ম্যাচ প্রায় হাতছাড়া হয়ে গেছিল চিটাগং কিংসের। বন্দরনগরীর দলটির আশা টিকিয়ে রাখে আলিস। শেষ ওভারে চোট পেয়ে বেরিয়েও যান মাঠের বাইরে। শেষ বলে আবার ফিরেন। জয়ের জন্য চিটাগংয়ে দরকার ১ বলে চার রান। আলিস আল ইসলাম সেটা করলেন, এক্সট্রা কভার অঞ্চল দিয়ে আদায় করে নিলেন বাউন্ডারি। তাতে খুলনা টাইগার্সকে ২ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে মোহাম্মদ মিঠুনের দল।
১৭তম ওভারের শেষ বলে দলীয় ১৩০ রানে মোহাম্মদ মিঠুনের উইকেট হারানোর পর জয়ের আশা থমকে যায় চিটাগংয়ের। জয়ের জন্য দরকার ছিল ১৮ বলে ৩৪ রান। কাগজে-কলমে আর কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যাটার নাই। ক্রিজে আরাফাত সানি ও আলিস আল ইসলাম, দুজনেই বোলার। ১৮তম ওভারের তৃতীয় বলে স্ট্রাইকে যান আলিস। তার মোকাবেলা করা প্রথম বলটি ছিল ওয়াইড। জেসন হোল্ডারের পরের বল ব্যাটেই লাগাতে পারেননি আলিস। ওভারে চতুর্থ বলে ছক্কা হাঁকান, এর পরের বলে চার। শেষ বলে সিঙ্গেল নিয়ে স্ট্রাইক নিজের কাছে নিয়ে নেন।
শেষ দুই ওভারে চিটাগংয়ে দরকার ২১ রান। ১৯তম ওভারে হাসান মাহমুদের বিপক্ষে কেবল ৬ রান তুলতে পারেন আলিস ও আরাফাত। সমীকরণ দাঁড়ায় ৬ বলে ১৫ রান। শেষ ওভারে মুশফিক হাসান কে বলে আনেন মিরাজ। প্রথম বলে চার মারেন সানি, দ্বিতীয় বলে দৌঁড়ে দুই রান নেন। তৃতীয় বলে এক রান নিলেও দৌড়ে রান নিতে গিয়ে পড়ে যান আলিস। খোঁড়াতে-খোঁড়াতে চলে যান মাঠের বাইরে। তখন সমীকরণ তিন বলে ৮ রান। ক্রিজে আসেন শরিফুল, প্রথম বলেই চার আদায় করে চিটাগংয়ের জয়ের সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখেন। কিন্তু পরের বলেই শর্ট থার্ডম্যানে হোল্ডারের হাতে ক্যাচ দেন শরিফুল। সমীকরণ জিততে এক বলে চার রান। আবার মাঠে আসেন আলিস, ভরসার প্রতিদানও দিলেন। মুশফিক হাসানের স্লোয়ারে চার মেরে চিটাগংকে ফাইনালে ওঠান আলিস। দুই চার ও এক ছক্কায় ৭ বলে ১৭ রান করেন আলিস। ১৩ বলে ১৮ রান করেন আরাফাত সানি।
এক যুগ পর বিপিএলে ফিরে দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠেছে চিটাগং কিংস। এর আগে ২০১৩ সালে ফাইনাল খেলেছিল তারা। সেবার অবশ্য ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের কাছে হেরে শিরোপা বঞ্চিত হয় দলটি।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে হেরে আগে ব্যাটে নামে খুলনা। নির্ধারিত ওভার শেষে ৬ উইকেটে ১৬৩ রানের সংগ্রহ গড়ে খুলনা। জবাবে নেমে ইনিংসের শেষ বলে জয় নিশ্চিত করে চিটাগং।
চিটাগং ব্যাটাররা অবশ্য খুলনা বোলারদের সামনে সুবিধা করতে পারেননি। গ্রাহাম ক্লার্ক ও পারভেজ হোসেন ইমনের ব্যার্থতার পর হাল ধরেন খাজা নাফি ও হোসাইন তালাত। ৪৮ বলে ৭০ রানের জুটি গড়েন দুজনে। ৫টি চার ও এক ছক্কায় ২৫ বলে ৪০ রান করে তালাত ফিরে গেলে জুটি ভাঙে। ফিফটি করে ফিরে যান নাফি। চারটি চার ও তিন ছক্কায় ৪৬ বলে ৫৭ রান করেন পাকিস্তান ব্যাটার। এরপর দ্রুতই তিন ব্যাটারকে হারায় দলটি। আর পরে আরাফাত সানিকে নিয়ে মহাকাব্য রচনা করেন আলিস।
খুলনার হয়ে মুশফিক হাসান ও হাসান মাহমুদ তিনটি করে উইকেট নেন। নাসুম আহেমেদ নেন দুই উইকেট।
এর আগে ব্যাটে নেমে খুলনা ১১ রানে দুই উইকেট হারায়। ব্যর্থ হয়ে ফিরে যান মেহেদী হাসান মিরাজ ও অ্যালেক্স রোস। ৪২ রানের মধ্যে আরও দুই ব্যাটারকে হারায় দলটি। নাঈম শেখ ১৯ রান এবং আফিফ হোসেন ৮ রান করে ফিরে যান। পরে হাল ধরেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ও শিমরন হেটমায়ার। পঞ্চম উইকেট জুটিতে ৫০ বলে ৭৩ রান যোগ করেন দুজনে।
১৭.১ ওভারে তিন ছক্কা ও এক চারে ৪১ রান করে ফিরে যান অঙ্কন। তার আগে পাঁচটি চার ও তিন ছক্কায় ২৯ বলে ফিফটি করেন হেটমায়ার। ফিরে যান দলীয় ১৪৬ রানে। ছয়টি চার ও চারটি ছক্কায় ৩৩ বলে ৬৩ রান করেন ক্যারিবীয় তারকা। শেষ দিকে জেসন হোল্ডার একটি করে চার ও ছক্কায় ৫ বলে ১২ রান করে খুলনার সংগ্রহ পৌঁছান ১৬৩ রানে। এছাড়া মোহাম্মদ নাওয়াজ ২ বলে ৫ রান করেন।
চিটাগংয়ের হয়ে বিনুরা ফের্নান্দো ২ উইকেট নেন। এছাড়া শরিফুল ইসলাম, আলিস আল ইসলাম, খালেদ আহমেদ ও আরাফাত সানি নেন একটি করে উইকেট।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ফাইনালে ফরচুন বরিশালের মুখোমুখি হবে চিটাগং। প্রথম কোয়ালিফায়ারে চিটাগংকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে বরিশাল। সন্ধ্য সাতটায় গড়াবে ফাইনাল মহারণ।








