ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রথমবারের মতো রাস্তায় রোবট পুলিশ মোতায়েন করেছে চীন। তবে এই রোবটের কাউকে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা নেই। চাকার সাহায্যে চলাচলকারী রোবটটি মূলত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, আইন লঙ্ঘন শনাক্ত এবং পথচারীদের বিভিন্ন তথ্য দেওয়ার কাজ করছে।
সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
চীনের পূর্বাঞ্চলীয় হাংচৌ শহরের একটি ব্যস্ত মোড়ে দায়িত্ব পালন করছে ‘টি২’ নামের এই রোবট। এর উচ্চতা ১ দশমিক ৮৮ মিটার এবং ওজন ৯৮ কেজি। স্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সাপকন ইনফরমেশন এটি তৈরি করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির আনম্যানড সিস্টেমস ইনোভেশন সেন্টারের প্রধান কাও হুই জানান, রোবটটির ক্যামেরার মাধ্যমে হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল বা ই-বাইক চালানো, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং ট্রাফিক সংকেত অমান্য করার মতো ঘটনা শনাক্ত করা হয়। পরে রোবটটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সতর্ক করে।
রোবটটির যান্ত্রিক হাত ট্রাফিক সিগন্যালের সঙ্গে সমন্বয় করে সংকেত দিতে পারে। পাশাপাশি এটি পথচারীদের পথনির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি ট্রাফিক-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও দিতে পারে। এতে থাকা জরুরি বোতাম চাপলে সরাসরি স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে।
গত মে মাস থেকে হাংচৌ শহরে ১৫টি রোবট পরীক্ষামূলকভাবে কাজ করছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব রোবট মোতায়েনের পর হেলমেট ছাড়া যান চালানো এবং থামার দাগ অতিক্রমের মতো ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ৪০ শতাংশের বেশি কমেছে।
কাও হুই বলেন, রোবটগুলো সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারে। এতে মানব কর্মীদের মতো ক্লান্তির বিষয় নেই। বর্তমানে চীনের তিনটি প্রদেশের আটটি শহরে প্রায় ৫০টি এ ধরনের রোবট কাজ করছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এ সংখ্যা ২০০-তে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে প্রযুক্তিটির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। তীব্র সূর্যালোক ও বৃষ্টির কারণে রোবটের ক্যামেরার কার্যকারিতা মাঝে মাঝে ব্যাহত হয়।
বিদেশের বাজারেও এসব রোবটের সম্ভাবনা দেখছে চেরি-সমর্থিত রোবোটিক্স প্রতিষ্ঠান আইমোখা। তবে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা চাং গুইবিং বলেন, বিভিন্ন দেশের আইন প্রয়োগের পদ্ধতি, তথ্য সুরক্ষা আইন এবং স্থানীয় সার্টিফিকেশন ব্যবস্থার কারণে প্রযুক্তিটি রপ্তানির ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে।








