কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ওয়ার্কশপে কাজ করতে গিয়ে হাত হারানো শিশু নাঈম হাসান নাহিদ আপাতত কারখানার মালিকের কাছ থেকে পেলেন ১০ লাখ টাকা।
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির পূর্নাঙ্গ আপিল বিভাগে বৃহস্পতিবার বিষয়টি উপস্থাপনের পর শিশু নাঈমের আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর ফারুকের কাছে ১০ লাখ টাকার চেক বুঝিয়ে দিয়েছেন কারখানা মালিকের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
এদিকে, এই মামলার পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ১৩ মে দিন ধার্য করেছেন সর্বোচ্চ আদালত। সেদিন শিশু নাঈম অবশিষ্ট ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর ফারুক।
শিশু নাঈমের হাত হারানোর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তার বাবা মো. নিয়ামুল হোসেন আনোয়ার হাইকোর্টে রিট করেন। সে রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ২৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুল দেন। পরবর্তীতে রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট রায় দেন। সে রায়ে শিশু নাঈমের নামে ১৫ লাখ টাকা করে ১০ বছর মেয়াদে দুটি ফিক্সড ডিপোজিট করে দিতে ওয়ার্কশপের মালিককে নির্দেশ দেয়া হয়। একই সঙ্গে নাঈমের পড়ালেখার খরচ হিসেবে প্রতি মাসে সাত হাজার টাকা করে তার ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে মালিকপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে হাইকোর্টের সে রায়ের বিরুদ্ধে ওয়ার্কশপমালিক ইয়াকুব হোসেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন। ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর সেই লিভ টু আপিল খারিজ করে দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ফলে নাঈমের পক্ষে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকে।
‘ভৈরবে শিশুশ্রমের করুণ পরিণতি’ শিরোনামে প্রকাশিত যে প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে রিট করা হয় সেখানে উল্লেখ করা হয় যে, নাঈমের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার আড়াইসিধা গ্রামে। তারা বাবা নিয়ামুল হোসেন আনোয়ার পেশায় জুতা ব্যবসায়ী। কর্মসূত্রে পরিবার নিয়ে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বাস করছিলেন তিনি। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হলে আনোয়ার কর্মহীন হয়ে পড়েন। সংসারের চাপ সামলাতে নাঈমকে তার মা–বাবা ভৈরবের একটি ওয়ার্কশপে কাজে দেন। ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ওয়ার্কশপে কাজ করতে গিয়ে নাঈমের ডান হাত ড্রিল মেশিনে ঢুকে যায়। পরে শিশুটিকে বাঁচাতে চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কনুই থেকে তার ডান হাত বিচ্ছিন্ন করেন। সে সময় নাঈমের পরিবার ভৈরবের কমলপুর এলাকার নূর বিল্ডিং নামের একটি ভবনে ভাড়া থাকত। ভবনটির মালিক এলাকার ইকবাল হোসেন ইয়াকুব।








