ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সরকার গঠনের প্রস্তুতির মধ্যেই তারেক রহমানের ধারাবাহিক দুটি সৌজন্য সাক্ষাৎ রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্ন এক বার্তা দিয়েছে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এক সন্ধ্যাতেই তিনি গেছেন শফিকুর রহমান এবং পরে নাহিদ ইসলামের বাসায়। ক্ষমতায় যাওয়ার প্রাক্কালে এমন পদক্ষেপকে অনেকেই প্রতীকী ও কৌশলগত দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা রোধে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আশ্বস্ত করেছেন বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ রোববার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটের দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জামায়াতের আমিরের বাসায় যান। এর ঠিক আধা ঘণ্টা পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ পোস্ট দেন শফিকুর রহমান।
সেখানে জামায়াতের আমির লেখেন, ‘আমাদের আলোচনায় তিনি (তারেক রহমান) আশ্বস্ত করেছেন যে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা এবং বিরোধী দলের কর্মী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যেকোনো হামলা রোধে তিনি কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। আমি এ আশ্বাসকে সাধুবাদ জানাই। আমাদের প্রত্যাশা, কোনো নাগরিকই যেন ভয়ভীতি বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হয়।’
অন্যদিকে নাহিদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ তরুণ ও বিকল্পধারার রাজনীতির প্রতিও এক ধরনের বার্তা বহন করে। নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং সম্ভাব্য মতপার্থক্য সত্ত্বেও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা, এ দুটো বিষয় এখানে প্রতিফলিত হতে পারে।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নাহিদের বাসার ড্রয়িং রুমে তারেক রহমান ও নাহিদ ইসলামের সাক্ষাৎ হয়। এ সময় এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য নির্বাচিত আখতার হোসেন এবং দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম নাহিদের সঙ্গে ছিলেন। প্রথমেই তারেক রহমানকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান নাহিদ। এরপর শহীদ আনাসের ফ্রেমে বাঁধা সেই মর্মস্পর্শী চিঠি তারেক রহমানকে উপহার দেন তিনি। এনসিপির দলীয় প্রতীক শাপলা কলির একটি স্টিলের তৈরি প্রতিকৃতিও বিএনপির চেয়ারম্যানকে উপহার দেন নাহিদ ইসলাম। পরে দুজন বসে আলোচনা শুরু করেন।
আলোচনা শেষে রাত সোয়া নয়টার দিকে নাহিদের বাসা থেকে বের হয়ে যান তারেক রহমান। বাইরে সাংবাদিকেরা থাকলেও তিনি কারও সঙ্গে কথা বলেননি। তারেক রহমান চলে যাওয়ার পর নাহিদের বাসার নিচে সংবাদ সম্মেলন করেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেন, ‘জনাব তারেক রহমান ও জনাব নাহিদ ইসলাম আজকে সৌজন্য সাক্ষাতে একত্রে বসেছেন। নির্বাচনে কয়েকটি আসনের ফলাফল নিয়ে এনসিপির প্রশ্ন থাকলেও তারেক রহমান যে রাজনৈতিক সৌজন্যবোধের জায়গা থেকে নাহিদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন, এই রাজনৈতিক সৌজন্যতা এবং তাঁর জয়ী হয়ে আসাকে আমরা অভিনন্দন জানাই। নিজেদের মধ্যে মতভিন্নতা সত্ত্বেও আমরা কীভাবে একত্রে দেশের জন্য কাজ করতে পারি, সে বিষয়ে আমরা কথা বলেছি। সংস্কারের প্রশ্নকে কীভাবে সুরাহা করা যায় এবং বিচারের প্রশ্ন নিয়েও আমরা কথা বলেছি।’








