মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট জেনারেল মিন অং হ্লাইং দেশটির সব বন্দির সাজা কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন। সেই হিসেবে মিয়ানমারে কারাবন্দী গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী সু চির দণ্ডও কমেছে। সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতীয় ছুটি উপলক্ষে এই সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সুচি’র সাজাও কমেছে। তার আইনজীবী দলের একজন সদস্য জানিয়েছেন, ৮০ বছর বয়সী সু চিকে এখন প্রায় ১৮ বছর কারাভোগ করতে হবে।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই তিনি বন্দি রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে তার সমর্থকরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন। শুরুতে ৩৩ বছরের সাজা দেওয়া হলেও তা পরে ২৭ বছরে নামানো হয়েছিল।
মিয়ানমারে সু চি এখনো অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন নেতা হিসেবে বিবেচিত। তবে দীর্ঘদিন ধরে তাকে প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছে, এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যের অবনতির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে, দেশটিতে সামরিক শাসনের মধ্যেই সাম্প্রতিক নির্বাচনে সেনাসমর্থিত দল ব্যাপক বিজয়ের দাবি করেছে। তবে সমালোচকদের মতে, এই নির্বাচন ছিল একপাক্ষিক, যার মাধ্যমে সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর জানিয়েছে, রোহিঙ্গাসহ বহু সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং অনেকেই বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ রাজনৈতিক কারণে কারাবন্দি হয়েছে।







