সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের সংসদ সদস্য ভিপি মো. আয়নুল হকের গাড়িবহরে হামলা ও একটি গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রায়গঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ ওঠে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে রায়গঞ্জ পৌরসভার ধানগড়া আড়চালা এলাকায় টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) উপজেলা পরিষদের কাছাকাছি স্থাপনের দাবিতে আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা শেষে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সভা শেষে সংসদ সদস্য আয়নুল হক গাড়িবহর নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে তার গাড়িবহরে হামলা এবং একটি গাড়ির পেছনের কাচ ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।
সংসদ সদস্য আয়নুল হক দাবি করেন, নির্বাচনে পরাজিত একটি রাজনৈতিক পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক লাইভ বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছে এবং হামলাকারীদের হাতে অস্ত্র ছিল। বিষয়টি পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে সংসদ সদস্যের সঙ্গে থাকা পরিবেশ ও জলবায়ু কর্মী ফয়সল বিশ্বাস অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা হামলায় জড়িত ছিলেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর নেতারা। রায়গঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ডা. এস এম মুনসুর আলী বলেন, ঘটনার সময় তিনি সিরাজগঞ্জ শহরে ছিলেন। এ ঘটনার সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে নিজেরাই গাড়ি ভাঙচুর করে এর দায় জামায়াতের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে।
এনসিপির সিরাজগঞ্জ জেলা সমন্বয়ক মেহেদী হাসানও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার সঙ্গে তাদের দলের কোনো সম্পর্ক নেই। পুলিশ তদন্ত করলেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতারা দাবি করেন, অনুষ্ঠানে ফয়সল বিশ্বাসকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তিনি সেখানে গিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। পরে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী তাদের ওপর হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে আহত করেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার রাতে রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও চান্দাইকোনা ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের চান্দাইকোনা এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। সেখানে বক্তারা হামলার জন্য জামায়াত, ছাত্রশিবির, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের দায়ী করে তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
ঘটনার পর ধানগড়া ও চান্দাইকোনা এলাকায় পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভে উত্তেজনা দেখা দিলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল খালেক পাটোয়ারী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইদুল ইসলাম খান বলেন, ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হামলার ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, টিটিসি স্থাপনের স্থান নির্ধারণ এবং স্থানীয় সীমানা-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মতবিনিময় সভায় উত্তেজনার সূত্রপাত হতে পারে। তবে হামলার প্রকৃত কারণ এবং কারা এতে জড়িত, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।








