রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ কক্সবাজারের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় লাখ লাখ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। মাত্র একদিনের ব্যবধানে পাহাড় ধ্বসে ৮ রোহিঙ্গাসহ মারা গেছে ১২ জন।
শুক্রবার ২১ জুন তার মধ্যে কক্সবাজার শহরের বাদশারঘোনা এলাকায় মারা গেছে স্বামী-স্ত্রী। প্রশাসন বলছে তারা পাহাড়ে বসবাসকারীদের সবসময় সতর্ক করেন।
কক্সবাজারের ৭ উপজেলা ও উখিয়া এবং টেকনাফের ৩৩ টি আশ্রয় শিবিরে পাহাড়ে জীবনের যুগ নিয়ে বসবাস করছে রোহিঙ্গাসহ লাখ লাখ মানুষ। কক্সবাজার সদর, ঈদগাঁও , মহেশখালী ,উখিয়া এবং টেকনাফে সবচেয়ে বেশি পাহাড়ে বসবাসকারী।
জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে উপকূলীয় এলাকার মানুষগুলো স্বল্পমূল্যে পাহাড়ের ঢালু ও টিলাতে সরকারি খাস জমি ক্রয় করে বসবাস শুরু করে। সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সংখ্যা বেড়েই চলছে। আর প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম আসলেই ঘটে পাহাড় ধ্বসের ঘটনা। ঘটে প্রাণহানি। এরপর কিছুদিন প্রশাসন তৎপর থাকলে ও পরে বন্ধ হয়ে যায়। ফের মানুষগুলো পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন করে বসবাস করে। পাহাড়ের বিভিন্ন অংশ কেটে সেখানে মানুষদের বসতি গড়ে তোলার হার বেড়েই চলছে। তার সাথে যোগ হয়েছে উখিয়া টেকনাফের ৩৩ টি আশ্রয় শিবিরের পাহাড়ে বসতি রোহিঙ্গাদের।
বুধবার উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প পাহাড় ধ্বসের ঘটনায় ৮ রোহিঙ্গা ও দুই জন স্থানীয় বাসিন্দা মারা গেছে। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে আজ শুক্রবার ভোরে কক্সবাজার শহরেই মারা গেছে ঘুমন্ত স্বামী-স্ত্রী। এরপর চারিদিকে কান্নার রোল, হাহাকার। স্বজনপাড়া মানুষগুলো দিশাহারা। নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা বলেন কিভাবে পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটে। অনেকে বলছেন তারা বিপদ জেনেও কোন উপায় না থাকায় এখানে বসবাস করছে।
পাহাড় ধসে নিহত আনোয়ার হোসেনের মা বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোতে অনেক মানুষের বসতি। সেখানে পাহাড়ের পাদদেশে ও ডালোতে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে অনেকেই।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঝুঁকিতে থাকাদের অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
কক্সবাজার পৌরসভা প্যানেল মেয়র হেলাল উদ্দিন কবির বলেন, কক্সবাজার পৌরসভার পক্ষ থেকে মাইকিংসহ পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে নিয়ে বসবাসকারীদের সতর্ক করার পাশাপাশি কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার কথা জানেন পৌর কর্তৃপক্ষ।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিভীষণ কান্তি দাশ বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ে বসবাসকারীদের সতর্ক করার পাশাপাশি ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান এ কর্মকর্তা। কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন স্থানে ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প পাহাড়ের জুঁকে নিয়ে বসবাসকারীদের জন্য স্থায়ী সমাধানের কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।








