২০০৫ সালে টেস্ট অভিষেক হওয়া মুশফিকুর রহিম শততম টেস্টের দুয়ারে। সব ঠিক থাকলে বুধবার মিরপুরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট হতে চলেছে তার মাইলফলক। ২০ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে খেলেছেন অনেক কোচের অধীনে, যার অন্যতম ডেভ হোয়াটমোর ও চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। মুশফিকের অর্জন ছোঁয়ার আগে দুজনেই টানলেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটারের পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার কথা।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড। বুধবার ম্যাচ গড়াবে সকাল সাড়ে ৯টায়।
১৮ বছর আগে বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব ছেড়েছেন হোয়াটমোর। ৪ বছর সাকিব-তামিম-মুশফিকদের কোচ ছিলেন তিনি। বাংলাদেশের ক্রিকেটে অনেক সাফল্য এসেছে তার হাত ধরে, ২০০৭ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ সুপার এইটে পৌঁছায়। মুশফিকের মাইলফলকের আগে সাবেক শিষ্যের মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন তিনি।
হোয়াটমোর বলেছেন, ‘মুশফিক এমন একজন খেলোয়াড়, যিনি খুব ভালো জানতেন কী অর্জন করতে চান। সে লক্ষ্য অর্জনে ছিলেন শৃঙ্খলাবদ্ধ। তাকে সময়ের পরীক্ষায় টিকে থাকতে দেখে আমি খুবই খুশি। উত্থান-পতন-চোট, সবকিছু সামলে এগিয়ে গেছেন। ২০০৭ সালে চলে আসার পরেও তার ক্যারিয়ার অনুসরণ করেছি।’
মুশফিকের পাশাপাশি সাবেক শিষ্য সাকিব-তামিমকেও স্মরণ করেছেন হোয়াটমোর, ‘সাকিব আর তামিমের সঙ্গে তিনি দেশকে গর্বিত করেছেন। ওয়ানডেতেও দারুণ সফল হয়েছেন। তার স্লগ-সুইপ শট তো কিংবদন্তি।’
অন্যদিকে হাথুরুসিংহে দুই মেয়াদে ৪ বছর বাংলাদেশের কোচ ছিলেন। প্রথমে ২০১৪ থেকে ২০১৭, পরে ২০২৩ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত কোচ ছিলেন। তার অধীনে বাংলাদেশ ২০১৬ এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলে এবং ২০১৭ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন ট্রফির সেমিফাইনালে খেলে। তার কোচিংয়ের পুরোটাজুড়ে দলে ছিলেন মুশফিক।
সাবেক শিষ্যের শততম টেস্ট নিয়ে হাথুরুসিংহে বলেছেন, ‘মুশফিকুর রহিমের ১০০তম টেস্ট শুধু বাংলাদেশ ক্রিকেটের মাইলফলকই নয়, তারা উদযাপন করতে চলেছেন এমন একজন মানুষকে, যার অবদান পরিসংখ্যানের অনেক বাইরে। আমি দুই ভিন্ন সময়ে মুশফিককে কোচিং করানোর সুযোগ পেয়েছি, আর যা কখনও বদলায়নি তা হল তার অনড় পেশাদারিত্ব, নিবেদন এবং নেতৃত্ব।’
সবার মতো হাথুরুও মুশির পেশাদারিত্বের কথা বলেছেন, ‘মুশফিক অতিমাত্রায় যত্নশীল ক্রিকেটারদের একজন, যাদের সঙ্গে আমি কাজ করেছি। তার প্রস্তুতি বিশ্বমানের। নিয়মতান্ত্রিক এবং প্রতিটি দিনই একই ধারাবাহিকতায় কাটান। ঘরে মিরপুরে হোক কিংবা বিদেশের মাটিতে, কখনও নিজের মান কমাতে দেন না। আগে আসেন, কন্ডিশন পর্যবেক্ষণ করেন, এবং প্রতিটি সেশন অর্থবহ করে তোলেন। তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য তার পর্যবেক্ষণ এবং পেশাদারিত্ব শেখার মতো।’
মুশফিকের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন হাথুরুসিংহে, ‘তার কৌশল বা মানসিক দৃঢ়তার বাইরে সবচেয়ে বড় জিনিসটি হল তার চরিত্র। তিনি এমন একজন নেতা, যার উপর দল আস্থায় রাখে। তিনি কথায় নয়, কাজে নেতৃত্ব দেন। যখন কিছু বলেন, খেলোয়াড়রা শোনেন, সিনিয়রিটির কারণে নয়, বরং তারা জানে তিনি দলের জন্যই কথা বলছেন।’
মুশফিকের শততম টেস্ট বিশেষ কিছু বলছেন হাথুরুসিংহে, ‘১০০ টেস্ট যেকোনো ক্রিকেটারের জন্যই বিশাল অর্জন। তিনি বাংলাদেশকে এত গর্ব, বিনম্রতা এবং শৃঙ্খলার সঙ্গে প্রতিনিধিত্ব করেছেন যে, এটা তার জন্য বিশেষ। তার যাত্রা শুধু প্রতিভার গল্প নয়, নিরলস পরিশ্রম এবং খেলাটার প্রতি গভীর ভালোবাসার গল্প।’
মুশফিকে অভিনন্দন জানাতে ভোলেননি বাংলাদেশ দলে সাবেক কোচ, ‘এ ঐতিহাসিক মুহূর্তে তাকে শুধু সাবেক কোচ হিসেবে নয়, একজন মানুষ ও পেশাদার হিসেবে গভীর শ্রদ্ধা থেকে অভিনন্দন জানাই। বাংলাদেশ ক্রিকেট তার জন্য আরও সমৃদ্ধ হয়েছে। তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবেন। অভিনন্দন, মুশফিক। এই মর্যাদা তোমার প্রাপ্য।’







