েশিয়া জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনের অংশীদার না হওয়ায় দেশটি শরণার্থীদের অনিবন্ধিত অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করে।
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন। মালয়েশিয়া অনির্দিষ্টকাল শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে পারে না এবং মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের দায়িত্ব নিতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
২০২১ সালে সেনাবাহিনী অং সান সু চির সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর মিয়ানমারের সঙ্গে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তবে চলতি বছরের এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর মিন অং হ্লাইং আঞ্চলিক কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়িয়েছেন।
মালয়েশিয়া সফরটি আসিয়ানভুক্ত কোনো দেশে তার পঞ্চম সফর। এর আগে তিনি লাওস, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া সফর করেছেন।
তবে সফরটি নিয়ে সমালোচনা করেছে সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংগঠন আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা (এসিএলইডি)। সংগঠনটির এশিয়া-প্যাসিফিক বিশ্লেষক সিন্ডি আজারা বলেছেন, মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধের অবসানে কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া প্রত্যাবাসন শরণার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে এতে তাদের জীবনের তাৎক্ষণিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।





