স্পেনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘লা রেভুয়েলতার’ এক পর্বে অতিথি হয়ে এসেছিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনার ছেলে আরমান্দো ম্যারাডোনা। ১৯৮৬ সালে ইতালিতে জন্ম ম্যারাডোনা জুনিয়রের। একই বছর আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিলেন প্রয়াত ‘ফুটবল ঈশ্বর’ ম্যারাডোনা। অনুষ্ঠানে বাবাকে নিয়ে বলতে গিয়ে কিংবদন্তি লিওনেল মেসিকে ভালো মানুষ আখ্যা দিয়েছেন আরমান্দো।
২০২০ সালে ম্যারাডোনা মৃত্যুর পর থেকে ছেলে হিসেবে তিনি সব শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকেছেন। অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ব্রোনকানোর সঙ্গে আলাপকালে ম্যারাডোনা জুনিয়র বাবার জীবন নিয়ে বলেছেন, ‘তার জীবন ছিল জটিল, কিন্তু সুন্দর। তিনি সবচেয়ে মানবিক একজন মানুষ ছিলেন, যিনি জীবনকে সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেছেন। তবে কঠিন সময়ও ছিল। ভুল করেছেন, তার মূল্যও দিয়েছেন, কিন্তু কারো ক্ষতি করেননি।’
অনুষ্ঠানে একটি বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন আরমান্দো। তার দাবি, ম্যারাডোনার দুটি বিশ্বকাপ ‘কেড়ে’ নেয়া হয়েছে। বলেছেন, ‘আমার বাবার কাছ থেকে দুটি বিশ্বকাপ কেড়ে নেয়া হয়েছে, ১৯৯০ ও ১৯৯৪ সালে। তার তিনটি বিশ্বকাপ জেতা উচিত ছিল।’
এরপর ব্রোনকানো তাকে লিওনেল মেসি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। বলেছেন, ‘আমি তাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি না, তার আশপাশের লোকেরা সেটা হতে দেয়নি। মানুষ হিসেবে মেসি এক নম্বর, কিন্তু আমার বাবা ছিলেন ঈশ্বর।’
নিজের জীবন, বাবার সঙ্গে সম্পর্ক এবং ফুটবলে ভালোবাসা নিয়ে আরমান্দো বলেছেন, ‘আমার মা কখনও আমাকে মিথ্যা বলেননি, সবসময় সত্য বলেছেন। ২৯ বছর পর আমাদের ভালো সম্পর্ক হয়েছিল। যখন তার সঙ্গে কোন সম্পর্ক ছিল না, তখনও মানুষ এসে শুধু তার কথাই বলত। কিন্তু তিনি সবসময় আমার ভেতরে ছিলেন। আজ তিনি উপস্থিত আছেন, অনুপস্থিত মানুষ হয়েও। মাঠে ও মাঠের বাইরে তিনি অনেক আনন্দ দিয়েছেন। যতটুকু সময় তার সঙ্গে কাটিয়েছি, তা ছিল অসাধারণ। তিনি ছিলেন আমার সবচেয়ে সুখের দিনের অধিনায়ক।’
বাবা ম্যারাডোনার সঙ্গে তার কীভাবে পুনর্মিলন হয়েছিল? আরমান্দো বলেছেন, ‘তিনি টেলিভিশনে আমার একটি সাক্ষাৎকার দেখেছিলেন এবং বলেছিলেন আমার সঙ্গে কথা বলতে চান। আমি তার সঙ্গে ডিনারে যাই এবং বলি, আমি যেন স্বপ্নে আছি। খুব অদ্ভুত অনুভূতি ছিল। আমরা অতীত নিয়ে কথা বলিনি, বর্তমান নিয়ে কথা বলেছি এবং তারপর আমাদের ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়।’








