এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। সীমা ২৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে পৌনে চার লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। বর্তমানে এ সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকা।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বাস্তবতা বিবেচনায় আগামী পাঁচ বছরের জন্য ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা নির্ধারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ২০২৮–২৯ ও ২০২৯–৩০ করবর্ষে সাধারণ করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা এবং ২০৩০–৩১ করবর্ষে তা ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, করদাতারা যাতে মধ্যমেয়াদে তাদের করদায় সম্পর্কে আগাম ধারণা পেতে পারেন, সে লক্ষ্যেই আগামী পাঁচ বছরের জন্য আয়কর হার ও করমুক্ত আয়ের সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
সাধারণ করদাতাদের পাশাপাশি বিশেষ শ্রেণির করদাতাদের জন্যও করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। নারী করদাতা এবং ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সীদের জন্য ২০২৬–২৭ ও ২০২৭–২৮ করবর্ষে করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৮–২৯ ও ২০২৯–৩০ করবর্ষে এ সীমা ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০৩০–৩১ করবর্ষে ৫ লাখ টাকা করার কথা বলা হয়েছে।
তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধী করদাতাদের জন্য ২০২৬–২৭ ও ২০২৭–২৮ করবর্ষে করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা, ২০২৮–২৯ ও ২০২৯–৩০ করবর্ষে ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং ২০৩০–৩১ করবর্ষে ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ জন্য ২০২৬–২৭ ও ২০২৭–২৮ করবর্ষে করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা, ২০২৮–২৯ ও ২০২৯–৩০ করবর্ষে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০৩০–৩১ করবর্ষে ৬ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পিতা–মাতা বা আইনানুগ অভিভাবক প্রত্যেক প্রতিবন্ধী সন্তান বা পোষ্যের জন্য অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা করমুক্ত আয়ের সুবিধা পাবেন।
করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য আগামী পাঁচ বছরের আয়কর হারও ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে করব্যবস্থাকে আরও পূর্বানুমানযোগ্য ও প্রগতিশীল করা সম্ভব হবে।







