আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে একের পর এক স্বীকৃতি পাওয়ার পর আগামী ১৭ জুলাই দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে মোহাম্মদ নূরুজ্জামান পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘মাস্তুল’। মুক্তিকে সামনে রেখে দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে ভিন্নধর্মী প্রচারণায় নেমেছে ‘মাস্তুল’ টিম।
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের ধারাবাহিকতায় সোমবার (৬ জুলাই) ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) ক্যাম্পাসে হাজির হন নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীরা।
ইউল্যাবের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রায় দুই ঘণ্টার ইন্টারেক্টিভ সেশনে উপস্থিত ছিলেন নির্মাতা মোহাম্মদ নূরুজ্জামান, অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু, আমিনুর রহমান মুকুল, দীপক সুমন, মুকিত শিকদার এবং চলচ্চিত্রটির চিত্রগ্রাহক মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান।
অতিথিদের সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন বিভাগের উপদেষ্টা অধ্যাপক শামীম রেজা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিভাগের সিনিয়র লেকচারার লাবনী আক্তার।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রদর্শন করা হয় ‘মাস্তুল’-এর ট্রেলার। এরপর একে একে নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীরা ছবিতে কাজের অভিজ্ঞতা, নির্মাণ প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নেওয়ার স্মৃতি তুলে ধরেন।
আলোচনায় ফজলুর রহমান বাবু বলেন, মুক্তির আগে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার একটি বিশেষ কারণ রয়েছে।
তার ভাষায়, “বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ভাষা বদলে গেছে। আগে ‘বাংলা সিনেমা’ বলতে আমরা যা বুঝতাম, এখন সেই জায়গাটা আর নেই। দর্শকের মধ্যেও গুণগত পরিবর্তন এসেছে। তাই আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসি আপনাদের উদ্বুদ্ধ করতে- আপনারা হলে গিয়ে সিনেমা দেখবেন, আলোচনা করবেন, সমালোচনা করবেন।”
আলোচনার একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের অনুরোধে ‘মাস্তুল’-এর প্রচারণার গান ‘আমায় ভাসাইলি রে…’ গেয়ে শোনান ফজলুর রহমান বাবু। মুহূর্তেই প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।
যেহেতু এটি ছিল একটি ইন্টারেক্টিভ সেশন, তাই শিক্ষার্থীরা চলচ্চিত্রের গল্প, নির্মাণশৈলী, স্বাধীন চলচ্চিত্র এবং বাংলাদেশের সিনেমার বর্তমান ধারা নিয়ে নানা প্রশ্ন করেন। নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীরা সেসব প্রশ্নের উত্তর দেন খোলামেলা আলোচনা করে।
এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে নির্মাতা মোহাম্মদ নূরুজ্জামান বলেন, “আমি যে সিনেমা দেখতে চাই, সেটাই বানাতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, এই ধরনের সিনেমা দেখার মতো একটি দর্শকশ্রেণি বাংলাদেশে আছে। হয়তো সংখ্যায় খুব বড় নয়, কিন্তু দিন দিন সেই দর্শক বাড়ছে।”
অভিনেতা আমিনুর রহমান মুকুল বলেন, ‘মাস্তুল’ পুরোপুরি স্বাধীন উদ্যোগে নির্মিত একটি চলচ্চিত্র। তার ভাষায়, “আমাদের দেশে এ ধরনের ইন্ডিপেনডেন্ট চলচ্চিত্র নির্মাণের সাহস খুব কম মানুষ করেন। সেই সাহস মোহাম্মদ নূরুজ্জামান দেখিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই এখন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের পরিবর্তনের অন্যতম চালিকাশক্তি। ‘মাস্তুল’-এর ক্ষেত্রেও সেই ভূমিকা দেখতে চাই।”
অভিনেতা দীপক সুমন বলেন, পুরো ছবির শুটিং জাহাজে হওয়ায় নির্মাণের সময় অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “এমন ছবি যদি হাউজফুল হয়, তাহলে বাংলা সিনেমা অনেক দূর এগিয়ে যাবে।”
অভিনেতা মুকিত শিকদারও দর্শকদের হলে গিয়ে সিনেমাটি দেখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সবাই হলে গিয়ে সিনেমাটা দেখুন। দেখলে চোখে এক ধরনের শান্তি পাবেন—এই ভরসাটুকু দিতে পারি।”

নির্মাতার নিজ শহর এবং বাংলাদেশের অন্যতম ব্যস্ত নদীবন্দর নারায়ণগঞ্জের প্রেক্ষাপটে নির্মিত ‘মাস্তুল’-এ অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু, দীপক সুমন, আমিনুর রহমান মুকুল, আরিফ হাসান, সিকদার মুকিত, শাহজাহান শোভন ও সিফাত বন্যাসহ অনেকে।
মাস্তুল এর সিনেমাটোগ্রাফি সামলেছেন মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান, শিল্প নির্দেশনায় ছিলেন হুসনাইন লিঙ্কন, সংগীতে চৈতন্য রাজবংশী, কাস্টিং ডিরেক্টর যুবরাজ শামীম এবং প্রচারণার গানের সংগীত পরিচালনা করেছেন লাবিক কামাল গৌরব। চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেছে সিনেমাকার এবং ডিজিটাল ডিস্ট্রিবিউশন ও প্রচারণায় যুক্ত রয়েছে টঙঘর টকিজ।








