ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের শতাধিক কর্মী ছাঁটাইয়ের পেছনে কী

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের শেয়ারহোল্ডার স্যার জিম র্যাটক্লিফ কঠোর ব্যয়-সংকোচন নীতি প্রণয়ন করেছেন। ক্লাবের ৩২২টি পদ থেকে ছাঁটাই করা হয়েছে কর্মীদের। এটি মোট কর্মীসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশ।
২০২৫/২৬ মৌসুমের পূর্ণাঙ্গ হিসাব থেকে জানা যাচ্ছে, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত গত দুবছরে ক্লাবের কর্মীসংখ্যা ১,১২৭ থেকে কমে ৮০৫তে এসেছে। অর্থাৎ, ২৮.৬ শতাংশ কর্মী কমেছে এসময়ে। বড় ছাঁটাই হয়েছে ক্লাবের নিজস্ব মিডিয়া ও বাণিজ্যিক বিভাগে। এসব বিভাগে কর্মীসংখ্যা যথাক্রমে ৪৫ শতাংশ ও ৪৪ শতাংশ কমানো হয়েছে।
প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে টিকিটিংসহ ১৬১টি পদ কমানো হয়েছে। ফুটবল সংশ্লিষ্ট কর্মী, যেমন স্কাউটিং ও একাডেমি কোচিং স্টাফদের মধ্য আরও ৬০টি পদ বিলুপ্ত করা হয়েছে। গ্লেজার পরিবারের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য ২৮.৯৪ শতাংশ পরিমাণ শেয়ার কিনে নেয় ইনিওস কোম্পানি। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্লাবের দৈনন্দিন কার্যক্রমের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে ইনিওসের প্রতিষ্ঠাতা র্যাটক্লিফ ব্যাপকভাবে ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেন।
র্যাটক্লিফের কর্মী ছাঁটাইয়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল দলের খেলোয়াড়দের পেছনে বিনিয়োগের জন্য আরও অর্থ সংস্থান করা। এর ফলে ইউনাইটেডের পরিচালনগত ফলাফলে বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৪ সালে যেখানে প্রায় ৭০ মিলিয়ন পাউন্ড পরিচালনগত লোকসান ছিল, সেখানে এবছর ৩০ জুন পর্যন্ত ২২.৬ মিলিয়ন পাউন্ড মুনাফা হয়েছে।
গত মৌসুমে ক্লাবের মোট বেতনভাতার খরচ কমে ৩০২ মিলিয়ন পাউন্ডে এসেছিল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফিরে আসায় এবং সেটির সুবাদে খেলোয়াড়দের বেতন বেড়ে যাওয়ায় চলতি বছর এই খরচ আবার বাড়বে। তা সত্ত্বেও, গত মৌসুমে ইউনাইটেড ৪৭ মিলিয়ন পাউন্ডের প্রাক কর লোকসান দেখিয়েছে। এর অর্থ হল, বিপুল ঋণের বোঝা ও তার সুদ পরিশোধের মাশুল গুনতে গিয়ে ক্লাবটি টানা সাত বছর ধরে লোকসান করে চলেছে।







