আর্জেন্টিনার রোজারিওর গ্রান্দোলি ক্লাবের মাঠ। ম্যাচের জন্য কোচের হাতে খেলোয়াড় কম, এগারো জনের দল সাজাতে পারছেন না। তখন গ্যালারিতে বসা এক নারী তার নাতিকে হাত ধরে নিয়ে এলেন। ছেলেটার বয়স চার-পাঁচ, কিন্তু আকারে এত ছোট যে কোচ প্রথমে রাজি হননি। ওই নারী দমে যাননি, জোর করেই ছেলেটাকে মাঠে নামিয়ে দিলেন।
ওই নারীর নাম সেলিয়া কুচ্চিত্তিনি, ছেলেটার নাম লিওনেল মেসি।
দাদি সেলিয়া নাতি মেসির প্রায় প্রতিটা অনুশীলনে যেতেন, প্রতিটা ম্যাচে থাকতেন। ১৯৯৮ সালে তিনি মারা যান, মেসির বয়স তখন দশও হয়নি। মেসি খুবই কষ্ট পেয়েছিলেন দাদির মৃত্যুতে। এখনও এই ৩৯ বছর বয়সে গোল করার পরে মেসি ‘দুই হাত আকাশের দিকে তোলেন’, ওই উদযাপন তার দাদির উদ্দেশে।
গ্রোথ হরমোনের সমস্যা আর একটা ন্যাপকিন
দাদি মারা যাওয়ার কিছুদিন আগে আর্জেন্টিনার ডাক্তার দিয়াগো শোয়ার্সটাইন জানান, মেসির শরীরে গ্রোথ হরমোনের ঘাটতি আছে। চিকিৎসা না হলে উচ্চতা সাড়ে চার ফুটের ঘরেই আটকে যেতে পারে। এগারো বছর বয়স থেকে মেসি প্রতিদিন নিজের পায়ে নিজেই ইনজেকশন নিতেন।
খরচ মাসে ৫০০ ইউরোর বেশি। বাবা হোর্হে কাজ করতেন ইস্পাত কারখানায়, মা সেলিয়া চুম্বকের কারখানায়। এই খরচ টানা তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। স্থানীয় ক্লাব নিউয়েলস ওল্ড বয়েজ প্রথমে সাহায্যের কথা বলে পরে সরে যায়। রিভার প্লেট ছেলেটাকে দেখে প্রতিভা হিসেবে স্বীকার করলো, কিন্তু বিল দিতে রাজি হলো না।
২০০০ সালের সেপ্টেম্বরে হোর্হে ছেলেকে নিয়ে বার্সেলোনায় যান। ট্রায়ালে মেসির চেয়ে অনেক বড় ছেলেদের বিপক্ষে খেলে গোল করেন মেসি। বার্সার তখনকার স্পোর্টিং ডিরেক্টর কার্লেস রেক্সাচ তাকে নিতে চাইলেন, কিন্তু বোর্ড দেরি করছিল। এত কম বয়সী বিদেশি নেওয়ার নিয়ম তখন ইউরোপে ছিল না।
১৪ ডিসেম্বর, ২০০০। একটা টেনিস ক্লাবে কার্লেস রেক্সাচ ভাগ্য লেখা শুরু করলেন লিওনেল মেসির জন্য, হাতের কাছে কাগজ না থাকায় ন্যাপকিনে চুক্তির পয়েন্টগুলো লিখে দেন। শর্ত ছিল, বার্সেলোনা চিকিৎসার পুরো খরচ দেবে। মেসির পরিবারকে স্পেনে থাকতে হবে। এরপরে মেসির ফুটবল প্রতিভার ইতিহাস পুরো ফুটবল বিশ্ব দেখেছে।
এই বিশ্বকাপে ৩৯ বছরের মেসি
বয়স ৩৯, তবু আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে সবচেয়ে বড় নাম তিনিই।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক করেন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে ছাড়িয়ে যান মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড।
শেষ বত্রিশে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে, মেসি খেলেন পুরো ১২০ মিনিট। শেষ ষোলোয় মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে। মেসি একটা পেনাল্টি মিস করেন, তারপরও গোল করেন। এনজো ফার্নান্দেজের হেডে আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে জেতে। ম্যাচ শেষে মেসিকে কাঁদতে দেখা যায়।
কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আবার ১২০ মিনিট। দশম মিনিটে মেসির কর্নার থেকে হেডে গোল করেন আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। ওটাই বিশ্বকাপে মেসির দশম অ্যাসিস্ট। এই দশটা অ্যাসিস্ট পেয়েছেন দশজন আলাদা সতীর্থ। এরপর ১১২ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের গোল, যোগ করা সময়ে লাউতারো মার্তিনেজের গোল। ফল ৩-১।
এনপিআর জানাচ্ছে, টানা ৯ বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার পর সুইসদের বিপক্ষেই প্রথম গোল পাননি তিনি। টানা ৯ ম্যাচে গোলের রেকর্ডটাও তার নিজের।
৯০ মিনিট, ১২০ মিনিট
মেসির বয়স নিয়ে যত কথা হয়, তার একটা সহজ জবাব আছে। এই বিশ্বকাপে স্কালোনি তাকে একটা ম্যাচেও তুলে নেননি।
ওয়ার্ল্ড সকার টক জানাচ্ছে, কোয়ার্টার ফাইনালের আগ পর্যন্ত প্রতিটি ম্যাচের প্রতিটি মিনিট মাঠে ছিলেন মেসি, মিসরের বিপক্ষে পুরো ৯০ মিনিটসহ। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেও শেষ বাঁশি পর্যন্ত মাঠেই ছিলেন। ছয় ম্যাচে তার মাঠে থাকার সময় ৬০০ মিনিটের বেশি, আর এর মধ্যে দুটো ম্যাচ গড়িয়েছে ১২০ মিনিটে।
গরম আর আর্দ্রতাও কম ছিল না। সুইসদের বিপক্ষে ম্যাচটা হয়েছে কানসাস সিটিতে, গরম আর ভ্যাপসা এক রাতে, ৬৯ হাজার দর্শকের সামনে।
বিশ্বকাপে মেসির মাঠে থাকার মোট সময় এখন প্রায় ২,৮০০ মিনিট। ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন ১৩ বার, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। উনচল্লিশ বছরের একজন ফুটবলারের ক্ষেত্রে এই জিনিসটা রেকর্ডের চেয়েও বড়।
রেকর্ডের হিসাব
ইএসপিএন আর ফিফার হিসাব মেলালে এই বিশ্বকাপ পর্যন্ত মেসির খতিয়ান এরকম:
– বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ২১ গোল। দ্বিতীয় কিলিয়ান এমবাপ্পে, ২০।
– বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১০ অ্যাসিস্ট। ১৯৬৬ সাল থেকে হিসাব রাখা শুরুর পর এত অ্যাসিস্ট আর কারো নেই। ম্যারাডোনার ৮।
– বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৩২ ম্যাচ। রোনালদোর ২৬।
– ছয়টি বিশ্বকাপে খেলা এবং ছয়টিতেই অ্যাসিস্ট করা প্রথম খেলোয়াড়।
– নকআউট পর্বে ১৪ গোলে সরাসরি অবদান।
– এই আসরে ৮ গোল। এক বিশ্বকাপে কোনো আর্জেন্টাইনের সর্বোচ্চ, ১৯৩০ সালে গিয়ের্মো স্তাবিলেরও ছিল ৮।
– আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৫ ম্যাচে ১২৫ গোল। ক্লাব আর দেশ মিলিয়ে ক্যারিয়ারে ৯১৯ গোল।
– ব্যালন ডি’অর ৮টি।
আর্জেন্টিনার অন্য গ্রেটদের সঙ্গে তুলনা
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির ১২৫ গোল, গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা ৫৫ গোল করে দ্বিতীয় স্থানে আছেন। তারমানে দ্বিগুণের বেশি। ম্যারাডোনা ৯১ ম্যাচে ৩৪ গোল করেছেন। বিশ্বকাপে অ্যাসিস্টের রেকর্ডটাও মেসি ম্যারাডোনাকে টপকে হয়েছেন।
তবে তুলনাটা কখনো শুধু সংখ্যার ছিল না।
মারিও কেম্পেস ১৯৭৮ সালে ঘরের মাঠে গোল্ডেন বুট জেতেন, ফাইনালে করেন জোড়া গোল। ড্যানিয়েল পাসারেলা ওই ট্রফি হাতে তোলেন অধিনায়ক হিসেবে। ম্যারাডোনা ১৯৮৬ সালে দলটাকে একাই টেনে নিয়ে যান।
মেসি এদের কারো জায়গা নেননি। কিন্তু একটা কাজ তিনি করেছেন যা আর কোনো আর্জেন্টাইন পারেননি। ২০১৪ আর ২০২২, দুবার বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের গোল্ডেন বল জিতেছেন। ম্যারাডোনাও এটা একবারই পেয়েছেন।
দেশের হয়ে মেসির হাতে শিরোপাও এসেছে চারটি। ২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা, ২০২২ বিশ্বকাপ আর ২০২৪ কোপা আমেরিকা।
সর্বকালের সেরা, এই তর্কটা চলমান
মেসিকে ‘সর্বকালের সেরা’ বলা হয় অনেক দিন ধরেই। ২০২২ সালে বিশ্বকাপটা জেতার পর তর্কটার ধার অনেক কমে গেছে, কারণ আগের সবচেয়ে বড় অভিযোগটা (বিশ্বকাপ না জেতা) আর টেকে না।
তার পক্ষের হিসাবটা এরকম:
– ব্যালন ডি’অর ৮টি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ৫টি।
– ক্যারিয়ারে ৯১৯ গোল আর সাড়ে চারশোর বেশি অ্যাসিস্ট।
– বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোল, সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট, সর্বোচ্চ ম্যাচ, সর্বোচ্চ ম্যাচসেরা।
– বিশ্বকাপে দুবার গোল্ডেন বল জেতা একমাত্র খেলোয়াড়।
– ক্লাব আর দেশ মিলিয়ে জেতার তালিকায় ফাঁকা ঘর নেই। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, লা লিগা, কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা, অলিম্পিক সোনা আর বিশ্বকাপ।
এই বিশ্বকাপেই কিলিয়ান এমবাপ্পেকে যখন সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করেন, তিনি নিজে, হ্যারি কেইন, আর্লিং হালান্ড আর মেসির মধ্যে সেরা কে, এমবাপ্পে এক মুহূর্তও ভাবেননি। এনবিসি নিউজ জানাচ্ছে, তার জবাব ছিল, ‘লিওনেল মেসি। এটা পরিষ্কার।’

তবে তর্কটা পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে, এটা বলাও ঠিক হবে না।
পেলের তিনটা বিশ্বকাপ আছে, মেসির একটা। ম্যারাডোনা ১৯৮৬ সালে একটা মাঝারি মানের দলকে একা টেনে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিলেন, মেসির পাশে সব সময়ই ভালো একটা দল ছিল। রোনালদোর ক্যারিয়ার গোল ৯৭৩, মেসির চেয়ে বেশি, চ্যাম্পিয়ন্স লিগও তিনি জিতেছেন ৫টি, মেসির ৪টি।
আর সবচেয়ে বড় কথা, ভিন্ন যুগের ফুটবলারদের সরাসরি মেলানো যায় না। পেলের সময়ের ডিফেন্ডাররা যা করতে পারতেন, আজ করলে লাল কার্ড।
তবু একটা জায়গায় মেসি আলাদা। বাকিদের সবাই কোনো না কোনো তালিকায় দুই নম্বরে আছেন। মেসি প্রায় সব তালিকাতেই এক নম্বরে।
যেখানে তিনি ব্যর্থ
এই বিশ্বকাপে উল্টো একটা রেকর্ডও হয়েছে। ইএসপিএনের হিসাব বলছে, এক বিশ্বকাপে দুটো পেনাল্টি মিস করা প্রথম খেলোয়াড় এখন মেসি (টাইব্রেকার বাদে)। বিশ্বকাপে মোট ৮টি পেনাল্টির মধ্যে তিনি গোল করেছেন ৪টিতে।
ফিফার পক্ষপাত নিয়ে বিতর্ক
এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা মাঠের বাইরেও সমান আলোচনায়।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচের পর ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আর্জেন্টাইন সাংবাদিকদের বলেন, তিনি আর্জেন্টিনার সঙ্গে ‘কষ্ট পেয়েছেন’। সঙ্গে সঙ্গেই যোগ করেন যে তিনি নিরপেক্ষ। কিন্তু কথাটা ছড়িয়ে পড়ে।
ফ্রান্স ২৪ জানাচ্ছে, মিসরের বিপক্ষে ম্যাচে ভিএআরে একটা গোল বাতিল হওয়ার পর মিসর ফুটবল ফেডারেশন ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে। তারা রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে ও তার দলকে টুর্নামেন্ট থেকে সরানোর দাবি জানিয়েছে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আইসা মান্দিকে ফাউল করে মেসির লাল কার্ড না পাওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ইনফান্তিনো আর মেসিকে নিয়ে বানানো এআই মিম এখন এই বিশ্বকাপের অন্যতম বড় ট্রেন্ড। অভিযোগটা নতুন নয়, ২০২২ বিশ্বকাপের পর থেকেই চলছে।
তবে ফিফা আর্জেন্টিনাকে সাহায্য করছে, এমন প্রমাণ কেউ দিতে পারেনি। সাবেক আন্তর্জাতিক রেফারিরা আর্জেন্টিনার ম্যাচগুলো বিশ্লেষণ করে বলেছেন, বেশিরভাগ সিদ্ধান্ত নিয়ম অনুযায়ীই হয়েছে, যদিও কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও রেফারিদের পক্ষে কথা বলেছেন।
সমস্যা হলো ইনফান্তিনোর নিজের রেকর্ড। পুতিনের কাছ থেকে পদক নেওয়া, কাতারের মানবাধিকার নিয়ে সাফাই দেওয়া, ট্রাম্প টাওয়ারে ফিফার অফিস ভাড়া নেওয়া। যিনি আগে থেকেই সন্দেহের তালিকায়, তার একটা কথাই যথেষ্ট।
মেসিকে নিয়ে অন্য বিতর্ক
খুব বেশি নেই, কিন্তু আছে।
২০১৬ সালে স্পেনের আদালত মেসি আর তার বাবাকে কর ফাঁকির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। ২০২৩ সালের মে মাসে ক্লাবের অনুমতি ছাড়া সৌদি আরবে গিয়ে পিএসজির কাছ থেকে দুই সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা পান। তিনি তখন সৌদির পর্যটন দূত। পরে ইনস্টাগ্রামে ভিডিও দিয়ে সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চান।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে হংকংয়ে ইন্টার মায়ামির প্রীতি ম্যাচে মাঠে না নামায় দর্শকরা দুয়ো দেন, টিকিটের টাকা ফেরত চান।
এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দলকে নিয়েও সমালোচনা হচ্ছে। এক আর্জেন্টাইন সমর্থকের বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ ফিফা তদন্ত করছে। দলে একজনও কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড় না থাকা নিয়েও কথা উঠেছে। এগুলো মেসির ব্যক্তিগত বিতর্ক নয়, কিন্তু তিনি দলের অধিনায়ক।
মেসির ব্যক্তিগত জীবন
মেসির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বলার মতো ‘রসালো’ কোনো কেলেঙ্কারি নেই, যেমনটা থাকে অন্যান্য তারকাদের নিয়ে।
স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জোর সঙ্গে তার পরিচয় শৈশবে, রোজারিওতে। আন্তোনেলা ছিলেন মেসির বন্ধু লুকাস স্কালিয়ার চাচাতো বোন। ২০০০ সালে মেসি স্পেনে চলে যাওয়ার পর যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৫ সালে আন্তোনেলার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলে মেসি স্পেন থেকে ফিরে আসেন তার পাশে দাঁড়াতে। এরপর আর সম্পর্ক ভাঙেনি।
২০০৯ সালে তারা সম্পর্কের কথা জানান। বিয়ে হয় ২০১৭ সালের ৩০ জুন, রোজারিওতে। ক্লারিন পত্রিকা ওটাকে বলেছিল শতাব্দীর বিয়ে। তাদের তিন ছেলে, থিয়াগো, মাতেও আর সিরো। এই বিশ্বকাপেও প্রতিটা ম্যাচের পর গ্যালারি থেকে ছবি পোস্ট করছেন আন্তোনেলা।
মেসির পরে আর্জেন্টিনা
এই প্রশ্নে আর্জেন্টাইনদের দুশ্চিন্তা আছে। তবে এবারের বিশ্বকাপ কিছু ইঙ্গিতও দিচ্ছে।
সুইসদের বিপক্ষে যে গোলে আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে উঠল, সেটা মেসির নয়, হুলিয়ান আলভারেজের। মিসরের বিপক্ষে জয়সূচক হেড এনজো ফার্নান্দেজের। লাউতারো মার্তিনেজ, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, সবাই এখনো খিদে নিয়ে খেলছেন। ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো ১৭ বছর ২৯৬ দিন বয়সেই আর্জেন্টিনার হয়ে অফিশিয়াল ম্যাচ খেলে ফেলেছেন।
দল আছে। যেটা থাকবে না, সেটা হলো দশ নম্বর জার্সির লোকটা।
সামনে কী
সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড। ম্যাচ বুধবার, আটলান্টা স্টেডিয়ামে। ২৪ বছর পর বিশ্বকাপে দুই দলের দেখা, আর ক্যারিয়ারে এই প্রথম ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবেন মেসি।
মেসি ইএসপিএন আর্জেন্টিনাকে বলেছেন, ১৯৮৬ সালের ওই ম্যাচ নিয়ে তার যা মনে আছে সবই ভিডিও আর ছবি থেকে দেখা, যা আর্জেন্টাইনরা বারবার দেখেন।
কোচ লিওনেল স্কালোনি অবশ্য দরজা বন্ধ করে দেননি। ওলে পত্রিকাকে তিনি বলেছেন, মেসি যতদিন চান খেলবেন। স্কালোনির কথা, মেসি ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলছেন এটা অবাক হওয়ার মতো ব্যাপার নয়, অবাক হওয়ার মতো ব্যাপার হলো জাতীয় দলের হয়ে তার শিরোপা মাত্র চারটা।
তাই ২০২৮ কোপা আমেরিকা এখনো একটা সম্ভাবনা। কিন্তু বিশ্বকাপ নয়। বুধবারের সেমিফাইনাল, তারপর ১৯ জুলাইয়ের ফাইনাল নয়তো ১৮ জুলাইয়ের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। এর বেশি আর নেই।
গ্রান্দোলির মাঠ থেকে আটলান্টা পর্যন্ত পথটা ৩৪ বছরের। মাঝখানে কাগজের ন্যাপকিনে চুক্তি, প্রতিদিনের ইনজেকশন, রূপকথার মতো নানা রেকর্ড আর একটা জেতা বিশ্বকাপ। সবমিলিয়ে আসলেই অন্যরকম লিওনেল মেসি।







