নিউ ইয়র্কে আইস এজেন্টের গুলিতে আহত ১

ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের শহরের ব্রঙ্কস এলাকায় অভিবাসনবিরোধী অভিযানের সময় এক ব্যক্তিকে গুলি করেছেন দেশটির ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) এক এজেন্ট। বৃহস্পতিবারের এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি জীবিত আছেন এবং স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পরিচালিত বিশেষ অভিযানের সময় আইসের এক কর্মকর্তা গুলি চালান।
নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ঘটনাটিকে ‘অমানবিক ও অত্যন্ত গুরুতর পরিস্থিতি’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, আইস এজেন্টরা একটি গাড়িসহ ওই ব্যক্তি ও তাঁর সঙ্গে থাকা পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ঘিরে ফেলেছিলেন। এরপর একাধিকবার গুলি চালানো হয়। শিশুটি শারীরিকভাবে অক্ষত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মামদানির বক্তব্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে বিবিসি ডিএইচএসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
বৃহস্পতিবার গভীর সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল জানান, গোলাগুলির ঘটনা নিয়ে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। এ সময় তিনি নিউ ইয়র্কবাসীর পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভের কথা তুলে ধরেন।
হোকুল বলেন, গোলাগুলির সময় ধারণ করা বডি ক্যামেরার ফুটেজ জনসমক্ষে প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এতে প্রকৃত ঘটনা ও সত্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন গভর্নর।
এ ঘটনায় ট্রাম্প এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।
ডিএইচএস জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি ডোমিনিকান রিপাবলিকের নাগরিক। তবে তাঁর নাম প্রকাশ করা হয়নি। সংস্থাটির দাবি, গুরুতর চুরির অপরাধে তাঁর আগের সাজা রয়েছে। এ ছাড়া মারধর, ডাকাতি, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে তাঁকে একাধিকবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
ডিএইচএস আরও দাবি করেছে, ওই ব্যক্তি ‘ট্রিনিটারিয়োস’ নামের একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মার্কিন বিচার বিভাগ এই গোষ্ঠীকে একটি আন্তদেশীয় অপরাধী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
এদিকে মেয়র মামদানি জানিয়েছেন, নিউ ইয়র্ক শহরে আইসের অভিযান ও আইন প্রয়োগ কার্যক্রম বন্ধের জন্য তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে আহ্বান জানাবেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মামদানি লেখেন, ‘আইস এজেন্টরা আমাদের কমিউনিটিতে আতঙ্ক ছড়াবে আর আমি তা চেয়ে চেয়ে দেখব, তা হতে পারে না।’
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে বিক্ষোভ করেন একদল মানুষ। এ সময় তাঁরা ‘আমরা ন্যায়বিচার চাই’ এবং ‘আমাদের রাস্তা থেকে আইসকে এখনই হঠাতে হবে’ বলে স্লোগান দেন।





