কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে শিক্ষার্থী-জনতা নিহত হওয়ার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত বিচারসহ ৯ দফা দাবিতে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ঠাকুরগাঁও আদালত এলাকার সামনে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার ৩১ জুলাই দুপুর পৌনে ১২টার দিকে তারা এ কর্মসূচি শুরু করেন।
এর আগে, সকাল ১১ টার দিকে শিক্ষার্থীরা ঠাকুরগাঁও ‘অপরাজয় ৭১‘ এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীসংখ্যা বাড়লে স্লোগান শুরু হয়। এ সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বৈষ্যমবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে ‘অপরাজয় ৭১‘ থেকে মিছিল নিয়ে আদালত অভিমুখে আসতে থাকে। আন্দোলনকারীদের কোকিল প্রাইমারী স্কুল ও পৌরসভার মূল ফটকের সামনে থামিয়ে দেয় । পরে সেখানে আন্দোলনকারীরা বসে বিক্ষোভ করে।
শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচিতে ও বিক্ষোভ মিছিলে নানা ধরনের স্লোগান দেন। এর মধ্যে আছে ‘আমার ভাই মরল কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত’, ‘মানতে হবে মানতে হবে, ৯ দফা মানতে হবে’ এবং ‘শহীদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’।
ঠাকুরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবিএম ফিরোজ ওয়াহিদ বলেন, শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আদালত অভিমুখে আসার চেষ্টা করে।
অন্যদিকে, বরিশালে গতকালকের মতো আবারও পুলিশ এবং কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বেলা বারোটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত ঘন্টাব্যাপী নগরীর ফজলুল হক এভিনিউ এর কাকলির মোড়, আদালত চত্বর ও নগর ভবন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পূর্ব ঘোষিত দু’দফা কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৈষম্যবিরোধী কোটা আন্দোলনকারি শিক্ষার্থীরা বেলা সারে এগারোটার দিকে নগরীর টাউন হলের সামনে জড়ো হতে থাকে। এসময় পুলিশ ও বিজেপি সদস্যরা তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিলে বিভিন্ন অলিগলি থেকে তারা আদালত চত্বরে পুনরায় জড়ো হতে চেষ্টা করে। পুলিশের লাঠিপেটা ও বাঁধার মুখে নারী শিক্ষার্থীরা সড়কে বসে পড়লে চারজনকে আটক করা হয় । এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের বাক-বিতণ্ডা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নগরীর ফজলুল হক এভিনিউ কাকলির মোড়, সদর রোড এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সব ধরনের দোকানপাট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। সড়কে অবস্থান করছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিপুল সংখ্যক র্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা।







