নন্দিত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও দেশের পাপেট শিল্প আন্দোলনের পথিকৃৎ মুস্তাফা মনোয়ার গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে সোমবার (২২ জুন) সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে যান সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী।
এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হয়।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই গুণী শিল্পীর শয্যাপাশে কিছু সময় কাটান সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি এবং প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি। তারা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে খোঁজ নেন।
এ সময় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মুস্তাফা মনোয়ারের চিকিৎসা ব্যয়ের সহায়তায় একটি আর্থিক অনুদানের চেক তাঁর পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেন মন্ত্রী।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশে যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, তাঁদের যেকোনো সংকটে পাশে দাঁড়াতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একইসঙ্গে বরেণ্য এই শিল্পীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়।
এর আগে গেল সপ্তাহে মুস্তাফা মনোয়ারের স্ত্রী মেরী মনোয়ার গণমাধ্যমকে জানান, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নিউমোনিয়ার ব্যাকটেরিয়াজনিত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে তিনি বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন আছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছর ধরেই নানা শারীরিক জটিলতার সঙ্গে লড়াই করছেন তিনি। ২০২৪ সালেও এক দফা গুরুতর অসুস্থ হয়ে লাইফ সাপোর্টে নিতে হয়েছিল তাঁকে। পরে অবস্থার উন্নতি হলেও সাম্প্রতিক নিউমোনিয়ার সংক্রমণ তাঁর শারীরিক অবস্থাকে আবারও জটিল করে তোলে।
বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতির ইতিহাসে মুস্তাফা মনোয়ার এক অনন্য নাম। শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও পরে তিনি হয়ে ওঠেন দেশের পাপেট শিল্পের অন্যতম অগ্রদূত। গ্রামবাংলার পুতুলনাচকে টেলিভিশনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। শিশু-কিশোরদের জন্য নির্মিত তাঁর নানা অনুষ্ঠান এখনও দর্শকের স্মৃতিতে উজ্জ্বল।
শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০০৪ সালে একুশে পদক এবং ২০১৮ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ‘সুলতান স্বর্ণপদক’ লাভ করেন।







