ডেঙ্গু, জিকা ভাইরাস, ইয়েলো ফিভারের মতো মশাবাহী রোগ নিয়ে কাজ করা সংস্থা ওয়ার্ল্ড মসকিউটো প্রোগ্রামের গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, উয়োলবাখিয়া ব্যাকটেরিয়া মশার কামড় ডেঙ্গুর প্রভাব কমাতের পারে।
গত অক্টোবরে এক পরীক্ষায় এমনটির প্রমাণ পাওয়া গেছে। পরীক্ষায় দেখা গেছে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক এডিস মশার রোগ ছড়ানোর ক্ষমতাকে কমাতে পারে উয়োলবাখিয়া ব্যাকটেরিয়া। ডয়েচে ভেলে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
এই পরীক্ষার অংশ হিসেবে প্রথম ২০১৫ সালে ব্যাকটেরিয়াযুক্ত মশাগুলোকে প্রথমে পরীক্ষামূলক ভাবে কলম্বিয়ার বেলো শহরে ছাড়া হয়। পরে মেডেয়িন ও ইটাগুয়া শহরেও ছড়ানো হয় এই মশা। এর আগেও ব্যাকটেরিয়াযুক্ত মশা ছড়ানো হয়েছিল বিশ্বের অন্যান্য জায়গাতে।
২০২২ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যে এই গবেষণা থেকে জানা যায় যে, বেলো ও ইটাগুয়ার প্রায় ৮০ শতাংশ মশা উয়োলবাখিয়াযুক্ত মশাদের থেকে সংক্রামিত হচ্ছে। মেডেয়িনের জন্য এই হার ৬০ শতাংশ।
জানা যায়, এই পরীক্ষা চালানোর শুরুর সময়ে, অর্থাৎ দশ বছর আগের ডেঙ্গু সংক্রমণের সংখ্যা থেকে পরীক্ষা চালানোর পর সংক্রমণের হার ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। মেডেয়িনে একটি নির্দিষ্ট কেসভিত্তিক নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষা করা হয়। সেখানেও ব্যাকটেরিয়াযুক্ত মশার সাথে ডেঙ্গু কমতে দেখা গেছে যা ছিল ৪৭ শতাংশ।
গবেষকরা বিশ্বাস করেন, এই গবেষণার ফলাফল পরবর্তী চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন আলোকপাত করবে।
ব্রাজিলের জীববিজ্ঞানী রাফায়েল মাসিয়েল দে ফ্রাইটাসের মতে, যেহেতু ডেঙ্গুর প্যাথোজেন সময়ের সাথে সাথে বিবর্তিত হতে পারে৷ ফলে একটা সময়ের পর তারা উয়োলবাখিয়া ব্যাকটেরিয়ার প্রভাব কাটিয়ে ফেলার ক্ষমতাও অর্জন করে নিতে পারে।
তিনি বলেন, আমি বলবো না, উয়োলবাখিয়া পন্থা ডেঙ্গুর আজীবনের সমাধান। কিন্তু এটি একটি সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।







