মালয়েশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও প্রভাবশালী প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ আজ পা রাখলেন জীবনের এক শতকে। ১৯২৫ সালের ১০ জুলাই কেদাহর আলোর সেটারে জন্ম নেওয়া মাহাথির মোহাম্মদ তার ১০০তম জন্মদিন উদ্যাপন করছেন রাজনৈতিকভাবে নানা চড়াই-উতরাই ও অবিস্মরণীয় অবদানে ভরপুর এক শতাব্দীর সাক্ষী হয়ে।
৯ ভাই-বোনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ মাহাথির মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে প্রবেশ করেন গত শতকের মধ্যভাগে। প্রথমবার তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ১৯৮১ সালে এবং টানা ২২ বছর বারিসান ন্যাশনাল (বিএন) সরকারের শীর্ষে থেকে দেশ পরিচালনা করেন। পরে ২০১৮ সালে রাজনীতির মঞ্চে চমক দেখিয়ে পাকাতান হারাপান (পিএইচ) জোটের নেতৃত্বে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হন, যা ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী ছিল।
তার প্রথম প্রধানমন্ত্রিত্বের সময়েই মাহাথির আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার হিসেবে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন। তার নেতৃত্বেই নির্মিত হয় দেশটির পরিচিতি বহনকারী স্থাপনা—পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার, কেএল টাওয়ার, কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (কেএলআইএ) এবং প্রশাসনিক শহর পুত্রাজায়া। মালয়েশিয়ার প্রথম গাড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্রোটন হোল্ডিংসের সূচনাও হয় তার হাত ধরে।
‘লুক ইস্ট পলিসি’ নামে খ্যাত তার কৌশলী উদ্যোগে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে শিক্ষা ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়। এই নীতির মাধ্যমে মাহাথির এশিয়ার উন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক মডেল অনুসরণে মালয়েশিয়াকে উজ্জীবিত করেন। অর্থনৈতিক খাতে বেসরকারিকরণ এবং শিল্পায়নের মাধ্যমে তিনি মালয়েশিয়াকে ‘এশিয়ান টাইগার’ হিসেবে বিশ্বদরবারে পরিচিত করান। এশিয়ায় আর্থিক সংকট চলাকালে মাহাথির সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সহায়তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং মূলধন নিয়ন্ত্রণসহ রিঙ্গিতের মান নির্ধারণে সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
বর্তমানে তিনি কেদাহ, কেলানটান, তেরেঙ্গানু এবং পার্লিসে পিএএস-নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে মাহাথির বরাবরই একটি বিভাজনমূলক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও ঐক্য সরকারের অন্যতম দল পিএইচ এবং উমনোর সমালোচনায় তিনি বরাবরই সরব।
মাহাথির এবং তার স্ত্রী ডা. সিতি হাসমাহ আলীর (৯৮) ঘরে সাত সন্তান—মেরিনা, মির্জান, মেলিন্ডা, মোখজানি, মুখরিজ, মাইজুরা এবং মাজহার। তাদের পরিবার মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছে।








