বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আগামীকাল বুধবার। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফলভাবে পালন করতে ব্যাপকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এছাড়া একই দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজে জয়ের জন্মদিন। তাই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও সজিব ওয়াজে জয়ের জন্মদিন পালনে প্রস্তুতি বেশ জমজমাট। অন্যদিকে সদ্য প্রায়ত সংগঠনের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ এর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি সংগঠনের নেতাকর্মী। শোককে শক্তিতে পরিণত করেই বিরামহীনভাবে যার যার অবস্থান থেকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল করতে কাজ করছেন।
কিন্তু বিগত দুই বছর করোনার মধ্যে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে রাজধানী ঢাকা ব্যানার, ফেস্টুনের শহরে পরিণত হলেও এবার চিত্র ভিন্ন। ঢাকা মহানগরের ওয়ার্ড,থানা কমিটি বিলুপ্ত করায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনে নেতাকর্মীদের মনে তেমন তোড়জোড় নেই। তারচেয়ে বড় কথা হলো স্বেচ্ছাসেবক লীগ মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ প্রায় তিন বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে না পারায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি মহানগরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে সকল কার্যক্রম স্থগিত করার নির্দেশনা দিয়ে গত মাসে ২৮তারিখে চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি।
যতদিন পর্যন্ত মহানগর পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে জমা না দেওয়া হবে ততদিন পর্যন্ত মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সকল কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।তাই নেতৃত্বে শূন্যই বলা চলে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ। তারপরে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ভিন্নরুপে আর্বিভাব হচ্ছেন কেউ কেউ।
ঢাকা মহানগরের ওয়ার্ড,থানা কমিটি বিলুপ্ত করায় পরে দক্ষিণে কিছু নেতাকর্মীর ব্যানার থাকলেও উত্তরে নতুন সাজে ব্যানার পোস্টার সেজেছে।

মিরপুর এলাকায় ঢুকতে চোখে পড়বে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সাজ-সজ্জা।সেখানে চোখে পড়লো মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ দুলাল হোসেনের পোস্টার।
কমিটি নেই তারপরেও এতো প্রচার কেন করেছেন? মুঠোফোনে জানতে চাইলে মোঃ দুলাল হোসেন বলেন, বুক ভরা শোকের মধ্যে যারা হাসতে পারে, আমি তাদের মধ্যে একজন। একদিকে দলের দুঃসময়ের অন্য দিকে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী তারমধ্য কমিটির নেই তারপরেও নেতা হয়ে বসে থাকতে পারি না। মহানগরে কোনো কমিটি নেই পদ নেই তাই বলে কি ব্যানার পোষ্টার করা যাবে না। দলের সঙ্গে ছিলাম আছি ভবিষ্যতে যেকোনো পরিস্থিতি থাকবো ইনশাআল্লাহ।
মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ প্রায় দু’ডজন নেতাকর্মীরা বলেন, আমাদের একটাই দুঃখ যে, তিন বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারেনি মহানগরের দায়িত্বপ্রাপ্তরা। আমাদের অপরাধ কি ? আমরা যদি সফল না হই, তাহলে আমাদের সম্মেলনের মাধ্যমে বিদায় দিলে আমরা খুশি হতাম। প্রায় তিন বছরে কোনো কমিটি না দিয়ে বরং মহানগর কমিটি ওয়ার্ড, থানার কমিটি বিলুপ্ত করেছে। এছাড়া গত ২৮ জুন ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের কার্যক্রম স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ। তাই এখন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাবিহীন।
মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের পদপ্রত্যাশীদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, আগামী তিন থেকে সারে তিন মাসের জন্য কেউ পদ নিতে রাজি না। তাদের দাবি নতুন সম্মেলন মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত করলে ভালো হয়। কারণ বর্তমান দুই সদস্য বিশিষ্ট স্থগিত কমিটির উপর কোনো নেতা ভরসা রাখতে পারছে না। কারণ তারা প্রায় তিন বছরে মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করতে পারেনি। এমনকি সংগঠনকে আরো বেগবান করতে একটি বর্ধিত সভাও করতে পারে নাই। তাদের এই ব্যর্থতার দায়ের মাশুল দিতে হইছে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ সকল ওয়ার্ড, থানার দীর্ঘদিনের পরিক্ষীত পদপত্যাশী নেতাকর্মীদের।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক তারিক সাঈদ বলেন, কমিটি করে এখনো জমা দেওয়া হয়নি। তবে খুব দ্রুত জমা দেওয়া হবে।
ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান নাঈম বলেন, আমার সংগঠনের ইন্টারনাল বিষয় কথা বলবো না।
২৮ জুন এরপরে কোনো কমিটি করে জমা দেওয়া হয়েছে কি না এর উত্তরে তিনি বলেন, না দেওয়া হয়নি। দুই-একদিন মধ্যে কমিটি করে জমা দেওয়া হবে।
আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু বলেন,পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদেরকে। এখনো তারা কমিটি জমা দেয়নি।