গান, আবৃত্তি এবং সশ্রদ্ধ স্মৃতিচারণের মাধ্যমে উদীচীর সাবেক সভাপতি, দেশবরেণ্য বুদ্ধিজীবী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক অধ্যাপক যতীন সরকারকে স্মরণ করলো বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।
অধ্যাপক যতীন সরকার-এর প্রথম প্রয়াণবার্ষিকীতে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর পুরানা পল্টনের কমরেড মণিসিংহ-ফরহাদ স্মৃতি ট্রাস্টের মিলনায়তনে স্মরণসভা আয়োজন করে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদ। স্মরণসভার শুরুতে অধ্যাপক যতীন সরকার-এর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের নেতৃবৃন্দ।
এরপর তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’ গানটি সমবেত কণ্ঠে পরিবেশন করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংগীত বিভাগের শিল্পীরা।
এরপর উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম-এর সভাপতিত্বে শুরু হয় আলোচনা পর্ব। এ পর্বে অধ্যাপক যতীন সরকার-এর জীবন, আদর্শ ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম সিদ্দিক রানা, উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি প্রবীর সরদার, উদীচীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে, সহ-সাধারণ সম্পাদক সঙ্গীতা ইমাম, কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য নিবাস দে এবং বিমল মজুমদার।
আলোচনা সভায় উদীচীর সাধারণ সম্পাদক বলেন, “১৯৬০ এর দশকে ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক অঙ্গণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন অধ্যাপক যতীন সরকার। তিনিসহ কয়েকজন প্রগতিশীল ব্যক্তিত্ব একত্রিত হয়ে ময়মনসিংহে উদীচীর যাত্রা শুরু করেন। তার নেতৃত্বেই পুরো জেলায় উদীচীর কার্যক্রম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৮০-এর দশক থেকেই অধ্যাপক যতীন সরকার উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০৩ সালে উদীচীর সভাপতি নির্বাচিত হন। টানা দুই মেয়াদে দাযিত্ব পালনের পর ২০০৮ সালে সভাপতি পদ থেকে বিদায় নেন তিনি।”
অমিত রঞ্জন দে আরো বলেন, “সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অবসর নেয়ার পরও আমৃত্যু তিনি উদীচীর আদর্শিক লড়াই-সংগ্রামের অন্যতম পথপ্রদর্শক হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। যেকোন সংকটে বা সংগ্রামে দেশ ও বিদেশে উদীচীর হাজারো শিল্পী-কর্মীর অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেছেন অধ্যাপক যতীন সরকার”।
উদীচীর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম বলেন,“অধ্যাপক যতীন সরকার আজীবন সামাজিক নিপীড়ন, বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ সাম্যবাদী, অসাম্প্রদায়িক, মৌলবাদমুক্ত দেশ গঠনে সচেষ্ট থেকেছেন। তিনি মনে করতেন, সমাজ থেকে দুর্নীতি, অবিচার, বৈষম্য ইত্যাদি দূর না হওয়া পর্যন্ত দারিদ্র্য কমিয়ে আনা যাবে না। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন করা বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা উচিত বলে মনে করতেন অধ্যাপক যতীন সরকার”। তিনি আরো বলেন, “অধ্যাপক যতীন সরকার-এর দেখানো পথেই কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের মুক্তির সংগ্রাম এবং সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যাবে উদীচী”।
আলোচনা পর্বের পর একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য শিখা সেন গুপ্তা। একক সংগীত পরিবেশন করেন বিজয় বণিক। উদীচী কেন্দ্রীয় সংগীত বিভাগের শিল্পীদের “তোমার অসীমে প্রাণমন লয়ে” গানটি সম্মেলক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় স্মরণসভার কার্যক্রম। পুরো আয়োজনটি সঞ্চালনা করেন উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের সাধারণ সম্পাদক কংকন নাগ।










