এমপি আনোয়ারুল আজিম হত্যায় অভিযুক্ত নেপালে পালিয়ে থাকা এক আসামিকে কোলকাতা সিআইডি হেফাজতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান।
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে গ্রেপ্তার জিহাদসহ কোলকাতা সিআইডির কাছে দুজন আসামী ধরা পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান৷
তিনি বলেন,”কোলকাতা সিআইডি এই হত্যামামলাটি তদন্ত করেছে। তাদের কাছে দু’জন আসামি আছে। একজনকে তারা নেপাল থেকে নিয়েছে। আরেকজনকে আগেই গ্রেপ্তার করেছে।”
নেপাল থেকে কোলকাতা সিআইডি কোন আসামি গ্রেপ্তার করেছে তার নাম উল্লেখ করেননি ডিএমপি কমিশনার। তবে আনোয়ারুল হত্যা মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন সিয়াম নেপাল পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন, এ তথ্য আগেই জানিয়েছিলেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ।
গত ৪ জুন নেপাল থেকে ফিরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সিয়াম নেপালে গ্রেপ্তার আছেন। তাকে ভারতীয় পুলিশও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিতে চায়। তাকে কোন দেশের হাতে দেয়া হবে তা নেপাল পুলিশের উপরে নির্ভর করছে।’
সংসদ সদস্য আনোয়ারুল হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত দুই দেশ মিলিয়ে মোট পাঁচজন আসামী গ্রেপ্তার আছে। এর মধ্যে তিনজন বাংলাদেশে। বাকি দুইজন কোলকাতায়৷ বাংলাদেশে গ্রেপ্তাররা হলেন, আমানুল্লা সাঈদ ওরফে শিমুল ভুঁইয়া ওরফে শিহাব ওরফে ফজল মোহাম্মদ ভুঁইয়া, তানভীর ভুঁইয়া ও শিলাস্তি রহমান। ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছেন জিহাদ ও আরেকজন।
ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদের নেতৃত্বে একটি দল সম্প্রতি কলকাতায় যায়। গত ২৮ মে বিকেলে কলকাতার নিউটাউনের সঞ্জীবা গার্ডেনের সেপটিক ট্যাংক থেকে প্রায় ৪ কেজি মাংসের টুকরা উদ্ধার করে ডিবি ও কলকাতা সিআইডির যৌথ দল। সে সময় ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে এটি আনোয়ারুল আজিমের দেহাবশেষ। ফরেনসিক টেস্টের মাধ্যমে পরে জানা যাবে এটি তার দেহাংশ কিনা।
আনোয়ারুল আজিম আনার ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মধুগঞ্জ বাজার এলাকায়। পেশায় ব্যবসায়ী আনোয়ারুল আজিম আনার আওয়ামী লীগের কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক।
ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে পরপর তিনবার আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি।







