কোটা আন্দোলনের আড়ালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ভবন ও এর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা ও আগুন দেয়ার ঘটনায় প্রায় ৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি বলেছেন, আগুন লাগিয়ে দেয়ার আগে ভবনটির ভিডিও এবং রেকি করে পরিকল্পিতভাবে হামলা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সহিংসতায় নারায়ণগঞ্জের সরকারি ৮টি প্রতিষ্ঠানসহ অর্ধশতাধিক স্থাপনায় হামলা, ভাংচুর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে আগুনে প্রায় ৮ হাজার পাসপোর্টসহ তথ্য সংগ্রহের সার্ভার পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ল্যাপটপসহ অফিসের অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
মেয়র বলেন, তবে সিটি কর্পোরেশনের সার্ভার ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়ায় জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ওয়াসার বিলসহ অন্যান্য বিষয়ে সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। ইন্টারনেট স্বাভাবিক হলেই এসব সার্ভিস স্বাভাবিক হবে। কোটাবিরোধি আন্দোলনের সুযোগে গত ১৮ ও ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ভবন ও সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা।
১৮ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় নগরীর ২নং রেলগেটস্থ মিনি পার্কে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাংচুর করে ও গাছপালা উপড়ে ফেলে। নগর মিলনায়তনের পাশে সিটি কর্পোরেশনের বাণিজ্যিক ভবন দোয়েল সিটি প্লাজা-১ ভাংচুর করা হয়। জিমখানা এলাকায় দোয়েল সিটি প্লাজা-৩ এ ভাংচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়।
নারায়ণগঞ্জ সাইনবোর্ড এলাকায় পাসপোর্ট অফিস ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, পিবিআই অফিসেও ভাংচুর চালানো হয়। গত ১৯ জুলাই সহিংতায় পরপর দু’টি অফিসে আগুন দেওয়া হয়। চালানো হয় ভাংচুর লুটপাট। একই দিনে ভূইঘর শিল্প পুলিশের জেলা কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়। রাতে জালকুড়ি এলাকায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ ভবনে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা।
পরদিন ২০ জুলাই রাতে জেলা আওয়ামী লীগ অফিস, ২ নং রেলগেট পুলিশ বক্স, পাশেই রেলওয়ে সিগন্যাল কন্ট্রোল রুম, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ভবনসহ বেশ কয়েকটি ভবনে হামলা চালানো হয়। পুড়িয়ে দেওয়া হয় সিটি কর্পোরেশনের তিনটি গাড়ি।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ও আওয়ামী লীগ অফিস গতকাল পরিদর্শন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ নজরুল ইসলাম বাবু এমপি। এসময় বাবু বলেন, এসব সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে যারা হামলা চালিয়েছে তারা দেশদ্রোহী। তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন চায় না। শেখ হাসিনার কর্মী ও নেতাদেরকে চিহ্নিত করে নিশ্চিহ্ন করার দুঃসাহস যারা দেখিয়েছে তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দায়িত্ব প্রশাসনকেই নিতে হবে।








