কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী।
কক্সবাজার পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডের ৪৩টি কেন্দ্রে ২৮ হাজার ৫২ ভোট পেয়ে তিনি বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী নারকেল গাছ প্রতীকের প্রার্থী মাসেদুল হক রাশেদ পেয়েছেন ২৪ হাজার ১৬৮ ভোট।
ভোট গণনা শেষে রাত ৯ টার দিকে কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরীর শহীদ সুভাষ হলের নির্বাচন সমন্বয় কেন্দ্রে কক্সবাজার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এসএম শাহাদাত হোসেন বেসরকারি এই ফলাফল ঘোষণা করেন।
ঘোষিত ফলাফল মতে, মেয়র পদে জগদীশ বড়ুয়া (হেলমেট) ৪ হাজার ১৬৮ ভোট, জোসনা হক (মোবাইল ফোন) ৬৯৮ ভোট ও মো. জাহেদুর রহমান (হাতপাখা) ১ হাজার ৪৪২ ভোট পেয়েছেন। জোসনা হক নারিকেল প্রতীক মাসেদুল হক রাসেদের স্ত্রী।
কক্সবাজার পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার ৯৫ হাজার ৩৮৬ জন। এরমধ্যে প্রায় ৬৩ শতাংশের কাছাকাছি ভোট কাস্ট হয়। ৫৯ হাজার ২৯৬ জন ভোটার তাদের ভোট প্রয়োগ করলেও ২২৭ ভোট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
ঘোষিত ফলাফলকে জনতার বিজয় বলে মন্তব্য করে মো. মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী বলেন, সাধারণ ভোটাররা আন্তরিকভাবে নৌকা প্রতীক ও আমাকে ভালোবেসে নির্বাচিত করেছেন। আমি জনতাসহ সকল স্তরের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ।
এ বিজয় নিয়ে সমর্থকদের কোন প্রকার মিছিল সমাবেশ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থী রাশেদ আমার বন্ধু, তার পিতার প্রতি আমার সম্মান চিরদিন থাকবে।
নারকেল গাছ প্রতীকের প্রার্থী মাসেদুল হক রাশেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এছাড়া ১২টি ওয়ার্ডে ৫৭ জন কাউন্সিলর প্রার্থী এবং ৪টি সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে ১৬ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিদা করেন। ঘোষিত ফলাফলে সংরক্ষিত ৪ টি নারী কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হয়েছেন, ১,২, ৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে শাহেনা আকতার, ৪,৫,৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ইয়াসমিন আকতার, ৭,৮,৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জাহেদা আকতার ও ১০, ১১, ১২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নাছিমা আকতার বকুল। এরা ৪ জনই বর্তমান নারী কাউন্সিলর।
১২টি ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন, ১ নম্বর ওয়ার্ডের আকতার কামাল, ২ নম্বর ওয়ার্ডের মিজানুর রহমান, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আমিনুল ইসলাম মুকুল, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের এহসান হক, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শাহাব উদ্দিন সিকদার, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওমর সিদ্দিক লালু, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ওসমান সরওয়ার টিপু, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রাজবিহারী দাশ, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হেলাল উদ্দিন কবির, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সালাউদ্দিন সেতু, ১১ নম্বর ওয়ার্ডের নুর মোহাম্মদ মাঝু, ১২ নম্বর ওয়ার্ডের এমএ মঞ্জুর। এর মধ্যে ৩ নম্বর, ৪ নম্বর, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিতরা ছাড়া নতুন।
সোমবার সকাল ৮টায় থেকে শুরু হওয়া কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনে প্রথম ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ চলে ৪টা পর্যন্ত।
সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে ১২টি ওয়ার্ডে ৩ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ ১৫ ম্যাজিস্ট্রেট, ৭ প্লাটুন বিজিবি, ১২টি র্যাব টিম ও ১২০০ জন পুলিশ দায়িত্ব পালন করেন। আর ৪৩টি কেন্দ্রে ২৪৫টি কক্ষ রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্র ও কক্ষ সিসিটিভি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এসএম শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেন, ‘অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ হয়েছে। সকাল থেকে কোন প্রকার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। হয়নি কোন অপ্রীতিকর ঘটনাও। ৪টায় ভোট গ্রহণ শেষ হলে ভোট গণনা শুরু হয়। রাত ৯ টায় ঘোষণা করা হয় ফলাফল।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ চলেছে। কোথাও গোলযোগের খবর নেই। সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ ধরে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।







