কক্সবাজার

রোহিঙ্গা সাড়ায় স্থানীয় এনজিও বঞ্চিত, এক সংস্থার ৩৪ প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন

রোহিঙ্গা সাড়ায় স্থানীয় এনজিও বঞ্চিত, এক সংস্থার ৩৪ প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন

ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা সাড়ায় স্থানীয়করণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, রোহিঙ্গা সাড়ায় স্থানীয় সংস্থাগুলোর সরাসরি অংশগ্রহণ ও অর্থায়ন নিশ্চিত না হলে স্থানীয়করণের লক্ষ্য পূরণ হবে না। একই সঙ্গে একটি স্থানীয় এনজিওকে ৩৪টি প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থায়ন দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

বৃহস্পতিবার(৮ অক্টোবর) কক্সবাজারে ‘গ্র্যান্ড বার্গেইন ২০২৬’-এর পর: স্থানীয়দের দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা। কোস্ট ফাউন্ডেশন, বিডিসিএসও প্রসেস এবং কক্সবাজার সিএসও, এনজিও ফোরাম যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন কক্সবাজার সিএসও, এনজিও ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কোস্ট ফাউন্ডেশনের মো. ইকবাল উদ্দিন।

২০১৬ সালের মে মাসে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত বিশ্ব মানবিক সম্মেলনে গ্র্যান্ড বার্গেইন প্রতিশ্রুতি গৃহীত হয়। মানবিক সহায়তায় স্থানীয় ও জাতীয় সংস্থার অংশগ্রহণ, সমান অংশীদারত্ব, মানসম্মত ও নমনীয় অর্থায়ন এবং সহায়তা গ্রহণকারী মানুষের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করা এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধে মো. ইকবাল উদ্দিন বলেন, কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সাড়ার আটটি প্রধান খাতই জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। মাত্র একটি খাতে একটি আন্তর্জাতিক এনজিও সহ-নেতৃত্বে রয়েছে। কোনো জাতীয় বা স্থানীয় এনজিও কোনো খাতের নেতৃত্বে নেই।

তিনি জানান, ২০২৬ সালের যৌথ সাড়া পরিকল্পনার মোট অর্থের ৮৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ পেয়েছে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো। আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো পেয়েছে ৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ এবং জাতীয় এনজিওগুলো পেয়েছে ৪ দশমিক ২৬ শতাংশ। তবে স্থানীয় এনজিওগুলো সরাসরি কোনো অর্থায়ন পায়নি।

কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘সরাসরি অর্থায়নের’ নামে কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা একটি নির্দিষ্ট স্থানীয় এনজিওকে ৩৪টি প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থ দিচ্ছে। এ ছাড়া দেশের একটি নিজস্ব প্রতিষ্ঠান, যারা বর্তমানে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তারাও জাতীয় এনজিও হিসেবে অর্থ পাচ্ছে। এ ধরনের ব্যবস্থা ন্যায্য নয়। এতে অন্য স্থানীয় এনজিওগুলো সরাসরি অর্থায়ন পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

রোহিঙ্গা সমন্বয় প্ল্যাটফর্মের প্রধান ইগর চিওবানু বলেন, আগামী বছরগুলোতে স্থানীয় এনজিওগুলোর কাছে আরও বেশি অর্থ পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। স্থানীয় সংস্থাগুলোর অর্থায়নের পথে থাকা বাধাগুলো দূর করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার কথাও জানান তিনি।

আগ্রযাত্রার নির্বাহী পরিচালক নিলিমা আখতার বলেন, বর্তমান যৌথ সাড়া পরিকল্পনায় কোনো স্থানীয় এনজিওর সরাসরি অংশগ্রহণ নেই। তাহলে কীভাবে সহায়তার স্থানীয়করণ নিশ্চিত করা হবে? তিনি নারী নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোকে সরাসরি অর্থায়নের দাবি জানান।

কক্সবাজার এনজিও প্ল্যাটফর্মের সমন্বয়ক কোরিন বালি বলেন, স্থানীয় নেতৃত্বে রোহিঙ্গা সাড়া কার্যক্রম জোরদার করতে জাতিসংঘের সংস্থা ও আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোর সঙ্গে তারা কাজ করবেন।

হেল্প কক্সবাজারের নির্বাহী পরিচালক আবুল কাশেম বলেন, আসন্ন রোহিঙ্গা সাড়া কার্যক্রমের রূপরেখা তৈরির প্রক্রিয়ায় স্থানীয় এনজিওগুলোর সম্মিলিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয় নেতৃত্বে রোহিঙ্গা সাড়া নিশ্চিত করতে এখন থেকেই সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

শুশীলনের উপদেষ্টা মুজিবুর রহমান বলেন, স্থানীয় এনজিওগুলোর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। তাদের জন্য মোট অর্থায়নের ৫০ শতাংশ সরাসরি ও নমনীয়ভাবে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

জেএনইউএসের নির্বাহী পরিচালক শিউলি শর্মা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন জেডইউজেডইউপির নুরুল আমিন সিদ্দিকী, জিএনবিকেএসের সৈয়দা দুলারি ইকবাল, ফ্যালস বাংলাদেশের মাহবুব আলম, এইড কুমিল্লার শাপনা মাগ, এজেএস কক্সবাজারের রমজান আলী শিকদার, ইয়ুথ ফোরাম কক্সবাজারের নাসিমা আখতার, এইচএফআরএফের মোস্তাফিজুর রহমান কাজল, ওয়াইপিএসএর জয়নায়াল আবেদিন, ডেপেকোর আনিসুল ইসলাম, স্টেপ ফর হিউম্যানিটির মোহাম্মদ আলী, রোকেয়া ফাউন্ডেশনের অঞ্জুমান আরা বেগম, এনজিও প্ল্যাটফর্মের আমির হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া টিটিসির মো. আফজাল হোসেন এবং এসবিএসকেএসের মোহাম্মদ ম্যাক্স।

বক্তারা বলেন, স্থানীয়করণের অঙ্গীকার শুধু নীতিগত বক্তব্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। অর্থায়ন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নেতৃত্ব ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও স্থানীয় ও জাতীয় সংস্থাগুলোর কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য জাতিসংঘের সংস্থা, আন্তর্জাতিক এনজিও, দাতা সংস্থা এবং স্থানীয় সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন।

বিষয়:‘গ্র্যান্ড বার্গেইন ২০২৬’ কক্সবাজার এনজিও প্ল্যাটফর্মের সমন্বয়ক কোরিন বালি জেএনইউএসের নির্বাহী পরিচালক শিউলি শর্মা রোহিঙ্গা সমন্বয় প্ল্যাটফর্মের প্রধান ইগর চিওবানু
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…