বিশ্বসংগীতের ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল এবং আলোচিত নক্ষত্র মাইকেল জ্যাকসন। তার মৃত্যু হয়েছে এক দশকেরও বেশি সময় আগে, কিন্তু তার জনপ্রিয়তা এতটুকু কমেনি। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মুক্তি পেয়েছে তার জীবনীনির্ভর চলচ্চিত্র ‘মাইকেল’। মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিস এবং সোশ্যাল মিডিয়া-সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রে এই সিনেমা।
জানা গেছে, মুক্তির প্রথম দিনেই বিশ্বজুড়ে ৮২ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ছবিটি উদ্বোধনী সপ্তাহান্তেই ২০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করবে, যা এই বছরের যেকোনো লাইভ-অ্যাকশন চলচ্চিত্রের জন্য একটি রেকর্ড এবং ইতিহাসের যেকোনো বায়োপিকের জন্য সেরা সূচনা।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিশ্বব্যাপী ছবিটি মুক্তি পায় এবং বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পেইড প্রিভিউ দেখানো হয়। নির্মাতাদের মতে, ছবিটি পেইড প্রিভিউ থেকে ১৩ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে।
বক্স অফিস মোজো জানিয়েছে, উত্তর আমেরিকায় প্রথম দিনে এর আয় হয়েছে ৩৯ মিলিয়ন ডলার, যা যেকোনো বায়োপিকের জন্য এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ এবং ওপেনহাইমারের ৩৩ মিলিয়ন ডলারের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। বিদেশে ছবিটি ৩০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। যার ফলে প্রথম দিন শেষে এর বিশ্বব্যাপী মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৮২ মিলিয়ন ডলার।
বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে একটি বায়োপিকের জন্য এটি সর্বকালের সেরা সূচনা। যা ওপেনহাইমার এবং বোহেমিয়ান র্যাপসোডি-র সূচনাকেও ছাড়িয়ে গেছে, যে দুটিই ৮০ মিলিয়ন ডলারের অঙ্ক অতিক্রম করতে ব্যর্থ হয়েছিল।
ডেডলাইনের মতে, এই মিউজিক্যাল বায়োপিকটি উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে সপ্তাহান্তে ৯০-৯৫ মিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে, যা বায়োপিকের জন্য আবারও একটি সম্ভাব্য নতুন রেকর্ড। এটি ওপেনহাইমার (৮২ মিলিয়ন ডলার) এবং স্ট্রেট আউটা কম্পটন (৬১ মিলিয়ন ডলার)-কে ছাড়িয়ে যাবে।
সিনেমাটির সবচেয়ে বড় চমক হলো স্বয়ং মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তার আপন ভাতিজা জাফর জ্যাকসন। ট্রেলার মুক্তির পর থেকেই জাফরকে দেখে নেটিজেনরা চমকে গিয়েছিলেন। তার হাঁটাচলা, নাচের ভঙ্গি এবং কণ্ঠস্বরের মধ্যে মাইকেল জ্যাকসনের হুবহু প্রতিচ্ছবি খুঁজে পেয়েছেন দর্শকরা। সমালোচকদের মতে, নিজের চাচাকে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে জাফর যে কঠোর পরিশ্রম করেছেন, তা প্রতিটি দৃশ্যে স্পষ্ট।
পরিচালক অ্যান্টোনি ফুকুয়া এই বায়োপিকে কেবল মাইকেলের সাফল্য বা ঝলমলে জীবন দেখাননি। বরং শৈশবে তার সংগ্রামের গল্প, ‘জ্যাকসন ফাইভ’ ব্যান্ডের উত্থান, বর্ণিল স্টেজ পারফরম্যান্সের পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত জীবনের বিতর্ক এবং নিঃসঙ্গতাকেও সাহসের সাথে ক্যামেরাবন্দি করেছেন। মাইকেলের জীবনের না বলা অনেক গল্প এই সিনেমার মাধ্যমে উঠে এসেছে।








