ভারতীয় রিয়েলিটি শো মানেই যেন এখন ঝগড়া, চিৎকার, ব্যক্তিগত আক্রমণ আর বিতর্ক! বছরের পর বছর ধরে এই ফর্মুলাতেই তৈরি হয়েছে একের পর এক জনপ্রিয় অনুষ্ঠান। কিন্তু সেই পরিচিত ছক থেকে বেরিয়ে এসে এখন দর্শকদের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে প্রাইম ভিডিওর নতুন রিয়েলিটি শো ‘অ্যালায়েন্স’!
অনেক দর্শকের মতে, যেখানে নেটফ্লিক্সের ‘লক আপ ২’ ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ও বিতর্ককে কেন্দ্র করে এগোচ্ছে, সেখানে ‘অ্যালায়েন্স’ গুরুত্ব দিচ্ছে কৌশল, পরিকল্পনা, জোট গঠন এবং বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্তকে। আর এই ভিন্নতাই শোটিকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।
কুনাল খেমুর সঞ্চালনায় ‘অ্যালায়েন্স’-এ অংশ নিয়েছেন ১৬ জন প্রতিযোগী। শুরুতে জুটি হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও পরে তারা চারটি আলাদা জোটে বিভক্ত হন। শারীরিক ও মানসিক নানা চ্যালেঞ্জে অংশ নিয়ে পয়েন্ট অর্জন করতে হয়, আর সেই পয়েন্টই নির্ধারণ করে প্রতিযোগীদের অবস্থান ও টিকে থাকার সম্ভাবনা।
শোটির সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিক হলো ‘সিস্টেম’ নামে একটি স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, যা নিয়মিত নতুন টাস্ক, অপ্রত্যাশিত মোড় এবং নিয়ম পরিবর্তনের মাধ্যমে খেলাটিকে প্রতিনিয়ত বদলে দেয়। ফলে প্রতিযোগীদের প্রতিটি সিদ্ধান্তই হয়ে ওঠে গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে ‘লক আপ ২’ আগের মৌসুমের ধারা অনুসরণ করে কারাগারভিত্তিক পরিবেশে প্রতিযোগীদের নানা চ্যালেঞ্জ, গোপন তথ্য প্রকাশ এবং ব্যক্তিগত সংঘাতকে সামনে নিয়ে এসেছে। যদিও শুরুতে শোটির মূল ধারণা ছিল বিতর্কিত ব্যক্তিত্বদের আত্মস্বীকৃতি ও পরিবর্তনের গল্প তুলে ধরা, তবে অনেক দর্শকের মতে, এখন সেটি অনেকটাই ঝগড়া-বিবাদনির্ভর বিনোদনে পরিণত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই শোর মূল কাঠামো একই- একদল অপরিচিত মানুষ, সীমিত একটি জায়গায় বসবাস, দলগত প্রতিযোগিতা এবং ধাপে ধাপে বাদ পড়া। তবে পার্থক্য তৈরি হয়েছে উপস্থাপনার ধরনে।
‘অ্যালায়েন্স’-এ কৌশলই মূল চরিত্র। এখানে প্রতিযোগীদের টিকে থাকতে হলে শুধু জনপ্রিয় হলেই হয় না; প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, সময়মতো জোট গঠন এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা। ফলে নাটকীয়তা তৈরি হলেও তা আসে খেলার স্বাভাবিক অগ্রগতির মধ্য দিয়ে, আলাদা করে সংঘাত তৈরির চেষ্টা থেকে নয়।
অন্যদিকে ‘লক আপ ২’-এর আলোচনা ঘুরপাক খাচ্ছে মূলত কে কার সঙ্গে ঝগড়া করলেন, কে কাকে আক্রমণ করলেন কিংবা কোন বিতর্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলো- এসব বিষয়কে ঘিরে।
দর্শকদের একাংশ মনে করছেন, রিয়েলিটি শো শুধু উচ্চস্বরে তর্ক-বিতর্কের ওপর নির্ভর না করে, বুদ্ধি, কৌশল এবং প্রতিযোগিতার রোমাঞ্চ দিয়েও সমানভাবে আকর্ষণীয় হতে পারে। সেই কারণেই মুক্তির পর থেকেই ‘অ্যালায়েন্স’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
অনেকের মতে, ভারতীয় রিয়েলিটি শোর প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে এসে ‘অ্যালায়েন্স’ প্রমাণ করেছে- দর্শকদের মন জয় করতে সবসময় চিৎকার-চেঁচামেচির প্রয়োজন হয় না; স্মার্ট গেমপ্লেও হতে পারে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। ইন্ডিয়া টুডে







