আর্জেন্টিনার অনুরোধে নীল অ্যাওয়ে জার্সি পরবেন লিওনেল মেসিরা, ইংল্যান্ড সম্পূর্ণ সাদা কিট পরেই বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে নামবে। গাঢ় নীল জার্সিটি শুধু একটি বিকল্প জার্সি নয়, তার চেয়েও বেশি কিছু আলবিসেলেস্তেদের জন্য। অনেকের কাছে এটি দলটির ফুটবল লোককথার একটি অংশ। দেশটির বিশ্বকাপের সবচেয়ে বিখ্যাত কিছু স্মৃতি এবং সৌভাগ্যের সাথে জড়িয়ে আছে নীল রঙের জার্সি।
আর্জেন্টাইন এক সাংবাদিক জানাচ্ছেন, আর্জেন্টিনা কিট পরিবর্তনের জন্য অনুরোধ করেছিল। ফিফা ও আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন উভয়ের পক্ষ থেকেই বিষয়টি এখনও নিশ্চিত না করলেও, মোটামুটি নিশ্চিত নীল জার্সি পরে নামবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
মেক্সিকোতে আয়োজিত ১৯৮৬ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-১ গোলের বিখ্যাত জয়ে ম্যারাডোনা দুটি গোল করেছিলেন। ৪০ বছর পেরিয়ে গেলেও গোল দুটি এখনও বিশ্বের অন্যতম আলোচিত বিষয়। দ্বিতীয় গোলটি ছিল নিজেদের অর্ধ থেকে করা এক অসাধারণ একক প্রচেষ্টার ফসল, যা পরে ফিফা বিশ্বকাপের ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ হিসেবে নির্বাচিত করে। প্রথম গোলটি ইংল্যান্ডে বেশি বিখ্যাত, যা ছিল ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল। সে ম্যাচে আলবিসেলেস্তেরা গাঢ় নীল জার্সি পরেছিল।
তার ঠিক ১২ বছর পর, আর্জেন্টিনা আবারও গাঢ় নীল জার্সি পরেছিল, যেখানে ১৯৯৮ ফ্রান্স বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে নাটকীয় ২-২ ড্রয়ের পর পেনাল্টিতে ইংল্যান্ডকে বিদায় করে। ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল এই ভাবনাটা বোঝেন। সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘এর সাথে যদি কোন কুসংস্কার জড়িত থাকত, তাহলে আমিও একই কাজ করতাম। তাই তাদের কৃতিত্ব দিতেই হয়। আমি এ ব্যাপারে অবগত ছিলাম না।’
‘আমার কিছু কুসংস্কারমূলক অভ্যাস আছে। আপনাদের বলব না, কারণ আরেকটি কুসংস্কার হল, যদি বলি, তাহলে তা কাজ করবে না। আমাদের এমনকিছু অভ্যাস আছে যা আপনাকে সারাদিন স্থির ও শান্ত রাখে, এবং তা বদলাবে না। অবশ্যই, আমাদের সৌভাগ্যসূচক জিনিসও আছে, এবং উচ্চস্তরের খেলায় এ বিষয়গুলো খুবই স্বাভাবিক।’
তবে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি কুসংস্কার বা নীল জার্সি চাওয়ার বিষয়ে কিছুই জানেন না। বলেছেন, ‘আসলে, নীল জার্সিটা চাইনি। জানি না কে চেয়েছিল। তবে সম্ভবত এটা একটা ঐতিহ্য। সত্যিই জানি না। এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। আর যদি থমাসের এতে কোন সমস্যা না থাকে, তাহলে আমারও সমস্যা নেই।’







