চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

যেন বেকারত্ব ঘোচার অনুভূতি!

করোনার কারণে অন্যান্য অঙ্গনের মতো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন শিল্পীরা। বিশেষ করে ব্যান্ড শিল্পীরা ক্ষতির শিকার হয়েছেন সবচেয়ে বেশি…

করোনা মহামারীর কারণে প্রায় দেড় বছর ধরে নেই কোনো কনসার্ট। শিল্পীরা প্রস্তুত থাকলেও এতোদিন কনসার্ট আয়োজনের অনুমতি পায়নি আয়োজকরা। কনসার্ট না থাকায় বহু শিল্পী আর্থিকভাবে হয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত। বিশেষ করে ব্যান্ড শিল্পীরা সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

সেই অবস্থার পরিবর্তন হতে চলেছে। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় মিলছে কনসার্ট আয়োজনের অনুমতিও। আগামি ১ অক্টোবর রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশনের পুষ্পগুচ্ছ হলে ব্র্যান্ডমিথ কমিউনিকেশন এর আয়োজনে হবে কফি কার্নিভাল, ঢাকা কনসার্ট । স্পন্সর করছে ড্যান কেক এবং নেসক্যাফে। মহামারীর ঠিক পর পর যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও পর্যাপ্ত সতর্কতা মেনে আয়োজিত এই কনসার্টে স্বস্তিতে আছেন শিল্পী শ্রোতা দর্শকরাও।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এই কনসার্টে পারফর্ম করবে দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড আর্টসেল, শিরোনামহীন ও নেমেসিস সহ বেশ কয়েকটি দল। বহুদিন পর কনসার্টে অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ পেয়ে যেন কিছুটা স্মৃতিকাতর দলগুলো! জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘শিরোনামহীন’ এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও বেজ গিটারিস্ট জিয়া রহমান তাই মজা করে বললেন, ‘অবশেষে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাচ্ছি।’

চ্যানেল আই অনলাইনকে জিয়া বলেন, ১ অক্টোবরের কনসার্টটি নানা কারণেই গুরুত্বপূর্ণ। করোনার পর দীর্ঘ বিরতি শেষে গানের পরিবেশে ফেরা, খবরটি আনন্দের। একমাত্র কনসার্টের মাধ্যমেই শিল্পীদের সাথে শ্রোতা-দর্শকরা মিলেমিশে একাকার হওয়ার সুযোগ পান। তা থেকে দুই পক্ষই বঞ্চিত ছিলাম। মহামারীর কারণে তৈরী হওয়া সেই দূরত্বটাও কনসার্টের মাধ্যমে ঘুচবে!

কোভিড পরিস্থিতির পর কনসার্ট আয়োজন নিয়ে অনেকের হয়তো দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছিলো। মহামারীর পর টাকা দিয়ে কনসার্ট দেখতে আসার মানুষ পাওয়া নিয়েও ছিলো সংশয়! কিন্তু ১ অক্টোবরের কনসার্টের টিকেট ছাড়ার পর পর ঘটে গেলো বিস্ময়ের এক ঘটনা।

বিজ্ঞাপন

শিরোনামহীনের এই বেজ গিটারিস্ট জানান, কনসার্টটির টিকেট ছাড়ার ঘন্টা তিনেকের মধ্যেই সব বিক্রি শেষ! এমন ঘটনা বিরল! এতো কম সময়ে সাধারণ দর্শকসারির টিকেট বিক্রি শেষ হয়ে যাওয়ার ঘটনা অন্তত আমি দেখিনি।

জিয়া জানান, ভিআইপি টিকেট থাকলেও সাধারণ দর্শকসারির টিকেট অবশিষ্ট নেই। আয়োজকদের কাছ থেকে জেনেছি, সাধারণ দর্শকসারির নির্ধারিত আসনের আগাম টিকেট পূর্ণ। নিয়মিত দর্শকদের অনেকে টিকেট না পেয়ে হাহুতাশ করছেন।আয়োজকদের কাছেও অনুরোধ করছেন। কোভিড এর অব্যবহিত পর সার্বিক দিক দিয়ে এটা অত্যন্ত ভালো লাগার।

বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তির কথাটি মজা করে বললেও এই মিউজিশিয়ান জানান, ‘কোভিডের কারণে আক্ষরিক অর্থেই তো শিল্পীরা বেকার।’ এমন অবস্থায় করপোরেট শোয়ের যারা আয়োজন করেন, তাদের এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান জিয়া। বলেন, দর্শকের যে চাহিদা আছে, সেটাতো কোভিড পরবর্তী কনসার্টের আগাম টিকেট বিক্রির বিষয়টিই বড় প্রমাণ।

কনসার্টটি সার্থক করে তুলতে আইনশৃঙ্ক্ষলা বাহিনীর কাছ থেকে সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে আয়োজকরা জানান, ১ অক্টোবরের আয়োজনটি সফল করতে পুলিশ বাহিনীর কাছ থেকে দারুণ সহযোগিতা পাচ্ছি। তাদের যথেষ্ট সতর্কতা আছে।

জানানো হয়,  ১ অক্টোবর দর্শক শ্রোতাদের জন্য বিকেল ৩টায় বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশনের পুষ্পগুচ্ছ হলের গেট ওপেন করা হবে। কনসার্ট শুরু হবে বিকেল ৪টায়।