চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • চ্যানেল আই টিভি
  • আরও
    • কর্পোরেট নিউজ
    • কৃষি
    • তথ্যপ্রযুক্তি
    • মতামত
No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

আমার ছেলেবেলার সরস্বতী পূজা

তুষার কান্তি সাহা তুষার কান্তি সাহা
৮:৪৭ অপরাহ্ণ ২০, জানুয়ারি ২০২৬
শিল্প সাহিত্য
A A

আমার ছেলেবেলার সরস্বতী পূজার আনন্দ ছিল সত্যিই অপরিসীম। সে আনন্দ কেবল একটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা শুরু হতো পূজার প্রায় এক মাস আগেই। আমাদের বাজারের বারোয়ারী মন্দিরে তখন থেকেই চলত প্রস্তুতির ব্যস্ততা। হাটে-বাজারে, মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পূজার নিমন্ত্রণ করা আর চাঁদা তোলা ছিল প্রথম কাজ। তারপর পুরোহিত ঠিক করা, প্রতিমা বায়না—সব মিলিয়ে যেন ধীরে ধীরে একটি বড় উৎসবের রূপরেখা আঁকা হচ্ছিল।

পূজার তিন-চার দিন আগে থেকেই এলাকায় সাজ সাজ রব পড়ে যেত। দাদারা শহর থেকে মাইক ঠিক করে আনতেন। পূজার আগের দিন বিকেলে মাইক আর প্রতিমা এসে পৌঁছাত। বাঁশে মাইক ঝুলিয়ে দেওয়া হতো। মাইকে বাজত পুরোনো দিনের নরম বাংলা গান, মাঝে মাঝে দু’একটি হিন্দি গানও। বড়দাদাদের সঙ্গে গেট সাজানো, মন্দিরের সামনে সামিয়ানা টানানো, আলো লাগানো-এইসব কাজে কখন যে রাত গভীর হয়ে যেত, টেরই পাওয়া যেত না।

সব কাজ শেষে বাড়ি ফিরতে ফিরতে প্রায় রাত একটা বেজে যেত। শীতের রাতে গলা ভাঙা তখন প্রায় নিশ্চিত। মা বারবার সাবধান করতেন—“ঠান্ডা লাগাস না।”

Banglabid

মাঝে মাঝে ঘরে ঢুকে দেখতাম, বাবা মিষ্টি দই পাতচ্ছেন। ফুটন্ত দুধে চিনি মিশিয়ে জ্বাল দিয়ে গাঢ় লাল করে, ঠান্ডা হলে তাতে বীজ দই মিশিয়ে মাটির ভাঁড়ে ঢালা হতো। তারপর কাঁথা, কম্বল আর চটের বস্তা দিয়ে ঢেকে অন্ধকার জায়গায় রেখে দেওয়া—সকালে জমাট বাঁধা দইয়ের অপেক্ষা। পূজার আগে মা চিঁড়ার মোয়া, মুড়ির মোয়া বানাতেন আর খই মাখাতেন—ঘরের ভেতর তখন উৎসবের গন্ধ।

পূজার দিন ভোরেই মা ঘুম থেকে ডেকে দিতেন ফুল, বেলপাতা, দূর্বা, কলাপাতা আর আম্রপল্লব সংগ্রহ করতে। সব জোগাড়ের পর দিদিরা আমাদের নিয়ে যেত নদীর ঘাটে স্নান করাতে। মাঘের শীতের সকালে নতুন কসকো সাবানের প্যাকেট খুললেই যে তীব্র অথচ মধুর গন্ধ বেরোত, তা আজও স্মৃতিতে লেগে আছে। বাড়ি থেকে জল গরম করে আনা হতো—সেই উষ্ণ জলের ছিটা শীতল শরীরে পড়লে এক অদ্ভুত আরাম লাগত। স্নান শেষে সাদা পাঞ্জাবি পরে সোজা মন্দিরে যাওয়া।

মন্দিরে পৌঁছে দিদি-দাদাদের সঙ্গে পূজার কাজে যোগ দিতাম। সকাল সাড়ে দশটা বা এগারোটার মধ্যে ঠাকুরমশাই এসে যেতেন। মন্ত্রোচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে মনের ভেতরে একটাই প্রার্থনা জাগত—সামনের পরীক্ষায় ভালো ফল করার আকাঙ্ক্ষা। দেখতে দেখতে দেবীর চক্ষুদান ও পূজা সম্পন্ন হতো। পুষ্পাঞ্জলির সময় আমরা জোড় হাতে ফুল আর বেলপাতা নিয়ে উচ্চারণ করতাম—

Reneta

“নমো সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে।
বিশ্বরূপে বিশালাক্ষি বিদ্যাং দেহি নমোহস্তুতে॥”
এরপর—
“জয় জয় দেবী চরাচর সারে,
কুচযুগশোভিত মুক্তাহারে।
বীণারঞ্জিত পুস্তক হস্তে,
ভগবতী ভারতী দেবী নমহস্তুতে॥”

পুষ্পাঞ্জলি শেষে ভক্তিভরে দেবীর চরণে ফুল ও বেলপাতা অর্পণ করা হতো। অতঃপর হোমের মাধ্যমে পূজা সমাপ্ত হতো। হোম শেষে মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে বিদায়—আগামী বছর আবার আসার প্রত্যাশায়।

পূজান্তে বাড়ি ফিরে দেখতাম, মা আস্ত ইলিশ মাছ, লাউয়ের ডগা আর আস্ত বেগুন কুলায় করে সিঁদুর দিয়ে পূজোর ঘরে নিয়ে যাচ্ছেন। মাছ কাটার পর মাছের আঁশ রাখা হতো বিশেষ এক খুঁটির(বাস্ত খাম) গোড়ায়—বিশ্বাস ছিল, এতে সংসারে ভবিষ্যতের বিয়ের খরচের টাকা জমে। পরে সেই ইলিশ মাছ আর লাউ দিয়ে শুধু জিরা ফোড়ন ও কাঁচা মরিচে রান্না, আর মাছের কাঁটা দিয়ে লাউয়ের ঘণ্টো। সেই খাবারের স্বাদ ছিল অমৃতসম। পূজার প্রসাদসহ মায়ের হাতের রান্না আর ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত—সে তৃপ্তি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আগেকার দিনে সরস্বতী পূজার দিন থেকেই ইলিশ খাওয়ার রীতি শুরু হতো।

বিকেলে শুরু হতো বাড়ি বাড়ি ঘোরা। কোথাও লুচি ও সুজি, কোথাও দই, মুড়ির মোয়া মাখা—সবই আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করতাম। সন্ধ্যার আরতিতে মন্দির প্রাঙ্গণ ভরে উঠত অনাবিল উৎসবে। গান, ধুপতি নৃত্য আর ঢাকের তালে চারদিক মুখর হয়ে উঠত। সব আনন্দ শেষে রাত এগারোটার দিকে মা বা বড়দিদিদের ধাক্কায় অবশেষে বাড়ি ফেরা।

পরের দিন ছিল খিচুড়ি উৎসব। সব বাড়ি ঘুরে চাল, ডাল, তেল, নুন আর আনাজপাতি সংগ্রহ করা হতো। সন্ধ্যায় শুরু হতো পাতলা খিচুড়ি রান্না। বেশির ভাগ জিনিসই জুটে যেত, সামান্য কিছু কিনতে হতো। রান্না শেষে গরম গরম ধোঁয়া ওঠা পাতলা খিচুড়ি—আহা, সে স্বাদ আজও মুখে লেগে আছে।

পূজোর তৃতীয় দিনে চিনি-বাতাসা প্যাকেট করে বাড়ি দিয়ে আসার রীতিও ছিল আমাদের। এই সব ছোট ছোট রীতি আর স্মৃতির মধ্যেই গাঁথা ছিল আমাদের সরস্বতী পূজার দিনগুলো—যা আজও মনে পড়লে মন ভরে যায় এক গভীর, মধুর নস্টালজিয়ায়।

Channel-i-Tv-Live-Motiom

শেয়ারTweetPin1
পূর্ববর্তী

বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ, পয়েন্ট ভাগ

পরবর্তী

‘ঈদে যদি ভালো আটটি সিনেমা মুক্তি পায়, দর্শক সবগুলোই দেখবে’

পরবর্তী
চঞ্চল চৌধুরী হাসিমুখে দাঁড়িয়ে, কালো পোশাক পরা. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

‘ঈদে যদি ভালো আটটি সিনেমা মুক্তি পায়, দর্শক সবগুলোই দেখবে’

প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন

সর্বশেষ

মরিনহোর খুশির কারণ কী

আগস্ট ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আবিদা সুলতানার জন্মদিনে প্রকাশ পেল নতুন রোমান্টিক গান

আগস্ট ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মানলেই শত্রু, প্রতিবেশীদের ইরানের কঠোর বার্তা

আগস্ট ২৩, ২০২৬

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় গাইবেন এক পরিবারের ৩ জন

আগস্ট ২৩, ২০২৬

২৩ বছর অপেক্ষা? অন্তত এই বিষয়ে চান না শান্ত

আগস্ট ২৩, ২০২৬
iscreenads
চ্যানেল আই অনলাইন লোগো, বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংবাদ পোর্টাল. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: জাহিদ নেওয়াজ খান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
[email protected]
[email protected] (Online)
[email protected] (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • প্রচ্ছদ
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT