জলবায়ু পরিবর্তনসহ বৈশ্বিক নানা সংকট মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ‘প্রকৃতিবন্ধু’ বীর মুক্তিযোদ্ধা মুকিত মজুমদার বাবু। তিনি বলেন, আজকের গাছই আগামীর ভবিষ্যৎ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে। শুধু রাস্তার পাশে বা খোলা জায়গায় নয়, বাড়ির আঙিনাতেও ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করতে হবে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের চৌকিঘাটা গ্রামে ‘বাড়ির আঙিনায় গাছের চারা রোপণ’ কর্মসূচি শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মুকিত মজুমদার বাবু এসব কথা বলেন।
স্থানীয় মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব ও পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ‘সবুজ হোক পৃথিবী, সুন্দর হবে আগামী’ স্লোগানে আয়োজিত কর্মসূচিতে যৌথভাবে যুক্ত ছিল প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন, সোসাইটি ফর এশিয়ান সার্কুলার ইনোভেশন এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। কর্মসূচির অংশ হিসেবে গ্রামের বিভিন্ন পরিবারের বাড়ির আঙিনায় ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়।
চারা রোপণের পর অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গাছ পরিবেশের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, মাটির ক্ষয় রোধ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সহায়তা করে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়ন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।

সমাবেশে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (অবসরপ্রাপ্ত) ড. বিজয় কৃষ্ণ বিশ্বাস ও ফরিদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আবুল খয়ের উদ্দিন মোল্লা বক্তব্য দেন। তাঁরা বাড়ির আঙিনার উপযোগী ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানোর পাশাপাশি গাছের নিয়মিত পরিচর্যার ওপর গুরুত্ব দেন।
ব্যাংক এশিয়ার অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সাব্বির হোসেন এবং সোসাইটি ফর এশিয়ান সার্কুলার ইনোভেশনের চেয়ারম্যান প্রীতি চক্রবর্তীও বক্তব্য দেন। তাঁরা বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ জরুরি। বাড়ির আঙিনায় একটি করে গাছ লাগানোর মতো ছোট উদ্যোগও সম্মিলিতভাবে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা ও বৈশ্বিক তাপমাত্রা সহনীয় রাখতে দেশজুড়ে সবুজবেষ্টনী গড়ে তোলার আহ্বান জানান মুকিত মজুমদার বাবু। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মানুষের জীবন ও প্রকৃতিতে পড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়ন বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।
ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের আহ্বান জানিয়ে মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, ‘আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, আমরা কী ধরনের গাছ লাগাচ্ছি। ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগালে পরবর্তী প্রজন্মও উপকৃত হবে। একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ সারা বছর প্রায় ১০ জন মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করে। একই সঙ্গে গাছ বায়ুদূষণ কমাতেও ভূমিকা রাখে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গাছের মধ্যে থাকলে জীবনও সুন্দর হয়। সবুজ আমাদের চোখ ও শরীর ভালো রাখে, মানসিক চাপ কমায় এবং আমাদের বেড়ে উঠতে সহায়তা করে। বনে যত গাছ থাকে, বাড়ির আঙিনাতেও যেন তার চেয়ে কম গাছ না থাকে। গাছ লাগানোর এ কর্মসূচি চলমান থাকবে।’
অন্যান্য বক্তারা বলেন, গাছ পরিবেশের পাশাপাশি একটি পরিবারেরও সম্পদ। ফলদ গাছ থেকে খাদ্য ও পুষ্টি পাওয়া যায়। বনজ ও ঔষধি গাছ মানুষের নানা প্রয়োজন মেটাতে ভূমিকা রাখে। তাই বাড়ির আঙিনায় জায়গা অনুযায়ী গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।
কর্মসূচি শেষে চৌকিঘাটা গ্রামের পরিবারগুলোর মধ্যে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। প্রতিটি পরিবারকে ১০টি করে চারা দেওয়া হয়। আয়োজকেরা জানান, বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে গ্রাম ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সবুজায়ন বাড়ানোই এ কর্মসূচির লক্ষ্য।








