দীর্ঘ ছয় বছরের প্রেম শেষে লক্ষ্মীপুরের রিয়াজ উদ্দিনের সঙ্গে মালয়েশিয়ান তরুণী নূর আজিরা বিনতে আজহারের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। দু’লাখ টাকা দেনমোহরে রিয়াজ মালয়েশিয়ান এ নারীকে বিয়ে করেন।
জেলা শহরের লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের আবিরনগর এলাকার বরের পৈতৃক ভিটা বাড়িতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন রিয়াজ ও আজিরা। সেসময় এলাকার স্থানীয় গন্যমান্য এবং স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। একই এলাকার কাজী মোহাম্মদ আলী বেলাল এ বিয়ে পড়ান।
বর রিয়াজ পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের আবিনগর এলাকার সাবেক সহকারি সাব রেজিষ্ট্রার জামাল উদ্দিনের ছেলে। কনে আজিরা মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের ওলিয়া ফেছকুয়াতান ১৫ এ জালাননসি/৬ তামান ইস্তেফাক ইনজাহ, ৫৩/১ কুয়ালালামপুর এলাকার আজহা বিন হোসাইন ও নুর আসিকিন বিন আরেফিন দম্পতির মেয়ে।
রিয়াজের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় নয় বছর আগে রিয়াজ মালয়েশিয়ায় যান। ছয় বছর আগে আজির একটি ফ্যাশন ডিজাইনের প্রতিষ্ঠানে ক্লাস করতে আসেন। পাশেই রিয়াজের দোকান ছিল। প্রতিষ্ঠানটির সামনে দিয়ে তিনি হেঁটে যাচ্ছিলেন। ফ্যাশন ডিজাইনের প্রতিষ্ঠানটিতে আজিরা ও তার এক মেয়ে বন্ধু বসেছিল। এক পর্যায়ে আজিরার বন্ধু রিয়াজকে ডাক দেয়। রিয়াজ এগিয়ে গেলে আজিরার বন্ধু তাকে সুদর্শন বলে সম্বোধন করেন। একই সঙ্গে রিয়াজ কোন দেশী তা জানতে চান। রিয়াজ তাকে বাংলাদেশী বলে পরিচয় দেয়ার পরও তারা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। তারা ভেবেছিলেন, রিয়াজ ইরান অথবা সোদি আরবের বাসিন্দা। এরপর থেকে আজিরার বন্ধু রিয়াজেরও ভালো বন্ধু হয়ে উঠে। কিন্তু লাজুক প্রকৃতির হওয়ার আজিরা তার সঙ্গে কথা বলতেন না। একদিন হঠাৎ আজিরার বন্ধু একটি সমস্যায় পড়েন। এতে আজিরা ও তার বন্ধুর জন্য সমপরিমাণ খাবার নিয়ে যান রিয়াজ। আজিরা ও তার বন্ধুর জন্য রিয়াজের খাবার নিয়ে হাজির হওয়ার বিষয়ে অবাক হয়ে পড়েন তারা। বাংলাদেশে বিষয়টি স্বাভাবিক হলেও মালয়েশিয়ায় এটি অবাক করার ঘটনা।
পরে আজিরা তার মাকে রিয়াজের সম্পর্কে জানান। আল্লাহ সহায় হলে রিয়াজকে বিয়ে করবেন বলেও মাকে জানান তিনি। এর দুই মাস পরে রিয়াজ ও আজিরার সঙ্গে সরাসরি ভালো লাগার কথাবার্তা আদান প্রদান হয়। কুয়ালালামপুর শহরের ইস্তেফা সেন্টার থেকে তাদের নতুন সম্পর্কের সূচনা ঘটে। সম্পর্কের প্রথম দিকেই আজিরার মা-বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন রিয়াজ। প্রথমে আজিরার বাবা একটু মনক্ষুন্ন থাকলেও এখন তাদের সম্পর্ক বন্ধুর মতো।
কনে নুর আজিরা বিনতে আজহা বলেন, বাংলাদেশী মানুষ খুবই দারুণ এবং শ্রদ্ধাশীল। আমি রিয়াজকে অনেক বেশি ভালোবাসি। কারণ সে খুব ভদ্র স্বভাবের ও অনেক সুন্দর। শ্বশুর-শাশুড়ি আমাকে মেয়ের মতো গ্রহণ করেছেন। তাদের সঙ্গে চার দিন ছিলাম। আমি আমার পরিবারের মাতোই তাদেরকে অনুভব করছি।
রিয়াজ উদ্দিন বলেন, আজিরা মালয়েশিয়ায় আমাদের দেশের নামে খারাপ কিছু শুনেছে। তবে উড়োজাহাজে এক বাঙালির উপকারে সে মুগ্ধ হয়ে পড়েছে। বিমানবন্দরে তাকে সংশ্লিষ্টরা আমাদের দেশে স্বাগত জানিয়েছে। এসব বিষয়ে আজিরা খুবই খুশি। আজিরা এখন বাংলাদেশীদের সম্মান করে। আমি ১ বছর দেশে আছি। এরমধ্যে আজিরা আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকবে। তাকে একবারে দেশে আনার জন্য মালয়েশিয়ার দূতাবাসসহ বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হবে।
আজিরার সম্পর্কে রিয়াজ বলেন, আজিরার কোন ছেলে বন্ধু নেই, এজন্যই আমি তাকে বেশি ভালোবাসি। আর মালয়েশিয়াতে আমি অনেক ধরনের মেয়ে দেখেছি। কিন্তু আজিরার মতো কাউকে পাইনি। ওই দেশের মেয়েদের মধ্যে টাকা-পয়সার লোভ থাকে। কিন্তু আজিরার কাছে তেমন কোন কিছুই দেখিনি। আজিরা খুব ভালো মনের অধিকারী।
রিয়াজের বাবা জামাল উদ্দিন বলেন, রিয়াজ আমার ছোট ছেলে। ধুমধাম করে বিয়ের আয়োজন করতে চেয়েছি। কিছু জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। এ বিয়েতে আমরা পুরো পরিবারই আনন্দিত। আগামি শুক্রবার ছোট করে অনুষ্ঠান করা হবে। আজিরার স্বজনরা আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কাগজপত্রের জটিলতার কারণে আপাতত আসতে পারবেন না।







