নরসিংদী সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাদিরা ইয়াসমিনকে লক্ষ করে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন মাধ্যমে আক্রমণ চালানো হচ্ছে। তাকে চাকরিচ্যুত করার দাবি জানিয়েছে তিনটি সংগঠন, তানযীমুল মাদারিসিল কাওমিয়া নরসিংদী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নরসিংদী জেলা, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ, নরসিংদী জেলা শাখা।
এই বিবৃতিগুলোতে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নাদিরা ইয়াসমিনকে অপসারণের আল্টিমেটাম দিয়ে ‘দুঃখজনক পরিস্থিতির দায়’ কলেজ কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে বলে হুমকি দেয়া হচ্ছে।
শুক্রবার (২৩ মে) নরসিংদী সরকারি কলেজের অধ্যাপক নাদিরা ইয়াসমিনের প্রতি হুমকির আইনগত প্রতিকার একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে যেখানে স্বাক্ষর করেছেন ১৪৭ জন সাংবাদিক, রাজনৈতিক কর্মী, আইনজীবীসহ বিভিন্ন অঙ্গনের ব্যক্তিবর্গ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ব্যক্তি ফেসবুকে নাদিরা ইয়াসমিনকে নিয়ে অপমানজনক, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পোস্ট দিচ্ছেন। নামে-বেনামে গালাগাল, মিথ্যা প্রচার এবং হুমকির মাধ্যমে তাঁকে মানসিক এবং সামাজিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। ব্যক্তিগত মেসেঞ্জারে তাঁকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হচ্ছে, যা একজন শিক্ষক ও নারী নাগরিকের জন্য শুধু অসম্মানজনকই নয়, সম্পূর্ণ বেআইনী।
নাদিরা ইয়াসমিন একজন শিক্ষিক, গবেষক ও সমাজ সচেতন নাগরিক, যিনি দীর্ঘদিন ধরে নারী অধিকার, সমতা ও মানবিক মর্যাদার পক্ষে কাজ করে আসছেন। তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা “নারী অঙ্গন” সংগঠনটি বহু নারী শিক্ষার্থীর আত্মপ্রত্যয় গঠনে ভূমিকা রেখেছে, যেখানে ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা বিবেচনায় রেখে কার্যক্রম পরিচালিত হয়। নারীর উন্নয়ন এবং বিকাশকে ‘ইসলামবিরোধী’ হিসেবে উপস্থাপন করা প্রকৃতপক্ষে একটি অপপ্রচার, যা মুক্তচিন্তা, একাডেমিক স্বাধীনতা এবং সংবিধান স্বীকৃত নাগরিক অধিকার বিরোধী।
ধর্মীয় সংগঠনের নামে এ ধরনের চাপ সৃষ্টি, হুমকি এবং সামাজিক ঘৃণার উসকানি আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাব্যবস্থার জন্য এক অশুভ দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।
একজন শিক্ষকের জীবন ও কাজের পরিবেশ ধ্বংস করার এ প্রচেষ্টা শুধু একটি ব্যক্তিকে নয়, পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। আমরা শিক্ষকের একাডেমিক স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রের নাগরিক হিসাবে ব্যক্তির স্বাধীন মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সংগঠন করার অধিকারের ওপর এই আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং সহকারী অধ্যাপক নাদিরা ইয়াসমিন ও তার সংগঠনের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছি।
বারবার নারীর প্রতি অপমান, অসম্মান, হয়রানিতে বর্তমান সরকারের নিরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা পরিস্থিতির ক্রম অবনতির কারণ হিসেবে আমরা চিহ্নিত করি। ধর্মের সহি একমাত্র ব্যাখ্যার নামে যখন কোম মহল এমন দমন ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে রাজনৈতিক এবং সামাজিক সুবিধা নিতে চায়,, তখন পরিস্থিতির এইরকম অবনতি ঠেকাতে রাষ্ট্রকে কঠোর ভূমিকা নিতেই হবে।
বিজ্ঞপিতে দাবি জানানো হয়েছে
১. অধ্যাপক নাদিরা ইয়াসমিনের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
২. যেসব ব্যক্তি ফেসবুক ও মেসেঞ্জারে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছে ও হুমকি দিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
৩. প্রশাসনকে মিথ্যা প্রচার ও অনলাইন হয়রানি বন্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।
৪. কলেজ কর্তৃপক্ষকে তার একাডেমিক স্বাধীনতা ও মানবাধিকার রক্ষায় যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে হবে।









