আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চাঁদপুর জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় প্রায় ৯ হাজার গবাদিপশুর ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে আশপাশের জেলা থেকে পশু আসলে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলায় কোরবানির পশুর সম্ভাব্য চাহিদা রয়েছে ৭৫ হাজার ২৪৮টি। এর বিপরীতে স্থানীয় খামার ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রস্তুত রয়েছে ৬৬ হাজার ৯৮টি পশু। ফলে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৯ হাজার ১৫০টি পশুর ঘাটতি রয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জ্যোতির্ময় ভৌমিক জানান, জেলার বাইরের ব্যবসায়ীরা পশুহাটে গরু ও অন্যান্য গবাদিপশু নিয়ে এলে চাহিদার এই ঘাটতি পূরণ হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জেলার খামারিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। খামারি হাজী মোজাম্মেল জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও তিনি ২৫ থেকে ৩০টি গরু লালন-পালন করেছেন। শাহজাহান ও সম্রাট নামে কয়েকটি বড় ষাঁড়সহ প্রায় ৫০টি গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। গরুগুলোকে ঘাসের পাশাপাশি ভুসি, খৈল ও দানাদার খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। তবে পশুখাদ্য ও লালন-পালনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবার দেশি গরুর দাম কিছুটা বেশি হতে পারে বলে জানান তিনি।
জেলার বিভিন্ন খামারে গিয়ে দেখা যায়, দেশীয় জাতের ষাঁড়ের চাহিদাই বেশি। অনেক ক্রেতা সময়ের অভাবে সরাসরি খামার কিংবা বাড়ি থেকে গরু কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। কয়েকটি খামারে দরদাম করতে দেখা গেছে ক্রেতাদের। তবে তাদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম বেড়েছে।
খামারে কর্মরত শ্রমিকরা জানান, পশুগুলোকে সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন রাখতে দিনে দুইবার শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করানো হয়। এছাড়া পুষ্টি নিশ্চিত করতে দেশি ঘাসের পাশাপাশি ভুসি ও খৈল খাওয়ানো হচ্ছে।
প্রাণিসম্পদ দপ্তর জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে চাঁদপুর জেলায় প্রায় ২০০টি পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দালালদের ভিড় এড়াতে অনলাইন ও সরাসরি খামার থেকেও গবাদিপশু কেনাবেচার ব্যবস্থা চালু রয়েছে।







