অল্প দিনেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ নাম করেছিলেন মিশা আগারওয়াল। তার বানানো কন্টেন্ট দেখে নিজেদের সঙ্গে বেশ মিল পেতেন নেটিজেনরা। মজাও পেতেন। লাইক শেয়ার তো ছিলোই! কিন্তু সব শেষ হয়ে যায় মুহূর্তে! ২৬ এপ্রিল ছিলো মিশার ২৫তম জন্মদিন, কিন্তু ঠিক তার দু’দিন আগে (২৪ এপ্রিল) মৃত্যু হয় তার।
শুরুতে তার মৃত্যুর কারণ জানায়নি পরিবার। কী হয়েছিলো এই কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের, এমন প্রশ্ন ছিলো বহু ফলোয়ারেরও! বুধবার (৩০ এপ্রিল) প্রকাশ্যে এল মিশা আগারওয়ালের মৃত্যুর কারণ।
মিশার বোন মুক্তা ইনস্টাগ্রামে দীর্ঘ এক পোস্টে জানিয়েছেন, মিশা আত্মহত্যা করেছেন। গত কিছু দিন ধরেই তিনি অবসাদে ভুগছিলেন। আর এর নেপথ্যে ছিল ইনস্টাগ্রাম!
এমন খবরে রীতিমত চমকে উঠেছে সচেতন সমাজ। মিশার বোন মুক্তা বলছেন, ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার্স সংখ্যা কমতে শুরু করায় বেশ কিছু দিন ধরেই মিশা হতাশায় ডুবে যাচ্ছিলেন। এই আইডিতে ১ মিলিয়ন ফলোয়ার সংগ্রহ করার বিষয়ে চাপে ছিলেন!
মিশার ওয়ালপেপারের স্ক্রিনশট শেয়ার করে মুক্তা লেখেন, তার ফোনের ওয়ালপেপার সব বলে দেয়। তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। মৃত্যুর সময় মিশার প্রায় সাড়ে তিন লাখ ফলোয়ার ছিল, ১০ লাখের মাইলফলক স্পর্শ করার উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল, যা তার ওয়ালপেপারেও দেখা যাচ্ছিল।
মুক্তা লিখেন,“আমার ছোট বোন ইনস্টাগ্রাম এবং তার অনুসরণকারীদের চারপাশে তার বিশ্ব তৈরি করেছিল, যার একমাত্র লক্ষ্য ছিল ১মিলিয়ন অনুসারীর (ফলোয়ার) কাছে পৌঁছানো। কিন্তু ক’দিন ধরে উল্টো যখন তার অনুসারীদের সংখ্যা কমতে শুরু করে, তখন তিনি বিচলিত হয়ে পড়েন এবং নিজেকে মূল্যহীন ভাবতে শুরু করেন।”
View this post on Instagram
মুক্তা এদিন বলেন, “এপ্রিল মাস থেকে মিশা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। প্রায়ই তার কাছে এসে কান্নাকাটি করতেন। বলতেন, ‘আমার ফলোয়ার কমে গেলে আমি কী করব? আমার ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে।’ আমি তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেছি, ব্যাখ্যা করেছি যে এটি তার পুরো পৃথিবী নয়, এটি কেবল একটি পার্শ্ব কাজ, এবং যদি এটি কার্যকরী না হয় তবে এটাই শেষ নয়। আমি তাকে তার প্রতিভা, তার এলএলবি ডিগ্রি এবং পিসিএসজে-র জন্য তার প্রস্তুতির কথাও মনে করিয়ে দিয়েছিলাম। তাকে বলেছিলাম যে তিনি একদিন বিচারক হবেন এবং তার ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করার দরকার নেই।”
মুক্তা তাকে ইনস্টাগ্রামকে নিছক বিনোদন হিসাবে দেখার এবং যেন এটি তাকে গ্রাস করতে না পারে সেই পরামর্শ দিয়েছিলেন। মুক্তা বলেন,“দুর্ভাগ্যক্রমে আমার ছোট বোন শোনেনি এবং সোশাল মিডিয়ার দ্বারা এতটাই গ্রাস হয়ে গিয়েছিল যে সে চিরতরে আমাদের পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে।” পোস্টের শেষে মুক্তা স্পষ্টভাবে জানান, আত্মহত্যা করেছেন মিশা। বললেন,“ও এতটাই অভিভূত হয়ে পড়েছিল যে নিজের জীবন নিয়ে নিল। আমাদের পরিবারকে বিধ্বস্ত করে রেখে দিয়ে চলে গেল।”
মিশার বাবা-মা যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, “ইনস্টাগ্রাম এবং ভিডিও তৈরি করা ছিল আমাদের মেয়ের জগৎ। ফলোয়ার্স সংখ্যা ১ মিলিয়ন হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিল মেয়ে। কিন্তু আচমকা ফলোয়ার বাড়ার চেয়ে কমে যাচ্ছিল। যে কারণে মেয়ে চুপচাপ হয়ে গিয়েছিল। এক দিন কান্নাকাটিও করে।”
মিশার আত্মহত্যার খবর ভারতে বেশ আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। বলিউডের মেধাবী অভিনেত্রী তাপসী পান্নু এ বিষয়ে কথা বলেন। তিনি কনটেন্ট ক্রিয়েটর মিশা আগারওয়ালের অকাল মৃত্যুর খবরে গভীর শোক প্রকাশ করেন। সেই সাথে তাপসী মানুষকে অনুরোধ করেছেন যেন তারা ভাবেন—কীভাবে ভার্চুয়াল জীবন কিংবা ফলোয়ার প্রাপ্তির আকাঙ্খা বাস্তব জীবনের আত্ম-মূল্যবোধকে ছাপিয়ে যাচ্ছে।
বুধবার নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে এই হৃদয়বিদারক ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তাাপসী একটি শক্তিশালী বার্তা দেন। যেখানে তিনি অনলাইনে জনপ্রিয়তা পাওয়ার তাগিদে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর যে প্রভাব পড়ছে, সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
তিনি লেখেন, “আমি অনেকদিন ধরেই এই জিনিসটা নিয়ে ভয় পাচ্ছিলাম। অনেক মানুষ ভার্চুয়াল জনপ্রিয়তা কিংবা ফলোয়ার্স-এর সংখ্যার প্রতি এতটাই আসক্ত যে, ভয় হয়—একদিন এই সংখ্যা জীবনের প্রতি ভালোবাসাকে হার মানিয়ে দেবে।”
“ভয় হয়, এই ভার্চুয়াল ভালোবাসায় মরিয়া মানুষকে চোখে দেখতে দেবে না তার চারপাশের বাস্তব ভালোবাসাকে। এই দ্রুত পাওয়া প্রশংসা আর স্বীকৃতি ‘লাইক’ আর ‘কমেন্ট’-এর মাধ্যমে আমাদের প্রকৃত মূল্যবোধকে ছাপিয়ে যাবে। এটা সত্যিই হৃদয় ভেঙে দেয়।” লিখেন ডাংকি খ্যাত এই তারকা অভিনেত্রী। -টাইমস অব ইন্ডিয়া







