নেত্রকোনার খালিয়াজুরিতে এইচএসসি পাস না করেও আব্দুল মোনায়েম নামে এক শিক্ষক ৪৩ বছর ধরে চাকরি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আব্দুল মোনায়েম উপজেলার নূরপুর বোয়ালী দাখিল মাদ্রাসার এবতেদায়ি শাখার জুনিয়র শিক্ষক।
এ বিষয়ে মো. কাজী আলম নামের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগকারীর দাবি, চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময় ওই শিক্ষকের বয়স ছিল ১৭ বছরের কম। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আব্দুল মোনায়েম বলছেন, তার পদে নিয়োগের সময় এইচএসসি পাসের যোগ্যতা চাওয়া হয়নি; এসএসসি পাসের যোগ্যতায় তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি ১৯৮৩ সালের ২ নভেম্বর ওই মাদ্রাসায় যোগ দেন। তার এসএসসি সনদ অনুযায়ী জন্মতারিখ ১৯৬৭ সালের ২ জানুয়ারি। সে হিসাবে চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময় তার বয়স ছিল ১৬ বছর ১০ মাস।
অভিযোগকারী দাবি করেন, ওই সময়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তথ্য এবং লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরপত্র পাওয়া যায়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ১৯৯২ সালে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশের পর আব্দুল মোনায়েমকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে বলা হয়। তিনি ১৯৯৪ ও ১৯৯৬ সালে পরীক্ষা দিয়েও উত্তীর্ণ হননি। ১৯৯৮ সালের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য ছুটি নিলেও শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ব্যবস্থাপনা কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি থাকাকালে স্বাক্ষর জাল করে প্রায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২০ সালের ১৭ অক্টোবর মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির তৎকালীন সদস্য রুহুল আমিন বাদী হয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল মোনায়েম বলেন, ‘১৯৮৩ সালে এবতেদায়ি শাখা চালুর পর মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটি চারজন শিক্ষককে নিয়োগ দেয়। এবতেদায়ি প্রধানের জন্য ফাজিল বা এইচএসসি পাস এবং বাংলা বিষয়ের শিক্ষকের জন্য আলিম বা বিজ্ঞান বিভাগের এসএসসি পাসের যোগ্যতা চাওয়া হয়েছিল। আমি এসএসসি পাসের যোগ্যতায় বাংলা বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছি। তাই আমার নিয়োগের জন্য এইচএসসি সনদ প্রয়োজন ছিল না।’
চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময় বয়স ১৭ বছরের কম থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার জন্মতারিখ অনুযায়ী তখন বয়স ১৬ বছর ১০ মাস ছিল। তবে আমাকে তৎকালীন মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়োগ দিয়েছে। আমি নিজে কোনো নিয়ম তৈরি করে চাকরিতে যোগ দিইনি। টাকা আত্মসাৎ ও স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল মোনায়েম বলেন, ‘আমি কোনো টাকা আত্মসাৎ বা স্বাক্ষর জাল করিনি।’
জানতে চাইলে মাদ্রাসার সুপার মো. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আব্দুল মোনায়েমকে একাধিকবার এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা বলা হলেও তিনি বিষয়টি ব্যক্তিগত বলে এড়িয়ে গেছেন। ২০২৫ সালের ৩ জুলাই থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত থাকায় তাকে তিনটি নোটিশ দেওয়া হয়। পরে তিনি ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান। তিনি বলেন, আব্দুল মোনায়েম ১৯৯৪ ও ১৯৯৬ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হননি। এরপর আর পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন কি না, তার জানা নেই।’
খালিয়াজুরি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি অলিদুজ্জামান বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’







