চ্যানেল আইয়ের প্রধান কার্যালয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেতা প্রবীর মিত্রকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। এদিন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর পর দুপুর ২টার দিকে তার মরদেহ চ্যানেল আইয়ের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
দুপুর ২টা ১০ মিনিটে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে জানাজা সম্পন্ন হয় অসংখ্য কালজয়ী ও জনপ্রিয় সিনেমার এই অভিনেতার। চ্যানেল আই চত্বরে তার জানাজায় অংশ নেন সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষেরা।
শেষবারের মতো গুণী এই অভিনেতাকে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল আইয়েল পরিচালক জহির উদ্দিন মাহমুদ মামুন, খায়রুল আলম সবুজ, সংগীতশিল্পী খুরশেদ আলম, ফুয়াদ নাসের বাবু, মিশা সওদাগরসহ প্রবীর মিত্রের পরিবারের সদস্য, চ্যানেল আইয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দসহ সিনেমার পরিচিত মুখ।
জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে শোক-সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি চ্যানেল আইয়ের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানানো হয়।
জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর চ্যানেল আই থেকে প্রবীর মিত্রের মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি আজিমপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। সেখানে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন এই অভিনেতা।
১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট কুমিল্লার চান্দিনায় জন্মগ্রহণ করেন প্রবীর মিত্র। তার পুরো নাম প্রবীর কুমার মিত্র। পুরান ঢাকায় বড় হওয়া প্রবীর মিত্র স্কুলজীবন থেকেই নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত হন।
স্কুলজীবনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ডাকঘর’ নাটকে অভিনয় করেছিলেন প্রবীর মিত্র। পরবর্তীতে পরিচালক এইচ আকবরের হাত ধরে ‘জলছবি’ নামে একটি চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়েছে বড়পর্দায় তার অভিষেক হয়। মূলত এ ছবিতে কাজের ব্যাপারে তার বন্ধু এটিএম শামসুজ্জামানই তাকে সহযোগিতা করেছিলেন। ১৯৪০ সালে পুরনো ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী প্রবীর মিত্র স্কুলজীবন থেকেই নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত হন।
‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘চাবুক’-এর মতো সিনেমায় নায়কের ভূমিকায় দেখা গেছে প্রবীর মিত্রকে। এছাড়া ‘রঙিন নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ সিনেমায় মূখ্য চরিত্রে ছিলেন তিনি। এ কারণেই অনেকে তাকে ঢাকাই সিনেমার ‘রঙিন নবাব’ বলে ডাকেন।
তার অভিনীত অনান্য উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলো হচ্ছে- জীবন তৃষ্ণা, সীমার, তীর ভাঙা ঢেউ, প্রতিজ্ঞা, অঙ্গার, পুত্রবধূ, নয়নের আলো, চাষীর মেয়ে, দুই পয়সার আলতা, আবদার, নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ ইত্যাদি।অনলাইন ফিল্ম স্ট্রিমিং পরিষেবা
কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ ১৯৮২ সালে মহিউদ্দিন পরিচালিত ‘বড় ভালো লোক ছিলো’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান প্রবীর মিত্র। আর ২০১৮ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে তাকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়।








